• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বাংলাদেশের সেক্টরভিত্তিক মানচিত্র

বাংলাদেশের সেক্টরভিত্তিক মানচিত্র

'ক্র্যাক প্লাটুন' কী?

'ক্র্যাক প্লাটুন' হলো মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত ঢাকার গেরিলা দল।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পরিচালিত অপারেশনটি ব্যাখ্যা কর।

পশ্চিম পাকিস্তানি বাহিনী কর্তৃক ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পরিচালিত অপারেশনটিই 'অপারেশন সার্চলাইট' নামে পরিচিত। এ অপারেশনে পাকিস্তানি সেনারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যার অভিযান চালায়। এদিন পাকিস্তানি সৈন্যরা রাত ১১.৩০ মিনিটে সেনানিবাস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। তারা শুধু ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করে এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এছাড়াও ঢাকার বাইরে অনেক সেনানিবাস, ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ করে অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে।

#

"মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত সেক্টরের একটি স্থান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল" উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।

মানচিত্রের 'A' চিহ্নিত সেক্টরের একটি স্থান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল'- উক্তিটি যথার্থ।

এ সেক্টরটি চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ফেনী নদী পর্যন্ত এলাকা নিয়ে গঠিত হয়েছিল। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে এ সেক্টরাধীনে অবস্থিত চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র তথা স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্র বিশেষ ভূমিকা পালন করেছিল। ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী পরিচালিত অপারেশন সার্চলাইট-এর পর রাজনৈতিক সংকট ও নেতৃত্বশূন্য অবস্থা চলছিল। এমন পরিস্থিতিতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ২৬শে মার্চ তারিখে চট্টগ্রামের বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। বেতারে, প্রচারিত স্বাধীনতার এই ঘোষণা সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে প্রচন্ড আশা ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করে। সকলেই স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে। তাছাড়া এ বেতার কেন্দ্র থেকে খবর পাঠ, দেশাত্মবোধক গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান 'চরমপত্র' ও 'জল্লাদের দরবার' ইত্যাদি রণক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে সহায়তা করেছে, সাহস জুগিয়েছে, জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করেছে।

সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ।

#

মানচিত্রে 'B' চিহ্নিত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের কোন সেক্টরটি ছিল? ব্যাখ্যা কর।

মানচিত্রে 'B' চিহ্নিত স্থানে মুক্তিযুদ্ধের ১১ নম্বর সেক্টরটি ছিল। কিশোরগঞ্জ ছাড়া ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়ে ১১. নম্বর সেক্টর গঠিত হয়েছিল।

সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর এম. আবু তাহের। মেজর তাহের যুদ্ধে গুরুতর আহত হলে স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহকে সেক্টরের দায়িত্ব দেওয়া হয়। মহেন্দ্রগঞ্জ ছিল সেক্টরের হেডকোয়ার্টার। এই সেক্টরে প্রায় ২৫ হাজার মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধ করেছেন। এই সেক্টরের আটটি সাব-সেক্টর (কমান্ডারদের নামসহ) হচ্ছে- মাইনকারচর (স্কোয়াড্রন লিডার হামিদুল্লাহ); মহেন্দ্রগঞ্জ (লেফটেন্যান্ট মিজান); পুরখাসিয়া (লেফটেন্যান্ট হাশেম); ঢালু (লেফটেন্যান্ট তাহের আহমদ এবং পরে লেফটেন্যান্ট কামাল); বংরা (মতিউর রহমান); শিববাড়ি (ই.পি.আর কয়েকজন জুনিয়র অফিসার); বাগমারা (ই.পি. আর-এর কয়েকজন জুনিয়র অফিসার) এবং মহেশখোলা (জনেক ই.পি.আর সদস্য)। এই সেক্টরে ব্যাপক গেরিলা অপারেশন পরিচালিত হয়। নিয়মিত বাহিনী সীমান্ত এলাকায় মুক্ত অঞ্চল দখল করে রাখে। সুবেদার আফতার যুদ্ধের ৯ মাস ধরে রাহুমনিতে মুক্ত এলাকা দখলে রাখেন। এই সেক্টরে মহিলারাও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেন। তাছাড়া টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকী তার জেলায় ১৬,০০০ গেরিলা যোদ্ধা সংগঠিত করেন এবং সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান পরিচালনা করেন।