• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা ঢাকার একটি জাদুঘর পরিদর্শনে যায়। প্রথমে তারা একটি কক্ষে লাশের দৃশ্যের সাথে লিখিত কিছু তথ্য পড়ে ভয়াল রাতের নৃশংস হত্যার কথা জানতে পারে। আর একটি দৃশ্যে ঐ সময়ে আমাদের সহায়তাকারী একটি বাহিনীর যুদ্ধ অভিযান দেখে। সবশেষে তারা দুটি দেশের সামরিক কমান্ডারদের দলিল স্বাক্ষরের দৃশ্য দেখে খুশি হয়।

উদ্দীপকের শেষাংশে দেখা ঘটনাটি এ দেশের স্বাধীনতা অর্জনের সাফল্য বহন করে- মূল্যায়ন কর।

উদ্দীপকের শেষাংশে দেখা ঘটনাটি পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণকে নির্দেশ করে, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের সাফল্য বহন করে।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনী গণহত্যায় মেতে ওঠে। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। এ দিন পাকিস্তানি বাহিনী তাদের শোচনীয় পরাজয় মেনে নিয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনী নিয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে। আমরা লাভ করি প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন যৌথবাহিনীর কমান্ডার লে. জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা। তার সঙ্গে ছিলেন মুজিবনগর সরকারের প্রতিনিধি মুক্তিবাহিনীর উপপ্রধান সেনাপতি গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ. কে. খন্দকার। রেসকোর্স ময়দানের খোলা আকাশের নিচে একটি টেবিলে বসে যৌথবাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল অরোরা এবং পরাজিত পাকিস্তানি বাহিনীর পক্ষে লে. জেনারেল এ. এ. কে. নিয়াজি আত্মসমর্পণ দলিলে স্বাক্ষর করেন। উদ্দীপকে শিক্ষার্থীরা এই স্বাক্ষরের দৃশ্য সংবলিত চিত্র দেখে খুশি হয়। যে ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সাফল্য বহন করে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

ন্যাপ (NAP)-এর পূর্ণরূপ কী?

ন্যাপ (NAP)-এর পূর্ণরূপ হলো- ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (National Awami Party)।

#

মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধকালীন 'উপদেষ্টা পরিষদ' গঠন করে কেন?

১৯৭১ সালের 'মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুজিবনগর সরকার নানাবিধ বেসামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করে। এরই অংশ হিসেবে মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য এ পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

#

শিক্ষার্থীদের প্রথম দেখা দৃশ্যটি মুক্তিযুদ্ধের কোন ঘটনার ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

শিক্ষার্থীদের প্রথম দেখা দৃশ্যটি মুক্তিযুদ্ধের ২৫শে মার্চ নারকীয় হত্যাযজ্ঞ ঘটনার ইঙ্গিত করে।

কেননা শিক্ষার্থীরা জাদুঘরের একটি কক্ষে লাশের দৃশ্যের সাথে লিখিত তথ্যের মাধ্যমে একটি ভয়াল রাতের হত্যাকান্ড সম্পর্কে জানতে পারে। যা পাঠ্যপুস্তকের ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাকাণ্ডকে নির্দেশ করে। পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে গণহত্যার অভিযান চালিয়েছিল তার নাম দিয়েছিল অপারেশন সার্চলাইট। ২৫শে মার্চ মধ্যরাতে এ অপারেশন সংঘটিত হলেও মূলত এর প্রস্তুতি চলতে থাকে মার্চের প্রথম থেকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী পাকিস্তানি সৈন্যরা ২৫শে মার্চ রাত ১১.৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। এ সময় তাদের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় রাস্তায় মিছিলরত মুক্তিকামী বাঙালি। একই সাথে আক্রমণ চালানো হয় পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে। মার্চের এই গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ ৩০০ ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন। শুধু ২৫শে মার্চ রাতেই ঢাকায় ৭ থেকে ৮ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। ঢাকার বাইরে সারাদেশে সেনানিবাস, ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে।

সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকে শিক্ষার্থীদের প্রথম দেখা দৃশ্যটি ২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাকান্ডকেই ইঙ্গিত করে।