• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

মা মরা ছোট মেয়ে লাবনি আজ শ্বশুর বাড়ি যাবে। সুখে থাকবে এই আশায় দরিদ্র কৃষক লতিফ মিয়া আবাদের সামান্য জমিটুকু কথক রেখে পণের টাকা যোগাড় করলেন। কিন্তু তাতেও কিছু টাকার ঘাটতি রয়ে গেল। এদিকে বর পারভেজের বাবা হারুন মিয়ার এক কথা সম্পূর্ণ টাকা না পেলে তিনি ছেলেকে নিয়ে চলে যাবেন। বিষয়টি পারভেজের কানে গেলে সে বাপকে সাফ জানিয়ে দেয়, 'সে দরদাম বা কেনাবেচার পণ্য নয়। সে একজন মানুষকে জীবনসঙ্গী করতে এসেছে, অপমান করতে নয়। ফিরতে হলে লাবনিকে সঙ্গে নিয়েই বাড়ি ফিরবে।'

অনুপম ও পারভেজের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের বৈপরীত্য ব্যাখ্যা কর।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও আত্মসম্মানের দিক দিয়ে অনুপম ও পারভেজের মধ্যে চারিত্রিক বৈপরীত্য রচিত হয়েছে।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য অর্থ ব্যক্তির নিজস্ব মত ও প্রাধান্য এবং আত্মসম্মান অর্থ ব্যক্তির নিজের ভালোলাগা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা এবং পছন্দের প্রতি সম্মান প্রদর্শন বা তার মতামতকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া। ব্যক্তির স্বকীয় মতামত এবং তা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা যেকোনো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের প্রধান চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের চরিত্রে সে বৈশিষ্ট্যটি সম্পূর্ণভাবে অনুপস্থিত। আর এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যটিই অনুপম ও পারভেজের চরিত্রের মধ্যে দুর্ভেদ্য দেয়াল রচনা করে দিয়েছে।

উদ্দীপকের পারভেজ উজ্জ্বল সুচারিত্রিক গুণের অধিকারী একজন যুবক। যৌতুকের দাবিতে পিতার কশাইসুলভ আচরণে বিক্ষুব্ধ হয়ে সে পিতার বক্তব্যের প্রতিবাদ করে। যৌতুকের সম্পূর্ণ টাকা হাতে না পেলে বিয়ের মঞ্চ থেকে ছেলেকে তুলে নিয়ে চলে যাবেন- পিতার এমন অমানবিক আচরণে সে বাপকে সাফ জানিয়ে দেয় যে, দরদাম বা কেনাবেচার মধ্যে সে নেই, ফিরতে হলে লাবনিকে সাথে করেই সে বাড়ি ফিরবে। পারভেজের এরূপ বীরোচিত বক্তব্যে পাঠকমাত্রই তার প্রতি শ্রদ্ধাবনত থাকতে বাধ্য হয়। তার বক্তব্য যেন সমাজে পরগাছার মতো চেপে বসা কুসংস্কারের বিষমূলে অব্যর্থ কুঠারাঘাত। অন্যায়ের প্রতিবাদে সে দৃঢ়কণ্ঠ, তার পছন্দের এবং মতামতের প্রতি সম্মান প্রদর্শনার্থে সে আপন পিতার অযৌক্তিক দাবির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়। বিপরীতে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম যেন তার মামার হাতের কাঠের পুতুল, তার ঘুড়িসম জীবনে মামার হাতে যেন নাটাই। অনুপমের মামাই তার সর্বেসর্বা। মামার মতামতের ওপর ভিত্তি করে তার সকল ভালোলাগা-মন্দলাগা, ইচ্ছা-অনিচ্ছা, মতামতের জলাঞ্জলি দিতে হয়। তার মামার অন্যায্য যৌতুকের দাবির নিচে চাপা পড়ে যায় সকল চাওয়া-পাওয়া, ভালোলাগা এবং কল্যাণীকে বিয়ের স্বপ্ন। বিয়ে বাড়ি থেকে নির্লজ্জের মতো চলে আসতে হয় তাদের। কল্যাণীর বাবা তার মতামত জানতে চাইলেও সে থাকে নির্বাক। যা সকল পাঠককে হতাশ করে। এতে করে তার দুর্বল চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের লক্ষণই প্রকাশ পায়। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিন্দুমাত্র বৈশিষ্ট্য তার চরিত্রে দৃশ্যমান নয়। তাই বলা যায় যে, ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও আত্মসম্মানের দিক দিয়ে অনুপম ও পারভেজের মধ্যে চারিত্রিক বৈপরীত্য সূচিত হয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()