- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জমিদার হাশেম আলীর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী সন্তানদ্বয়ের উপর দায়িত্ব বণ্টন করে দেন। তিনি তার নিজপুত্র খালেদের উপর রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব এবং সৎপুত্র সামাদের উপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব ন্যস্ত করেন।
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে কত সালে?
বাংলায় স্বাধীন সুলতানি শাসনের অবসান ঘটে ১৫৩৮ সালে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ঔপনিবেশিক শাসন বলতে কী বোঝায়?
সাধারণত এক দেশের মানুষ অন্য দেশের ওপর শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করলে তাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলা হয়। ঔপনিবেশিক শাসনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে- দখলদার শক্তি চিরস্থায়ীভাবে শাসন প্রতিষ্ঠা করতে আসে না। অর্থাৎ ঔপনিবেশিক শাসকগণ কতিপয় স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অন্য দেশের ওপর শাসন কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে এবং সুবিধামতো সময়ে তারা আবার নিজ দেশের ফিরে যায়। এভাবে অন্য কোনো দেশের ওপর কর্তত্ব প্রতিষ্ঠাকে ঔপনিবেশিক শাসন বলে।
উদ্দীপকের ঘটনাটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের ঘটনাটি রবার্ট ক্লাইভ প্রবর্তিত ঐতিহাসিক 'দ্বৈত শাসন' ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
১৭৬৫ সালে ক্লাইভ দিল্লির সম্রাট শাহ আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলা, বিহার ও উড়িষ্যার দেওয়ানি লাভ করেন। এরপর তিনি বাংলার নবাবকে বৃত্তিভোগীতে পরিণত করে এই দ্বৈত শাসন চালু করেন। উদ্দীপকে হাশেম আলী জমিদার যেমন তার নিজ পুত্র ও সৎ পুত্রকে দায়িত্ব ভাগ করে দেন যথাক্রমে রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষা এবং শাসন ও বিচার বিভাগ। তদুপ ক্লাইভ তার দ্বৈত শাসন নামক অদ্ভুত শাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে বাংলার নবাবের ওপর শাসন ও বিচার বিভাগের দায়িত্ব অর্পণ করেন এবং রাজস্ব আদায় ও প্রতিরক্ষার দায়িত্ব ন্যস্ত করেন কোম্পানির ওপর। এ ঐতিহাসিক ঘটনাটি এবং উদ্দীপকে উল্লিখিত ঘটনাটি যেন মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।
"উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনার ফল ছিল সুদূরপ্রসারী"- বক্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উক্ত ঐতিহাসিক ঘটনা তথা দ্বৈত শাসনের ফল ছিল সুদূরপ্রসারী। ঐতিহাসিক দৃষ্টিকোণ বিচারে বক্তব্যটি সঠিক।
দ্বৈত শাসন ছিল এদেশের মানুষের জন্য এক চরম অভিশাপ। রাজস্ব আদায়ের দায়িত্ব পেয়ে ইংরেজরা প্রজাদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করে এবং তা আদায়ের প্রচন্ড চাপ সৃষ্টি করে। কোম্পানি এবং কর্মচারিদের অর্থের লালসা দিন দিন বাড়তে থাকে। অতিরিক্ত করের চাপে গগন জনগণ ও কৃষকদের নাভিশ্বাস উঠার অবস্থা সে সময় দেশে পর পর তিন বছর অনাবৃষ্টির ফলে খরায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ১৭৭০ সালে বাংলায় নেমে আসে দুর্ভিক্ষের করাল ছায়া। দুর্ভিক্ষে লক্ষ লক্ষ লোক খাদ্যের অভাবে মারা গেলেও কোম্পানি করের বোঝা কমানোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ দুর্ভিক্ষে বাংলার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লোকের মৃত্যু ঘটে। ইতিহাসে এটি ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
অতএব বলা যায়, প্রগোস্ত বস্তুব্যটি যথার্থ ও সঠিক।

