- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব 'ক' হচ্ছেন 'খ' দেশের একজন প্রধান রাজনৈতিক নেতা। তিনি একটি নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পরও কর্তৃপক্ষ তাকে ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি। তাই জনাব 'ক' দেশের মানুখের সামনে একটি ভাষণ প্রদান করেন। জনগণ তার ভাষণ শুনে একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। পরবর্তীতে জনাব 'ক' কে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার কিছু বন্ধু একটি কমিটি তৈরি করে। এ কমিটি কর্তৃপক্ষের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জনমত তৈরি করে এবং অন্য দেশের কাছ থেকে সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে।
তোমার পাঠ্যবইয়ের যে ধারণাটির সাথে উদ্দীপকের কমিটির মিল আছে তা চিহ্নিত কর এবং কর্তৃপক্ষের হাত থেকে মুক্ত হতে এর ভূমিকা বিশ্লেষণ কর।
আমার পাঠ্যবইয়ের মুজিবনগর সরকারের ধারণাটির সাথে উদ্দীপকের কমিটির মিল আছে।
উদ্দীপকে কর্তৃপক্ষের হাত থেকে মুক্তি পেতে যেমন কমিটির ভূমিকা রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের হাত থেকে মুক্তি পেতে মুজিবনগর সরকারের ভূমিকা অপরিসীম। মুজিবনগর সরকারের নেতৃত্বেই মুক্তিযুদ্ধ সংগঠিত ও পরিচালিত হয় এবং বাংলাদেশ শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালীন জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বে ৮ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। এছাড়া এ সরকার সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে বিভক্ত করে ১১ জন সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত করা হয়। প্রত্যেক সেক্টর বেশ কয়েকটি সাব-সেক্টরে বিভক্ত ছিল। এছাড়া মুজিবনগর সরকার বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার জন্য কাজ করে।
উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, উদ্দীপকের ন্যায় কর্তৃপক্ষের। তথা পাকিস্তানি শাসকদের হাত থেকে মুক্তি পেতে মুজিবনগর সরকার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছে।

