- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- বাংলাদেশের অর্থনীতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রায়হান সাহেব দীর্ঘদিন চাকরি সূত্রে মালয়েশিয়ায় ছিলেন। কিছুদিন হলো তিনি দেশে তার নিজ গ্রামে ফিরে আসেন। তিনি লক্ষ করেন তার গ্রামসহ আশপাশের গ্রামের কিশোর তরুণেরা স্কুল-কলেজে যায় না, বেকার ও অলস সময় কাটায়, শিশু মৃত্যুর হারও অত্যধিক। তিনি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন।
গত সরকারের 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পটির প্রভাব মূল্যায়ন কর।
বাংলার কৃষক ও বাংলার কৃষি একই সুতায় বাঁধা। কৃষক জমিতে ফসল ফলায়, বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি আবাদ করে। আবার পুকুরে মাছেরও চাষ করে। পাশাপাশি দুটি ছাগল, একটি গাভী, দশটি কবুতর এবং হাঁস-মুরগি পালন করে। কেননা দৈনন্দিন জীবনে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের মধ্যে এগুলো আবশ্যকীয়ভাবে প্রয়োজন পড়ে। এ বিষয়টি মাথায় রেখেই গত সরকার 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পটি চালু করে। তবে বিভিন্ন বাস্তবতার প্রেক্ষিতে গত সরকারের 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পটি জনসাধারণের ওপর খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
২০১১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা কত ছিল?
২০১১ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৩৬৪ জন।
রায়হান সাহেবের নেওয়া উদ্যোগ দেশে যে ধরনের সম্পদ সৃষ্টিতে সহায়ক তা ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের রায়হান সাহেবের নেওয়া উদ্যোগটি হচ্ছে প্রশিক্ষণের, মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া জনসমষ্টিকে মানবসম্পদে পরিণত করা।
এ লক্ষ্যে তিনি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় গ্রামের কিশোর তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেন। সাধারণত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে একজন মানুষ দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হয়। মানবসম্পদের উপাদান বা বৈশিষ্ট্য হলো- শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ইত্যাদি। একজন মানুষ উপরিউক্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত হতে পারে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। ২০২২ সালের Human Development Report অনুযায়ী মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম, যা ২০১৪ সালে ছিল ১৪২ তম। উদ্দীপকে দেখা যায়, রায়হান সাহেব গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় বেকার তরুণদের জন্য এলাকায় বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন। তার এরূপ উদ্যোগে মানবসম্পদ উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় অবস্থানে পৌছবে। পাশাপাশি বেকার কিশোর তরুণেরাও তাদের স্বাবলম্বী করে তুলতে পারবে বলে আমি মনে করি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়নসূচক অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থা বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত উন্নয়নসূচক বাংলাদেশের বিভিন্ন অবস্থা ফুটে উঠেছে। যেমন-
বর্তমানে মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন, মোট জাতীয় উৎপাদন ও মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশ সরকার সুষম অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে আর্থসামাজিক খাতে বাজেটের ২২.৩১% বেশি ব্যয় করছে।
২০২২ সালের Human Development Report মোতাবেক মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম, যা ২০১৪ সালে ছিল ১৪২তম। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৬০% মহিলা শিক্ষক নিয়োগের বিধি প্রবর্তনের ফলে মহিলা শিক্ষকের হার ১৯৯১ সালের ২১% থেকে বর্তমানে ৬৪.৯% উন্নীত হয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় প্রজনন হার ও মৃত্যু হার কমেছে, গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে, নবজাত শিশু ও মাতৃ-মৃত্যু হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে, অপুষ্টির হার হ্রাস পেয়েছে। বাংলাদেশের খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০২২ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের বর্তমান দারিদ্র্যের হার ১৮.৭% এবং অতি দারিদ্র্যের হার ৫.৬%। অপরদিকে, ২০১৬ সালে খানা আয় ব্যয় জরিপ অনুযায়ী দারিদ্র্য এবং অতি দারিদ্র্যের হার ছিল যথাক্রমে ২৪.৩% এবং ১২.৯%। সরকার গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনয়নের লক্ষ্যে মুক্তিযোদ্ধা এবং হত-দরিদ্র বিশেষ করে বয়স্ক, দুস্থ নারী, প্রতিবন্ধী, এতিমসহ আরও অনেককে নগদ ভাতা ও বিনামূল্যে খাদ্য প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি করছে। এর পাশাপাশি একটি বাড়ি একটি খামার, আশ্রয়ণ, গৃহায়ণ ইত্যাদি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উপর্যুক্ত আলোচনার আলোকে পরিশেষে বলা যায়, উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছে।

