- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রাকিব একটি পুরোনো চলচ্চিত্র দেখছিল। চলচ্চিত্রটিতে মূল চরিত্রে যিনি রয়েছেন তার সেনাপতি ও কিছুসংখ্যক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গের কূটবুদ্ধি ও অন্য দেশি বাণিজ্য গোষ্ঠীর সহায়তার কারণে। যুদ্ধের ময়দানে তার পরাজয় ঘটে এবং তার ভাগ্যে বিপর্যয় নেমে আসে। যার ফলে বিদেশি বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ক্ষমতার মসনদে দীর্ঘদিন ধরে আরোহণ করে থাকে।
এদেশের মানুষের জন্য কোন শাসন ছিল চরম অভিশাপম্বরূপ? ব্যাখ্যা কর।
দ্বৈতশাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপম্বরূপ। এ ব্যবস্থায় রাজস্ব আদায়, সামরিক ব্যবস্থা এবং প্রশাসন পরিচালনার ক্ষমতা চলে যায় ইংরেজদের হাতে। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করে, তা আদায়ের জন্য প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত করের বোঝায় যখন জনগণ ও কৃষর্কের নাভিশ্বাস ওঠে, তখনও করের বোঝা কমানোর কোনো পরিকল্পনা নেয়নি কোম্পানি শাসক ক্লাইন্ড। যার ফলে ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। তাই এ দ্বৈতশাসন ব্যবস্থাকে অভিশাপম্বরূপ বলা যায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ইকলিম কী?
বাংলার তিনটি অংশে দিল্লির মুসলিম সুলতানদের তিনটি প্রদেশ বা বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ফরাসি ভাষায় ইকলিম হিসেবে পরিচিত ছিল।
রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রটির সাথে তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন ঐতিহাসিক ঘটনার মিল আছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রটির সাথে বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে।
বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব আলিবর্দী খাঁর মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় নাতি সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসলে ক্ষমতার অন্য উত্তরাধিকাররা মনোক্ষুণ্ণ হয়। সিরাজউদ্দৌলার বয়স কম ও অভিজ্ঞতায় নবীন হওয়ার ফলে রাজদরবারে তাঁর বিরুদ্ধে ষড় মধুবন। তাঁর সেনাপতি মীর জাফর, খালা ঘসেটি বেগম, মীর কাসিমসহ রাজদরবারের প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ এবং উমিচাঁদ, জগৎশেঠ ও রাজবল্লভদের মতো তৎকালীন ধনী অভিজাতদের একটি অংশ ষড়যন্ত্র করে। ফলে ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতার মধ্যে দিয়ে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। নবাবের নির্মম মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে বাংলার মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। 'দি ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করে। উদ্দীপকে রাকিবের দেখা চলচ্চিত্রটিতে পলাশীর যুদ্ধে বাংলার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলার ঔপনিবেশিক শাসন প্রতিষ্ঠার ঘটনার সাথে মিল রয়েছে।
উদ্দীপকের অন্য দেশের বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বলতে যাদের বোঝানো হয়েছে তাদের শাসনের প্রভাব বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে অন্য দেশের বাণিজ্যিক গোষ্ঠী বলতে 'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া' কোম্পানিকে বোঝানো হয়েছে। যাদের শাসন বাংলায় ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল।
মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন পলাশীর যুদ্ধে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয় ঘটে। তার হত্যার মধ্য দিয়ে মূল ক্ষমতা চলে যায় ধূর্ত ও দুর্ধর্ষ ইংরেজ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভের হাতে। ১৭৬৫ সালে ক্লাইভ বাংলার দেওয়ানি লাভ করে। ফলে বাংলায় ইংরেজ কোম্পানি শাসন শুরু হয়। বাংলার মানুষ পরাধীন হয়ে পড়ে। রবার্ট ক্লাইভ দ্বৈত শাসনব্যবস্থার মতো অভিশপ্ত পদ্ধতি চালু করে। এই অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থায় ক্লাইভবাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভকরল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। এটা ছিল শাসন ব্যবস্থায় ইংরেজ কোম্পানি শাসনের ক্ষমতা দখলের প্রভাব। আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব ছিল ভয়াবহ। দ্বৈতশাসনের ফলে অতিরিক্ত করের চাপ ও কর্মচারীদের অর্থের লালসা বাংলায় দুর্ভিক্ষ নেমে আসে। ছিয়াত্তরের মন্ত্রর নামে পরিচিত এ দুর্ভিক্ষে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু ঘটে। তবে ইংরেজ কোম্পানি শাসনক্ষমতায় আসায় কিছু ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছিল। শিক্ষার ক্ষেত্রে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চা, সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- রেল, ডাক ও তার ইত্যাদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ করা যায়, যা পরবর্তীতে নবজাগরণের সূত্রপাত ঘটেছিল।
তাই বলা যায়, ইংরেজ কোম্পানি শাসনের প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী।

