- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আলীপুর এলাকাবাসী আধুনিক শিক্ষার সুযোগের অভাবে সবদিক দিয়ে পিছিয়ে ছিল। এ পরিস্থিতিতে ঐ এলাকার একজন প্রভাবশালী ও সম্পদশালী ব্যক্তির প্রচেষ্টায় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার আলো প্রজ্বলিত হয় এবং তারা সমাজ সচেতন হয়ে ওঠে। আলীপুরের শিক্ষিত উন্নয়নকর্মী শায়লা নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে এলাকাবাসীকে সচেতন করে তোলেন।
ঔপনিবেশিক শাসন কাকে বলে?
একটি দেশ যখন নিজ আধিপত্য বলে অন্য কোনো দেশে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করে তখন সেই শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
দ্বৈতশাসন বলতে কী বোঝায়?
১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইড দিল্লির সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন। দেওয়ানি লাভের পর তিনি শাসনব্যবস্থায় এক অভিনব পন্থা প্রবর্তন করেন। এ ব্যবস্থায় ক্লাইচ বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পেলেন ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভকরল দায়িত্বহীন ক্ষমতা। শাসনব্যবস্থায় এ দ্বৈত নীতির কারণে এ শাসনব্যবস্থাকে দ্বৈতশাসন বলা হয়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ঔপনিবেশিক যুগের কোন ঘটনার সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনার সাথে ঔপনিবেশিক যুগের নবজাগরণের সাদৃশ্য রয়েছে।
ইংরেজরা তাদের শাসন পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে দেশীয়দের মধ্য থেকে ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগত শ্রেণি তৈরিতে মনোযোগ দেয়। মূলত তখন থেকেই বাংলায় নবজাগরণ শুরু হয়। উদ্দীপকে আলীপুরের ঘটনার সাথে ঔপনিবেশিক আমলে বাংলায় যে নবজাগরণ ঘটেছিল তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইংরেজদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত কলকাতা মাদ্রাসা, সংস্কৃত কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। বহুকালের প্রচলিত বিশ্বাস, নানা সংস্কার, বিধান সম্পর্কে তাদের মনে সংশয় ও প্রশ্ন জাগতে থাকে। হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথার বিরুদ্ধে রীতিমতো আন্দোলন শুরু হয় এবং বিধবা বিবাহের পক্ষে মত তৈরি হয়। এসময় এদেশে জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে এক প্রকার জোয়ার সৃষ্টি হয়। রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারে হাত দেন। সর্বোপরি বাংলায় নবজাগরণের সূচনা হয়।
"শায়লার মতো ব্যক্তিদের উদ্যোগের ফলই ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম করে"- উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
"শায়লার মতো ব্যক্তিদের উদ্যোগের ফলই ভারতের স্বাধীনতার পথ সুগম করে।"- প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সমর্থনযোগ্য।
উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ শাসকদের বেড়াজাল ছিন্ন করে নবজাগরণের উন্মেষ ঘটাতে কিছু সংবেদনশীল মানুষ এগিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, বঙ্কিমচন্দ্র, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কাজী নজরুল ইসলাম প্রমুখ। বাঙালির এ নবজাগরণ কলকাতা মহানগরীতে ঘটলেও এর পরোক্ষ প্রভাব সারা বাংলাতেই পড়ে। এসময় গুণীজনরা সমাজের অনাচার নিয়ে আত্মসমালোচনার পাশাপাশি শাসকদের অবিচারের বিরুদ্ধেও কঠোর ভাষায় সমালোচনামুখর হন। মূলত তাদের নির্দেশিত পথেই ভারতের স্বাধীনতা অর্জিত হয়। উদ্দীপকে উন্নয়নকর্মী হিসেবে শায়লা এলাকাবাসীকে নারী শিক্ষা ও মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, উনবিংশ শতাব্দীতে কয়েকজন সমাজ সচেতন বস্তির প্রচেষ্টায় বাংলায় নবজাগরণ ঘটে। শায়লাও তাদের দেখানো পথে সমাজ সংস্কারমূলক কাজ করতে উদ্যোগী হন। জাতীয়তাবাদী চেতনার মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন ও ধারাবাহিক 'আন্দোলনের ফলস্বরূপ ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অবসান ঘটে এবং ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষ স্বাধীন হয়। সৃষ্টি হয় ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্র। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটি সঠিক হয়েছে বলা যায়।

