- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
তথ্য-১ | তথ্য-২ |
|---|---|
প্রায় ২০০ বছরের শাসন, বাংলার টাকা-পয়সা অন্য দেশে পাচার করা। | কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা, তৎকালীন কুসংস্কার দূরীকরণে সমাজ সংস্কারকদের অবদান। |
'ইকলিম' কী?
বাংলার তিনটি অংশে দিল্লির মুসলিম সুলতানদের তিনটি প্রদেশ বা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ফরাসি ভাষায় ইকলিম হিসেবে পরিচিত ছিল।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ওয়েস্টফালিয়ার চুক্তি করা হয়েছিল কেন?
ইউরোপের বিভিন্ন দেশ যেমন- স্পেন, ফ্রান্স, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, রাশিয়া, ইংল্যান্ড, পোল্যান্ডসহ অন্যান্য কতিপয় দেশ প্রায় ৩০ বছর (১৬১৮-১৬৪৮) ধরে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। এ যুদ্ধে প্রায় ৮০ লক্ষ সামরিক ও বেসামরিক লোক হতাহত হয়। এ যুদ্ধের পরিসমাপ্তি ঘটানোর জন্য ওয়েস্টফালিয়ার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল। ১৬৪৮ সালে এ শান্তি চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।
তথ্য-১ দ্বারা কোন শাসনব্যবস্থাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
তথ্য-১ দ্বারা ইংরেজ শাসনামলকে (১৭৫৭-১৯৪৭) ইঙ্গিত করা হয়েছে। ইংরেজ শাসনামল দুটি অংশে বিভক্ত। প্রথম অংশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনকাল (১৭৫৭-১৮৫৮) এবং দ্বিতীয় অংশ ব্রিটিশ শাসনকাল (১৮৫৮-১৯৪৭)। প্রায় ২০০ বছরের এ শাসনকালকে ঔপনিবেশিক যুগ বলা হয়ে থাকে। এ সময়কালে বাংলা থেকে প্রচুর সম্পদ ইংল্যান্ডে পাচার হয়ে যায়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ক্ষমতা দখল করে নেয়। এরপর প্রায় ১০০ বছর ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি শাসনের নামে বাংলায় শোষণ চালাতে থাকে। ১৮৫৭ সালে ইংরেজ অধ্যুষিত ভারতের বিভিন্ন ব্যারাকে সিপাহিরা বিদ্রোহ করে। এটি ছিল ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম। এ সংগ্রামে সিপাহিরা পরাজিত হয়। ১৮৫৮ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ভারত শাসন আইন পাসের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসন ক্ষমতা নিজ হাতে তুলে নেয়। তখন গোটা ভারত ছিল ব্রিটেনের উপনিবেশ অর্থাৎ-শোষণের ক্ষেত্র। প্রায় ১০০ বছর শেষে ১৯৪৭ সালে ভারত উপমহাদেশের মানুষ ব্রিটিশদের অধীনতা থেকে মুক্তি পায়।
অতএব বলা যায়, উদ্দীপকে তথ্য-১ দ্বারা ইংরেজ শাসনব্যবস্থাকে 'ইঙ্গিত করা হয়েছে।
তুমি কি মনে কর তথ্য-২ বাংলার মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ের উন্মেষ ঘটায়? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি উদ্দীপকের তথ্য-২ বাংলার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ের উন্মেষ ঘটায়।
ব্রিটিশরা ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার পর তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার দিকে গুরুত্ব দেয়। এজন্য তারা নিজেদের অনুগত এদেশীয় শ্রেণি তৈরির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। ১৮৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৮২১ সালে শ্রীরামপুরে প্রতিষ্ঠিত মুদ্রণযন্ত্র এক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। উচ্চশিক্ষা লাভের ফলে আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় জনগণের মধ্যেও নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটে। মুদ্রণযন্ত্রে পাঠ্যপুস্তক ছেপে জ্ঞানচর্চার যে সুযোগ লাভ করে, তা এদেশের মানুষের মধ্যে চেতনার জাগরণ সৃষ্টির পথ সুগম করে। এ সময় সংবেদনশীল মানুষের নজর যায় সমাজের দিকে। তারা সমাজের অনাচার নিয়ে যেমন আত্মসমালোচনা করেন, তেমনি শাসকদের অবিচারের বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেন। বাংলার মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে এবং অধিকার আদায়ের উন্মেষ ঘটে। রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমুখ ব্যক্তিগণ সমাজ সংস্কারে এগিয়ে আসেন। তারা তৎকালীন সমাজে বিদ্যমান কুসংস্কারে অবদান রাখেন।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের তথ্য-২ এ উল্লিখিত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মুদ্রণযন্ত্র প্রতিষ্ঠা, তৎকালীন কুসংস্কার দূরীকরণে সমাজ সংস্কারকদের অবদান ইত্যাদি বিষয় বাংলার স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও অধিকার আদায়ের উন্মেষ ঘটায়।

