- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
শিক্ষার্থীরা তোমরা কী লক্ষ করেছ, শিক্ষাদীক্ষায়। চিন্তাচেতনায় আমরা আজ কতদূর এগিয়েছি? এটা সম্ভব হয়েছে ১৯৪৭-এর পূর্বে এদেশ শাসনকারী একটি বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণির স্বার্থ হাসিলের জন্য গৃহীত বিভিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে। এদের গৃহীত পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে একদিকে যেমন জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে, অপরদিকে তারা আধুনিক চিন্তা-চেতনায় জাগরিত হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর কী? ব্যাখ্যা কর।
১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালে বাংলায় যে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল তা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত। ইংরেজদের দ্বৈতশাসন ব্যবস্থায় তারা রাজস্ব আদায়ের জন্য অতিরিক্ত কর আরোপ করে তা আদায়ে জনগণের ওপর প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। ইংরেজদের লালসার শিকারে পরিণত হয়ে জনগণ ও কৃষকের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা তৈরি হয়। ঠিক এমন সময়ই পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ দুটি কারণে বাংলায় নেমে আসে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
১৬০০ সালে ইংল্যান্ডে কোন কোম্পানি স্থাপিত হয়?
১৬০০ সালে ইংল্যান্ডে 'ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' স্থাপিত হয়।
বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণি কর্তৃক গৃহীত প্রধান প্রধান পদক্ষেপগুলো ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণি হলো ইংরেজরা।
ইংরেজরা ব্যবসার উদ্দেশ্য নিয়ে প্রথমে ভারতবর্ষে আগমন করে। পরবর্তীতে বাণিজ্যের প্রসারের সাথে সাথে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও তারা প্রতিষ্ঠিত হতে থাকে। ভারতবর্ষে ইংরেজ শাসনকে স্থায়ীরূপ দেওয়ার জন্য তারা বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড গ্রহণ করে। যেমন- যোগাযোগ রেল, ডাক ও তার ইত্যাদি। ইংরেজ শাসকদের গৃহীত প্রধান প্রধান কাজগুলো হলো- ১. ১৭৮৬ সালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে গৃহীত ভারত শাসন আইনে বাংলার ব্রিটিশ গভর্নর জেনারেলের হাতে - ভূমি রাজস্ব ব্যবস্থা অর্পণ করা হয়; ২. ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু: ৩. রাষ্ট্র ও প্রশাসন পরিচালনায় ইংরেজ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার ব্যবস্থা করা হয়; ৪. মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান স্থানান্তর করে এটিকে গুরুত্বপূর্ণ নগরীতে রূপান্তর করা হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতাই হয় বাংলার রাজধানী। তবে এই সময়ে ইংরেজ গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিংক ও লর্ড হার্ডিঞ্জ এদেশে শিক্ষা বিস্তারসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান চর্চার সূচনা করেন। এভাবে দেশে একটি নতুন শিক্ষিত শ্রেণি ও সচেতন নাগরিক সমাজ গড়ে উঠে। তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনার বিকাশ ঘটে।
উদ্দীপকের প্রদত্ত কর্মকান্ডের মধ্যে বিশ্বের সুবিধাভোগী শ্রেণি তথা ইংরেজদের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে।
'গৃহীত পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে এদেশের মানুষ আধুনিক চিন্তা-চেতনায় জাগরিত হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়'- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
ইংরেজদের গৃহীত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও প্রধান প্রধান পদক্ষেপগুলোর মাধ্যমে এদেশের মানুষ আধুনিক চিন্তাচেতনায় জাগরিত হয়ে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয় প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটি যথার্থ।
ইংরেজরা যদিও ভারতে তাদের শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল তথাপি শিক্ষা থেকে শুরু করে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের দ্বার উন্মোচন করার ফলে এদেশের কিছু নাগরিক শিক্ষিত ও সচেতন হয়ে ওঠে। তাদের গৃহীত সকল কাজের বাস্তবায়নের জন্য ইংরেজি শিক্ষায় শিক্ষিত একটি অনুগতশ্রেণি তৈরি হতে থাকে। এজন্য তারা বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে থাকে। ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে * এসে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। - এদেশে প্রবল আকারে জ্ঞান চর্চা শুরুর মাধ্যমে বহুদিনের কুসংস্কার তারা ছুঁড়ে ফেলতে থাকে। মুদ্রণযন্ত্রের স্থাপনের মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের মনকে মুক্ত করা ও জাগিয়ে তোলার ক্ষেত্রে আরেকটি পথ খুলে দেয়। বইপুস্তক ছেপে জ্ঞানচর্চাকে শিক্ষিত সাধারণের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া ও স্থায়িত্ব দেওয়ার পথ সুগম হয়। সমাজের অনাচার ও শাসক শ্রেণির অবিচারের বিরুদ্ধে তারা কঠোর ভাষায় সমালোচনা শুরু করে। বাঙালির এ নবজাগরণ সমগ্র দেশেই ছড়িয়ে যায়। পরবর্তীতে এসব শিক্ষিত শ্রেণির হাত ধরে ইংরেজদের বিরুদ্ধে সমগ্র ভারতবর্ষ জুড়ে বিদ্রোহ শুরু হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ইংরেজদের গৃহীত পদক্ষেপগুলো ভারতের জনসাধারণকে আধুনিক চিন্তা-চেতনায় জাগরিত করে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে।

