- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- ঔপনিবেশিক যুগ ও বাংলার স্বাধীনতা সংগ্রাম
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
আসলাম পারভেজ ঢাকার আজিমপুর মুসলিম এতিমখানায় যান এতিমদের মাঝে পোশাক বিতরণ করতে। সেখানে তিনি দেখতে পান একটি সুসজ্জিত বাগান। এতিমখানা কর্তৃপক্ষের নিকট থেকে জানতে পারেন যে, এ বাগানে বসেই ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাবের খসড়া তৈরি হয়েছিল যা পাকিস্তান প্রস্তাব হিসেবে সমালোচিত হলেও বর্তমান স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় এ প্রস্তাবেরই ফসল।
লাহোর প্রস্তাবের মূলকথা নিজের ভাষায় বুঝিয়ে লেখ।
আঞ্চলিক স্বাধিকার, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও সার্বভৌমত্ব অর্জনই ছিল লাহোর প্রস্তাবের মূল বক্তব্য। সংবিধানে এসব রাষ্ট্রসমূহে বসবাসরত সংখ্যালঘুদের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অধিকার এবং স্বার্থরক্ষার বিধান রাখার পক্ষেও মত প্রকাশ করা হয়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
লাহোর প্রস্তাব কবে উত্থাপিত হয়?
১৯৪০ সালে ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপিত হয়।
এতিমখানার বাগানে বসে রচিত লাহোর প্রস্তাব যেভাবে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল তা ব্যাখ্যা কর।
এতিমখানার বাগানে বসে রচিত লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল ভারত উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাসমূহে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।
এখানে ভারতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাসমূহে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে যা ছিল প্রকারান্তরে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব। যদিও এ প্রস্তাব শেষপর্যন্ত বহাল থাকেনি। মুসলিম লীগের দলীয় আইনসভার সদস্যদের এক কনভেনশনে লাহোর প্রয়াস সংশোধন করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একটি মাত্র স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনের কথা বলা হয়। তা সত্ত্বেও লাহোর প্রস্তাবের প্রেরণা পূর্ব বাংলার মানুষকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ করে। এ ধারণা থেকেই তারা আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্নে বিভোর থাকে। পাকিস্তানি শাসনামলের শুরু থেকেই বাঙালিরা স্বাধিকারের দাবি জানায়। শেষপর্যন্ত এ চেতনার ধারাবাহিকতা থেকেই ১৯৭১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আর এভাবেই এতিমখানার বাপানে বসে রচিত লাহোর প্রস্তাব স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেছিল।
"লাহোর প্রস্তাব প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান প্রস্তাব ছিল না"-উদ্দীপকের আলোকে উক্তিটির যথার্থতা যাচাই কর।
'লাহোর প্রস্তাব প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান প্রস্তাব ছিল না'- উক্তিটি বধার্থ।
এতিমখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী এতিমখানার সুসজ্জিত বাগানে বসে যে লাহোর প্রস্তাবের খসড়া রচিত হয়েছিল তা মূলত ভবিষ্যৎ স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের কথা চিন্তা করেই তৈরি হয়েছিল। 'তর তখন বাংলাদেশ তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের অন্তর্গত থাকার এ লাহোর প্রস্তাব জিন্নাহ কর্তৃক 'পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভকরে এবং কংগ্রেস এর তীব্র সমালোচনা করে। লাহোর প্রস্তাবের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, লাহোর প্রস্তাবের উত্থাপক ছিলেন তৎকালীন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এ. কে. ফজলুল হক এবং তিনি জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বে বিশ্বাসী ছিলেন না। এমনকি তার উত্থাপিত লাহোর প্রস্তাবের কোথাও. দ্বিজাতি তত্ত্বের উল্লেখ নেই। এ প্রস্তাবের কোথাও পাকিস্তান শব্দটিও নেই। যদিও খুব দ্রুত এ প্রস্তাব 'পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। ফজলুল হক বাঙালি মুসলমানদের রাজনৈতিক মুক্তি অর্জনের জন্য লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীকালে লক্ষ করা যায়, বাঙালি মুসলমানদের রাষ্ট্রচিন্তার সাথে জিন্নাহর 'দ্বিজাতি তত্ত্ব' ও রাজনৈতিক চিন্তার কোনো মিল নেই। ১৯৪০ সালের ২৫শে ডিসেম্বর জিন্নাহ সর্বপ্রথম লাহোর প্রস্তাবকে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' বলে উল্লেখ করেন এবং সে সময় হতে এটি পাকিস্তান প্রস্তাব বলে বিবেচিত হয়। যদিও বাস্তবে লাহোর প্রস্তাব পাকিস্তান প্রস্তাব ছিল না। এখানে বলা হয়েছে একাধিক মুসলিম রাষ্ট্রের কথা। যা ছিল মূলত স্বাধীন বাংলা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব।
তাই বলা যায়, 'লাহোর প্রস্তাব প্রকৃতপক্ষে পাকিস্তান প্রস্তাব ছিল না'-উক্তিটি যথার্থ এবং যুক্তিযুক্ত।

