- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- অষ্টম শ্রেণি
- বাংলাদেশের অর্থনীতি
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
জনাব আলম দীর্ঘদিন বিদেশে বাস করছেন। তিনি বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন। বর্তমানে দেশে ফিরে তিনি তার এলাকার বেকার যুবকদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প গ্রহণ করেছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে যে খাতের অবদান বেশি তার ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।
বাংলাদেশের জাতীয় আয়ে শিল্প খাতের অবদান বেশি। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ছিল ৩৩.৮৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ১০.২০ শতাংশ। পোশাকশিল্প, বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি সরবরাহ, খনিজসম্পদ ও নির্মাণ শিল্প প্রভৃতিকে এই খাতের অন্তর্ভুক্ত করায় জাতীয় অর্থনীতিতে এই খাতের অবদান অনেক বেড়ে-যায়। ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ৩৭.৯৫ শতাংশ এবং প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৬.৬৬ শতাংশ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
জিডিপি কী?
একটি দেশের অভ্যন্তরে দেশি বা বিদেশি নাগরিকদের দ্বারা প্রতিবছর উৎপাদিত সকল দ্রব্য ও সেবার মোট অর্থমূল্যই হলো জিডিপি।
জনাব আলমের দেশে অর্থ প্রেরণ করা কোন ধরনের কাজ? বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে জনাব আলমের বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ হলো রেমিটেন্স।
বর্তমানে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কুয়েত, মিসর, লিবিয়া, মরক্কোসহ অনেক দেশে বাংলাদেশের শ্রমিক ও পেশাজীবীরা কাজ করছেন। একইভাবে নিকট ও দূরপ্রাচ্যের মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ব্রুনাই, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতেও বাংলাদেশের বহু মানুষ নানা পেশায় নিয়োজিত আছে। ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকাতেও বহু বাংলাদেশি চাকরি ও ব্যবসাসহ নানা ধরনের কাজ করছেন। বিদেশে কর্মরত এসব শ্রমিক, কর্মচারী ও পেশাজীবীরা স্বদেশে যে অর্থ প্রেরণ করে সে অর্থকেই রেমিটেন্স বলা হয়।
অতএব, নিশ্চিতভাবে বলা যায়, জনাব আলমের প্রেরিত অর্থ রেমিটেন্স। উদ্দীপকে উল্লিখিত জনাব আলম বিদেশে কর্মরত এবং তার উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে, সেহেতু ধরন অনুযায়ী তার প্রেরিত অর্থ হচ্ছে রেমিটেন্স।
জনাব আলমের প্রেরিত অর্থ আমাদের অর্থনীতিতে যে ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে তা আলোচনা কর।
জনাব আলমের প্রেরিত অর্থ অর্থাৎ রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে আমি মনে করি।
'বিদেশে কর্মরত শ্রমিক, কর্মচারী ও. পেশাজীবীরা তাদের অর্জিত অর্থের একটি অংশ ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে প্রেরণ করে। এ অর্থ তাদের পরিবারের প্রয়োজন মেটায়, জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি করে এবং নানা ক্ষেত্রে বিনিয়োগ হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তদ্রূপ বিদেশ থেকে জনাব আলমের প্রেরিত রেমিটেন্স বা অর্থ দিয়ে বিভিন্ন চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে। বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ বা রেমিটেন্স থেকে কাউকে কৃষিক্ষেত্রেও বিনিয়োগ করতে দেখা যায়। ফলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পায়, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। অনেকে আবার এ অর্থ দিয়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলেন। যেখানে অনেক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়। এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্য অনেক সময় দেশের চাহিদা মিটিয়ে 'বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। ফলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে। আবার কেউ কেউ এ অর্থ কুটিরশিল্প, মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগির খামার প্রভৃতি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাই পরিশেষে বলা যায়, বিদেশ থেকে প্রেরিত অর্থ বা রেমিটেন্স বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

