- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
দৃশ্যকল্প-১: 'ক' দেশটি শিল্পোন্নত। দেশটির একটি ব্যবসায়ী দল উৎপাদিত শিল্পপণ্যের বিক্রি এবং উপকরণ সংগ্রহ করতে 'খ' দেশে যায়। এক পর্যায়ে 'খ' দেশের সরকারের। লোকজনের সহায়তায় শাসন ক্ষমতা দখল করে।
দৃশ্যকল্প-২: 'খ' রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যবসায়ী দল অর্থ আদায়ের দায়িত্ব নেয় আর দখল সহযোগীদের দেয় শাসন পরিচালনার সুযোগ। এতে কষ্টে পড়ে যায় সাধারণ জনগণ।
"দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত বিষয়টি বাংলার মানুষের জন্য ছিল এক চরম অভিশাপ"- বিশ্লেষণ কর।
দৃশ্যকল্প-২-এ বর্ণিত বিষয়টি হলো দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা, যা বাংলার মানুষের জন্য ছিল চরম অভিশাপম্বরূপ।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। তিনি দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের নিকট হতে দেওয়ানি লাভের পর বাংলার নবাবকে পুতুল নবাবে পরিণত করে এবং দ্বৈতশাসন প্রবর্তন করেন। দ্বৈতশাসন ছিল একটি অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা। এই শাসনব্যবস্থায় ক্লাইড বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভ করল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এ ব্যবস্থা এদেশের মানুষের জন্য অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে তা আদায়ে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত করের চাপে যখন জনগণ ও কৃষকের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা, সে সময় দেশে পরপর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৭৭০ সালে বাংলায় নেমে আসে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া। দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ লোক অনাহারে মারা গেলেও কোম্পানি করের বোঝা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু হয়েছিল, যা ছিল দ্বৈতশাসনের প্রত্যক্ষ ফল।
তাই বলা হয়, দ্বৈতশাসন ছিল বাংলার মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
মাৎস্যন্যায় কী?
রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর একশ বছর ধরে বাংলায় অরাজকতা চলতে থাকে, এ অরাজকতাপূর্ণ সময়কে বলা হয় মাৎস্যন্যায়।
মুদ্রণযন্ত্র কীভাবে নবজাগরণে ভূমিকা রাখে?
১৮২১ সালে শ্রীরামপুরে প্রতিষ্ঠিত মুদ্রণযন্ত্র বাংলার মানুষকে মননশীল ও সচেতন করার ক্ষেত্রে অবদান রাখে। এর ফলে বইপুস্তক ছেপে জ্ঞানচর্চাকে শিক্ষিত সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও স্থায়িত্ব দেওয়ার পথ সুগম হয়। সংবেদনশীল মানুষ সমাজের অনাচারের বিরুদ্ধে কঠোর মত প্রকাশ করতে থাকে। এভাবে মুদ্রণযন্ত্রের বদৌলতে শিক্ষা বিস্তারের ফলে বাংলায় নবজাগরণ ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়কে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে বর্ণিত 'ক' দেশের ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির আগমন ও শাসনক্ষমতা দখলের বিষয়টি ইঙ্গিত করে।
ইউরোপের শিল্পোন্নত দেশগুলোতে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের হাত ধরে অর্থনীতি বিকাশের ফলে কাঁচামাল ও উৎপাদনসামগ্রীর জন্য বাজারের সন্ধানের গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। ফলে তাদের লক্ষ্যস্থল হয় 'খ' দেশ তথা বাংলা সিল্ক ও মিহি কাপড় এবং মসলা বাণিজ্যের কেন্দ্র হওয়ায় বিদেশি বণিকরা এদেশে স্থানীয় শ্রমিকদের খাটিয়ে বড় বড় শিল্পকারখানা স্থাপন করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করতে থাকে। এই বণিকদের অন্যতম একদল ছিল 'ক' দেশ তথা ব্রিটিশ বা ইংরেজ বশিক দল। ক্রমে ব্যবসার ক্ষেত্রে ইংরেজদের ভূমিকা প্রাধান্য পেতে থাকে। তারা রাষ্ট্রীয় শাসন ক্ষমতা দখল করতে তৎপর হয়। নবাব আলীবর্দি খাঁর মৃত্যু-পরবর্তী নবাব সিরাজউদ্দৌলার কম বয়স ও অনভিজ্ঞতার সুযোগটি কাজে লাগাতে ষড়যন্ত্রে তৎপর হয় ইংরেজ কোম্পানির বণিক গোষ্ঠী। ফলে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতির বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। স্থানীয় মাড়ওয়াড়ি ক্ষমতাবান বণিকও রাজদরবারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় বাংলার শাসন ক্ষমতা কোম্পানির হাতে চলে যায়। এভাবেই ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসকে পরিণত হয়।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকের 'ক' দেশের ব্যবসায়ীদের কার্যক্রম বাংলায় ইংরেজ কোম্পানির আগমন ও শাসনক্ষমতা দখলের বিষয়টি ইঙ্গিত করে।

