• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আর্থিকভাবে সচ্ছল পরিবারের শিক্ষিত ছেলে কৌশিকের মা-বাবা তার মতামত না নিয়েই সুরবালার সঙ্গে বিয়ে ঠিক করে। সুরবালার বাবার অঢেল সম্পদ। গোপনে ঘটকের মধ্যস্থতায় এ বিয়েতে বরপক্ষকে নগদ টাকা, গাড়ি এবং ঢাকার অভিজাত এলাকায় একটি ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। যৌতুকের বিষয়টি জানতে পেরে কৌশিক ও সুরবালা বেঁকে বসে এবং সম্পূর্ণ যৌতুকবিহীনভাবে পরস্পর বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়।

"উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পে বর্ণিত সামাজিক অসঙ্গতি অনেকাংশেই প্রতিফলিত।" যাচাই কর।

উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পে বর্ণিত সামাজিক ব্যাধি যৌতুক প্রথার ছায়াপাত ঘটেছে।

সমাজে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একটি কুপ্রথার নাম যৌতুক। সমাজের রন্ধ্রে রন্দ্রে ছড়িয়ে রয়েছে এই কাল নাগিনীর বিষ। প্রতি বছর হাজারো নারী যৌতুকের নিঠুর বলি হয়ে জীবন দিচ্ছে। অনেক নারী বেঁচে থেকেও মরে আছে। সমাজের কোনো শ্রেণি বা অবস্থানের মানুষই যে যৌতুকের করাল থাবা থেকে মুক্ত নয়, তারই প্রমাণ বহন করে উদ্দীপক ও আলোচ্য গল্পটি।

উদ্দীপকের ক্ষুদ্র প্রেক্ষাপটে যৌতুক প্রথার সকরুণ চিত্র উপস্থাপিত। আর্থিকভাবে সচ্ছল কৌশিকের পরিবার এখানে যৌতুক গ্রহণের অভিপ্রায়ে দণ্ডিত। যদিও শিক্ষিত ছেলে কৌশিকের নিকট মা-বাবার এমন অভিলাষ গ্লানিকর ঠেকেছে। একে সে দেখেছে স্বীয় ব্যক্তিত্বের বিসর্জন হিসেবে। তাইতো এই আত্মপ্রত্যয়ী যুবক পেরেছে সমাজের প্রচলিত ঘৃণ্য রীতি-নীতিকে ভাঙতে। এদিকে তার পাত্রী সুরবালার বাবা কিন্তু যৌতুককে অলঙ্ঘনীয় প্রথা হিসেবেই মেনে নিয়েছিলেন। তাই তো কন্যাকে পাত্রস্থ করার লক্ষ্যে অর্থ-কড়ি, গাড়ি, ফ্ল্যাট প্রদানেও পিছপা হননি। তবে একে নারীত্বের অবমাননা জ্ঞান করে সুরবালাও কৌশিকের মতো যৌতুকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছে। তবে উদ্দীপক থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে, রাষ্ট্র ও সভ্যতাবিরোধী হওয়া সত্ত্বেও যৌতুকের ন্যায় সামাজিক অসঙ্গতি আজও দোর্দন্ড প্রতাপের সাথে আমাদের সমাজে বিরাজমান।

অনুরূপভাবে বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননার প্রতিবাদ 'অপরিচিতা' গল্পটির অন্যতম উপজীব্য। গল্পে যৌতুক নিয়ে কল্যাণীর চরম অবমাননাকালে তার ব্যক্তিত্বরহিত বর পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুল হয়ে থেকেছে। আসলে, সমাজে ছেঁকে বসা পণপ্রথা যে পুরুষতন্ত্রেরই হাতিয়ার, নারীত্বের অবমাননার দলিল গল্পটি পড়ে সে কথা বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। আত্মমর্যাদাশীল কল্যাণী ও তার বাবা তাই সে বিয়ে ভেঙে দিতে একটুও কসুর করেনি। তবে বর্তমান পৃথিবী একবিংশ শতকে প্রবেশ করলেও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় যে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি উদ্দীপকের ঘটনাই তার প্রমাণ।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকটি 'অপরিচিতা' গল্পে বর্ণিত সামাজিক অসঙ্গতিরই প্রতিফলিত চিত্র।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()