- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
নাসিফের বাবা মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন। তিনি বরিশাল এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ করেন। তিনি প্রতিবেশী দেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ ছাড়াই বাহিনী গড়ে তোলেন এবং নেতৃত্ব দেন।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটিতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়াও অনেকগুলো আঞ্চলিক বাহিনী ছিল, যাঁরা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে- মূল্যায়ন কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটিতে অর্থাৎ ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়াও অনেকগুলো আঞ্চলিক বাহিনী ছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে- উক্তিটি যথার্থ।
মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। ১১টি সেক্টর ও তার অধীন অনেক সাব-সেক্টর ছাড়াও রণাঙ্গনে তিনটি ব্রিগেড ফোর্স গঠন করা হয়। এসব বাহিনীর পাশাপাশি সেক্টর এলাকার বাইরে আঞ্চলিক পর্যায়ে কিছু বাহিনী গড়ে ওঠে যারা ভারতে কোনো প্রকার প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেনি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- কাদেরিয়া বাহিনী (টাঙ্গাইল), আফসার ব্যাটালিয়ন (ভালুকা-ময়মনসিংহ), বাতেন বাহিনী (টাঙ্গাইল), হেমায়েত বাহিনী (গোপালগঞ্জ-বরিশাল), হালিম বাহিনী (মানিকগঞ্জ), আকবর বাহিনী (মাগুরা) লতিফ মীর্জা বাহিনী (সিরাজগঞ্জ, পাবনা) ও জিয়া বাহিনী (সুন্দরবন)। এসব গেরিলা বাহিনীর কর্মকান্ড ছিল স্বেচ্ছাসেবামূলক, স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। দেশের অভ্যন্তরে জনগণের মনোবল অটুট রাখা, পাকিস্তানি ও তাদের দোসরদের অতর্কিত আক্রমণে পরাস্ত করা ও যুদ্ধের জন্য লোকবল সংগ্রহ ও তাদের ট্রেনিং প্রদান ছিল এসব বাহিনীর প্রধান কাজ। কাগজে-কলমে গেরিলারা সেক্টর কমান্ডার দ্বারা পরিচালিত হলেও বাস্তবে এরা এলাকাভিত্তিতে নিয়ন্ত্রিত হতো। বিভিন্ন এলাকাভিত্তিক বাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত গেরিলা ছিল লক্ষাধিক। এছাড়াও এর কয়েকগুণ ছিল স্বেচ্ছাসেবক। যারা মুক্তিযুদ্ধে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারতে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ছাড়াও অনেকগুলো আঞ্চলিক বাহিনী ছিল, যারা মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

