• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

জনাব আব্দুর রহমান ফল-মূল ও শাক-সবজিতে ফরমালিনের ব্যবহার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। অপরদিকে ড. জাহিদ হাসান দেশের ভূমিরূপ, রাস্তা-ঘাট ও নদ-নদী চিহ্নিত একটি মানচিত্র প্রস্তুত করেন ও এর নানামুখী ব্যবহারের উপায় সম্বলিত নির্দেশনা তৈরি করেন। তাদের উভয়ের গবেষণার মূল্যায়ন করতে গিয়ে জনাব ড. শায়খ বদরুদ্দীন বলেন, এ ধরনের গবেষণা দ্বাদশ শতাব্দীর মুসলিম বিজ্ঞানীদের গবেষণার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। ঢাকা সিটি কলেজ।

উদ্দীপকে ড. জাহিদ হাসানের গবেষণার সাথে মুসলিম জ্ঞান- বিজ্ঞানের কোন বিষয়ের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।

উদ্দীপকের ড. জাহিদ হাসানের গবেষণার সাথে মুসলিম জ্ঞান- বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা ভূগোলশাস্ত্রের মিল রয়েছে।

মুসলিম মনীষীদের ভূগোলবিষয়ক জ্ঞানের উৎস ছিল পর্যবেক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও আল-কুরআন। মুসলিম ভূগোলবিদদের মধ্যে মুসা আল খাওয়ারেজমি পৃথিবীকে সাতটি ভূখণ্ডে বিভক্ত করেন। ইবনে খুরদাদ আরবের প্রধান বাণিজ্যপথ এবং চীন, জাপান ও কোরিয়ার ভৌগোলিক অবস্থান বর্ণনা করেন। মুসলিম মনীষী আল-ইয়াকুবী তার 'কিতাবুল বুলদান' গ্রন্থে আরব থেকে উত্তর আফ্রিকা পর্যন্ত এলাকার নগরসমূহের বস্তুনিষ্ঠ বিবরণ তুলে ধরেন। আল মুকাদ্দাসী ছিলেন শ্রেষ্ঠতম ভূগোলবিদ। সমুদ্রতত্ত্বের ওপর 'আকবার আল-জামারি' নামে তার একটি তথ্যবহুল বই রয়েছে। এছাড়া আল-বিরুনী নদীর ভূসংস্থান, ভূতত্ত্ব, জোয়ারভাটা, ভূমি পরিমাপমূলক কাজ প্রভৃতি বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

উদ্দীপকে উল্লেখিত ড. জাহিদ হাসান দেশের ভূমিরূপ, রাস্তাঘাট ও নদ- নদী চিহ্নিত একটি মানচিত্র প্রস্তুত ও এর নানামুখী ব্যবহারের উপায় সম্বলিত নির্দেশনা তৈরি করেন। এগুলো মূলত ভূগোল বিষয়ক কর্মকাণ্ড। তাই বলা যায়, ড. জাহিদ হাসানের গবেষণার সাথে মুসলিম জ্ঞান-বিজ্ঞানের ভূগোলশাস্ত্রের মিল রয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'বায়তুল হিকমা' কী?

'বায়তুল হিকমা' হলো একটি বিজ্ঞানাগার বা গবেষণাগার; যা আব্বাসি খলিফা আল-মামুন ৮৩০ খ্রিষ্টাব্দে বাগদাদ নগরীতে প্রতিষ্ঠা করেন।

#

“বলুন, যারা জানে আর যারা জানেনা তারা কি সমান”? ব্যাখ্যা কর।

ইসলাম শিক্ষা থেকে বঞ্চিত ব্যক্তির মর্যাদা কখনো ইসলাম শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তির সমান হতে পারে না।

ইসলামের মৌলিক জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর উপর ফরজ। ইসলাম শিক্ষা মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদার মাপকাঠি। যারা ইসলামি জ্ঞানের অধিকারী আর যারা মূর্খ তারা উভয়ে কখনো সমান হতে পারে না। ইসলামি জ্ঞানের কারণেই মানুষকে আশরাফুল মাখলুকাত বা সৃষ্টির সেরা বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জনের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ বলেন, 'বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না, তারা কি সমান হতে পারে? (সুরা যুমার : ৯)।

#

উদ্দীপকে আব্দুর রহমানের গবেষণার সাথে মুসলিম বিজ্ঞানী রসায়নবিদ জাবির ইবনে হাইয়ানের গবেষণার তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর ।

উদ্দীপকের আব্দুর রহমানের গবেষণার সাথে মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ানের রাসায়নিক গবেষণার তুলনা করা যায় ৷ মুসলিম মনীষী জাবির ইবনে হাইয়ান হলেন রসায়নশাস্ত্রের জনক। তার বড় কৃতিত্ব হলো তিনি রাসায়নিক সূত্র ও পদ্ধতির ব্যাবহারিক রূপ দেন। তিনি ধাতুর মানগত উন্নতি সাধন করেন। স্টিল ও লোহা তৈরি, মারকাসাইট থেকে স্থায়ী লেখার কালি, চামড়া ও কাপড় রং করা, লোহা সংরক্ষণের জন্য বার্নিস ব্যবহার করার পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। ম্যাঙ্গানিজ ডাই-অক্সাইড থেকে কাচ তৈরি করা, এসিডের ঘনত্বের জন্য অম্লরস এবং চোলাই করার পদ্ধতির সফল প্রয়োগ করেন। সাইট্রিক এসিড, সিলভার নাইট্রেড, কিউরিক ক্লোরাইড, এন্টিমনি, আর্সেনিক প্রভৃতি ব্যবহারের বিষয়েও তার বিশেষ জ্ঞান ছিল। তিনি লবণ তৈরির একটি সফল ব্যাবহারিক পদ্ধতিরও উদ্ভাবন করেন ।

উদ্দীপকের আব্দুর রহমান ফল ও সবুজ শাক-সবজিতে ফরমালিনের ব্যবহার ও এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে একটি গ্রন্থ রচনা করেন । এগুলো মূলত রাসায়নিক গবেষণার সাথে সম্পর্কিত। উপরের আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, জাবির ইবনে হাইয়ান যেমন বিভিন্ন রাসায়নিক গবেষণা করেছেন ঠিক তেমনি উদ্দীপকের আব্দুর রহমানও রাসায়নিক গবেষণা বিষয়ক গ্রন্থ রচনা করেছেন।