• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • অষ্টম শ্রেণি
  • বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মুক্তিযুদ্ধের সময় সাদিক বিল্লাহ যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বাঙালি কর্মকর্তা ছিলেন। কিন্তু মুজিবনগর সরকার গঠিত হলে তিনি চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এতে তাকে অর্থকষ্টসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকির সম্মুখীন। হতে হয়। তারপরও তিনি পিছপা হননি বরং মুজিবনগর সরকার বহির্বিশ্বে মিশন স্থাপন শুরু করলে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের। মিশন স্থাপন করেন।

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপনে সাদিক বিল্লাহর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

সাদিক বিল্লাহ একসময় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে বাঙালি কর্মকর্ত হিসেবে চাকরি করতেন। মুজিবনগর সরকারের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জীবন ও চাকরির মায়া ত্যাগ করে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেন। তার মতো আরও বিভিন্ন দেশের দূতাবাসের বাঙালি কর্মকর্তার পদত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে যোগ দেন। তাদের মধ্যে সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরাক, ফিলিপাইন, আর্জেন্টিনা ভারত ও হংকং দূতাবাসের বাঙালি কর্মকর্তাগণ উল্লেখযোগ্য। তাদের পদত্যাগ ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ বিশ্বব্যাপ্ আলোড়ন সৃষ্টি করে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রথমদিকেই বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের দুটি মিশন স্থাপন করে। কলকাতাতেই প্রথম বাংলাদেশ মিশন স্থাপিত হয়। এছাড়াও বাংলাদেশ সরকার (মুজিবনগর সরকার) ওয়াশিংট নিউইয়র্ক ও লন্ডনে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করে। উদ্দীপকে সাদির বিল্লাহর উদ্যোগেই ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ মিশন স্থাপন করা হয়: এসব মিশন বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।

তাই বলা যায়, উদ্দীপকে সাদিক বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ সরকারের মিশন স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

বহির্বিশ্বে প্রথম বাংলাদেশ মিশন কোথায় স্থাপন করা হয়?

বহির্বিশ্বে বাংলাদেশ মিশন প্রথম স্থাপন করা হয় কলকাতায়।

#

মুক্তিযুদ্ধে বিশ্ব জনমত সৃষ্টিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচের বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

বহির্বিশ্বে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সমর্থন আদায়ের জন্য মুজিবনগর সরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন উপাচার্য বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বিশেষ দূত নিয়োগ করে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পড়ে বিদেশে সমর্থন আদায় ও জনমত গঠনের চেষ্টা করেন। বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় জাতিসংঘে ৪৭টি দেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সমস্যা নিয়ে আলোচনা করে। এতে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুদন্ড স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সরকার।

#

'সাদিক বিল্লাহ জীবন ও চাকরির মায়া ত্যাগ করে দেশের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন'- বিশ্লেষণ কর।

সাদিক বিল্লাহ নিজের জীবন ও চাকরির মায়া ত্যাগ করে যে দৃষ্টদ্র স্থাপন করেছেন তা অসাধারণ।

উদ্দীপকে উল্লিখিত সাদিক বিল্লাহ তৎকালীন পাকিস্তান রাষ্ট্রের হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে যে চাকরি করতেন তা ছেড়ে দিয়ে মুজিবনগর সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন প্রকাশ করেন। নিজ মাতৃভূমিতে যখন সুবিধালোভী বাঙালিরা রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস গঠন করছে এদেশের স্বাধীনতার আশাকে ধূলিসাৎ করে দিতে, ঠিক তখন সাদিক সাহেব বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে অবস্থান করে পাকিস্তান সরকারের দেওয়া লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর তিনি অর্থকষ্ট এবং বিভিন্ন হুমকির সম্মুখীন হলেও মুজিবনগর সরকারের প্রতি সমর্থন প্রদান থেকে পিছপা হননি। উপরন্তু সাদিক সাহেব ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের মিশন স্থাপন করে একজন সাহসী বাঙালির পরিচয় দিয়েছেন। তার এ তৎপরতায় সুদূর ওয়াশিংটনেও মুজিবনগর সরকারের প্রতি বিদেশিদের সমর্থন আদায় এবং জনমত গঠন করতে সুবিধা হয়।