• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

শিক্ষিত ব্যক্তি জনাব 'ক' তার এলাকার খ্রিষ্টপূর্ব যুগ থেকে। গত শতাব্দী পর্যন্ত নানা বংশ ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতা দখলের ইতিহাস। বলেন। শেষে ইউরোপীয় একটি কোম্পানির ক্ষমতা দখলের কথা বলেন। ঐ সময় এক দুর্ভিক্ষে এক-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়। সর্বশেষে বলেন, তার এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বোধেরও উন্মেষ ঘটে এবং সেটা সফল হয়।

জনাব 'ক' বর্ণিত গল্পের দুর্ভিক্ষকালীন সরকারব্যবস্থা ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর বর্ণিত গল্পের দুর্ভিক্ষটি ১৭৭০ (বাংলা ১১৭৬) সালের 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'কে নির্দেশ করে।

এসময় বাংলায় ইংরেজদের প্রবর্তিত দ্বৈত শাসনব্যবস্থা কার্যকর ছিল। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলায় ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়। ধূর্ত লর্ড ক্লাইভ দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। দ্বৈত শাসন ছিল একটি অদ্ভুত শাসনব্যবস্থা। এ শাসনব্যবস্থায় লর্ড ক্লাইভ বাংলার তৎকালীন নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এর ফলে নবাব পান ক্ষমতাহীন দায়িত্ব আর কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা। দ্বৈত শাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং তা আদায়ে প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত করের চাপ এবং পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির কারণে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বাংলায় নেমে আসে ভয়ংঙ্কর দুর্ভিক্ষ। এতে মারা যায় বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। ইতিহাসে এ দুর্ভিক্ষের নাম 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর'।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন কে?

ভারতে প্রথম ভাইসরয় নিযুক্ত হন লর্ড ক্যানিং।

#

বাংলা ও ভারতে প্রতিষ্ঠিত শাসনকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয় কেন?

ঔপনিবেশিক শাসনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে দখলদার শক্তি চিরস্থায়ীভাবে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আসে না। এক্ষেত্রে যতদিন শাসক হিসেবে থাকবে ততদিন সে সেই দেশের ধন-সম্পদ নিজ দেশে পাচার করবে। এক সময় তাদের শাসনের বিরুদ্ধে স্থানীয় মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে বা শাসন করা সুবিধাজনক মনে না হলে 'তারা নিজ দেশে চলে যায়। এভাবে অন্য কোনো দেশের ওপর জুড়ে বসাকে দখলদারদের উপনিবেশ শাসন বলে। প্রথমে বাংলা এবং পরে ভারত উপমহাদেশে ইংরেজরা যে শাসন প্রতিষ্ঠা করে তার বৈশিষ্ট্য উপরের সংজ্ঞার সাথে মিলে যায়। এ কারণে বাংলা ও ভারতে ইংরেজ প্রতিষ্ঠিত শাসনকেই ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয়।

#

জনাব 'ক'-এর সর্বশেষ বক্তব্যের সাথে কি তুমি একমত? যুক্তিসহ মতামত দাও।

হ্যাঁ, উদ্দীপকে জনাব 'ক'-এর সর্বশেষ বক্তব্যের সাথে আমি একমত।

জনাব 'ক'-এর সর্বশেষ বক্তব্যটি হলো, "তার এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক অধিকারবোধেরও উন্মেষ ঘটে এবং সেটি সফল হয়।" ইংরেজরা তাদের শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে বেশকিছু উদ্যোগ গ্রহণ করে। তাদের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি, কলকাতায় প্রশাসনিক বিভিন্ন দপ্তর, শিক্ষা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি। এতে করে কলকাতা বাংলার রাজধানী হয়ে ওঠে। এ সময় ইংরেজ গভর্নর লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক ও লর্ড হার্ডিঞ্জ এদেশে শিক্ষা বিস্তারসহ আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানচর্চার সূচনা করেন। নানা উদ্যোগের মাধ্যমে এদেশে একটি নতুন শিক্ষিত শ্রেণি ও নাগরিক সমাজ গড়ে ওঠে। হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সবাই আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত হতে শুরু করে। এতে ইংরেজদের উদ্দেশ্য সাধনের পাশাপাশি আধুনিক শিক্ষার সংস্পর্শে এসে স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন চেতনার স্ফুরণ ঘটতে থাকে। এর ফলে অনেক সমাজ সংস্কারক ও রাজনীতিবিদের জন্ম হয়। আস্তে আস্তে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম শুরু হয় যা পরবর্তীতে সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। সর্বশেষ ১৯৪৭সালে ব্রিটিশরা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে চলে যায়।

উপরিউক্ত যুক্তিসমূহ থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায়, উদ্দীপকের জনাব 'ক'-এর বক্তব্য যথার্থ।