- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
চিত্র-১: ২য় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যার দৃশ্য
চিত্র-২: মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যৌথবাহিনীর অভিযানের দৃশ্য
চিত্র-১ বাংলাদেশের ইতিহাসের কোন ঘটনার প্রতিচ্ছবি?
উদ্দীপকে উল্লিখিত চিত্র-১ এর সাথে বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গণহত্যা বা অপারেশন সার্চলাইট ঘটনার মিল রয়েছে।
১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে নারকীয় হত্যাকান্ড চালায় তাকে গণহত্যা বলা হয়। এ গণহত্যার অভিযানকে তারা নাম দিয়েছিল 'অপারেশন সার্চলাইট'। এদিন পাকিস্তানি সৈন্যরা রাত ১১.৩০ টায় ঢাকা সেনানিবাস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। এ সময় তাদের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় ঢাকার ফার্মগেইট এলাকায় রাস্তায় মিছিলরত মুক্তিকামী বাঙালি। একই সাথে আক্রমণ চালানো হয় পিলখানা ও। রাজারবাগ পুলিশ লাইনে। বাঙালি সৈন্যরা পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিহত করার চেষ্টা করে। কিন্তু মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তানি সৈন্যদের পরিকল্পিত আক্রমণ ঠেকানো সম্ভব হয় না। ফলে পাকিস্তানি সেনারা অনেক বাঙালি সৈন্যকে হত্যা করে। এ গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ ৩০০ ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন। শুধু ২৫শে মার্চ রাতেই ঢাকায় ৭ থেকে ৮ হাজার, নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। এছাড়া ঢাকার বাইরে সারা দেশে সেনানিবাস, ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের গণহত্যার সাথে ২৫শে মার্চের ভয়াবহ গণহত্যারই সাদৃশ্য পাওয়া যায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
চিত্র-২ এ উল্লিখিত বাহিনীর কার্যক্রমই কি এদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করেছিল? বিশ্লেষণ কর।
হ্যাঁ, উদ্দীপকে চিত্র-২-এ উল্লিখিত বাহিনী অর্থাৎ যৌথবাহিনীর কার্যক্রমই এদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৭১ সালের ২১শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও ভারত সরকার একটি যৌথবাহিনী গঠন করে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে যৌথবাহিনী গঠিত হয়। যুদ্ধকালীন মুক্তিবাহিনীর সহায়তাকারী ভারতীয় বাহিনীকে মিত্রবাহিনী বলা হতো। যৌথবাহিনী গঠনের ফলে যুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে। যৌথবাহিনীর অধীনে বাংলাদেশ সীমারে আক্রমণ শুরু হয়। ৭ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনী যশোর বিমানবন্দর দখদ করে। ৮ থেকে ৯ই ডিসেম্বরের মধ্যে কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নোয়াখালী শহরে যৌথবাহিনীর দখলে আসে। ১১ থেকে ১২ই ডিসেম্বরের মধ্যে যৌথবাহিনীর হাতে ময়মনসিংহ, হিলি, কুষ্টিয়া, খুলনা, রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও সিরাজগঞ্জ মুক্ত হয়। ১২ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিভিন্ন সামরিক অবস্থানের উপর যৌথবাহিনী বিমান হামলা চালায়। যৌথবাহিনী চারদিক থেকে ঢাকা অভিমুখে রওয়ানা হয়। এরই মধ্যে দেশের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রণাঙ্গনে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণ শুরু হয়ে যায়। ১৪ই ডিসেম্বরের মধ্যে ঢাকা ছাড়া দেশের অন্যত্র বড় বড় শহর ও সেনানিবাসে পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ঢাকা শহরের চারদিক তখন যৌথবাহিনী ঘেরাও করে রাখে। ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে খোলা আকাশের নিচে আত্মসমর্পণ করে।
পরিশেষে বলা যায়, যৌথবাহিনীর কার্যক্রমই বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।
আত্মসমর্পণ দলিলে যৌথবাহিনীর পক্ষে কে স্বাক্ষর করেন?
আত্মসমর্পণ দলিলে যৌথবাহিনীর পক্ষে স্বাক্ষর করেন লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা।
'গণহত্যার' ধারণাটি ব্যাখ্যা কর।
পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে নারকীয় হত্যাকান্ড চালায় তাকেই গণহত্যা বলা হয়। এ অপারেশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানি সেনারা ২৫শে মার্চ রাতে নিরীহ বাঙালিদের ওপর আক্রমণ করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ ৩০০ ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন। ২৫শে মার্চ রাতেই শুধু ঢাকায় ৭/৮ হাজার নিরীহ মানুষকে তারা সেদিন রাতে হত্যা করে। এছাড়া ঢাকার বাইরেও বহু বাঙালিকে হত্যা করা হয়।

