• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মালেক চৌধুরী একটি স্কুলের 'বীরের কণ্ঠে বীর গাথা' অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। সেখানে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এক পর্যায়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের সাথে যখন বিভিন্ন দাবি নিয়ে আলোচনা চলছিল তখন হঠাৎ একদিন তারা রাতের বেলায় ঘুমন্ত মানুষসহ বিভিন্ন জায়গায় একযোগে হামলা করে অনেক লোক হত্যা করে। এরপরই জনাব মালেক চৌধুরীর মতো অনেকেই দেশ মুক্ত ফরার সংগ্রামে লিপ্ত হন। তিনি প্রতিবেশী দেশে গিয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

উদ্দীপকে বক্তব্যের প্রথম অংশটি তোমার পাঠ্যবইয়ের কোন বিষয়টিকে ইঙ্গিত করে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকে বক্তব্যের প্রথম অংশটি আমার পাঠ্যবইয়ের ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের গণহত্যাকে ইঙ্গিত করে।

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনারা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে নারকীয় হত্যাকান্ড চালায় তাকে গণহত্যা বলা হয়। এ গণহত্যা অভিযানের নাম দেওয়া হয় 'অপারেশন সার্চলাইট'। উদ্দীপকের বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব মালেক চৌধুরীও তার বক্তব্যে বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানিরা অনেক নিরীহ মানুষ হত্যা করে। এদিন পাকিস্তানি সৈন্যরা রাত ১১:৩০ মিনিটে ঢাকা সেনানিবাস থেকে রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে। তাদের প্রথম আক্রমণের শিকার হয় ঢাকা ফার্মগেইট এলাকায় মিছিলরত মুক্তিকামী বাঙালি। একই সাথে আক্রমণ চালানো হয় পিলখানা ও রাজারবাগ পুলিশলাইন্সে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জহুরুল হক হল, জগন্নাথ হল, শহীদুল্লাহ হল ও রোকেয়া হলেও তারা ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ চালায়। এ গণহত্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ ৩০০ জন ছাত্রছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন। শুধু ২৫শে মার্চ রাতে প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। এছাড়াও ঢাকার বাইরে অনেক ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ করে অসংখ্য বাঙালি সেনাকে হত্যা করে।

তাই বলা যায়, জনাব মালেক চৌধুরীর বক্তব্য ২৫শে মার্চ রাতের গণহত্যার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

নিয়মিত বাহিনী কাকে বলে?

ইস্টবেলাল রেজিমেন্টের ইউনিটগুলোর বাঙালি সৈনিকদের নিয়ে যে বাহিনী গঠিত হয়েছিল সে বাহিনীকে নিয়মিত বাহিনী বলে।

#

৭ই মার্চের ভাষণকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর।

বঙ্গবন্ধু তার ৭ই মার্চ ভাষণে বিজয়ী দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নির্দেশনা অনুযায়ী দেশ পরিচালনার ঘোষণা দেন। এ ভাষণ সারা দেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে, তাদের ঐক্যবদ্ধ করে এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে দেশের কাজে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করে। তাই বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।

#

তুমি কি মনে কর স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটিই একমাত্র ভূমিকা পালন করেছে? উত্তরের সপক্ষে তোমার মতামত দাও।

না, স্বাধীনতা অর্জনের ক্ষেত্রে উদ্দীপকে উল্লিখিত দেশটি তথা ভারতই একমাত্র ভূমিকা পালন করেছে বাড়া আমি মনে করি না।

স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেয়। যেমন- ভারত, সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ অন্যান্য দেশ। এসব দেশের মধ্যে ভারত সবচেয়ে বেশি সহযোগিতা করেছে। তবে সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের ভূমিকাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে উল্লিখিত ভারত ব্যতীত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভূমিকাও মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। এপ্রিলের শুরুতেই সোভিয়েত প্রেসিডেন্ট পদগর্নি বাংলাদেশে গণহত্যা বন্ধ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়াকে চিঠি দেন। এছাড়াও ৩রা ডিসেম্বর চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু হলে সোভিয়েত ইউনিয়ন যুদ্ধ বিরতি বিলম্বিত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এছাড়া যুক্তরাজ্য ও কানাডাও আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে শশু অবস্থান নেয়।

উপরিউক্ত আলোচনা থেকে বলা যায়, মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবস্থান আমাদের বিজয়কে ত্বরান্বিত করলেও অন্যান্য দেশের অবস্থানও আমাদের বিজয় অর্জনে সহযোগী ছিল।