- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
গৌরী ও সঞ্জয় অনেকদিন ধরে একই অফিসে চাকরি করছে, কিন্তু সহকর্মীরা জানে না দুজনার অন্তরে গভীর ক্ষত। গৌরীকে নিজে পছন্দ করে বিয়ে করতে চেয়েছিল সঞ্জয়। বছর পাঁচেক আগে লোক খাওয়ানো নিয়ে বিয়ে ভেঙেছে তাদের। পিতৃহীন সঞ্জয় কাকার আশ্রয়ে মানুষ, তাই তার দোষ জেনেও প্রতিবাদ করতে পারেনি। একদিন গৌরীর কাছে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে সঞ্জয়। বলে, তার জন্য সে সারা জীবন অপেক্ষা করবে। একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে গৌরী বলে, "কী দরকার, এই তো বেশ আছি।"
উদ্দীপকের সঞ্জয় 'অপরিচিতা' গল্পের কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? বুঝিয়ে দাও।
উদ্দীপকের সঞ্জয় 'অপরিচিতা' গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র অনুপমের প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকের সঞ্জয় তার মানসপ্রিয়া গৌরীর সাথে একই অফিসে চাকরি করে। অফিসের কেউ জানে না পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে ঠিক হয়েছিল। পিতৃহীন সঞ্জয়ের অভিভাবক কাকার দোষে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। মানসিক দৃঢ়তার অভাবে সঞ্জয় সেই সময় কাকার অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারেনি। বহুদিন পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে গৌরীর কাছে নিজের অসহায় অবস্থার কথা তুলে ধরে। বলে, তার জন্য সে সারা জীবন অপেক্ষা করবে। তবে এমন প্রস্তাবে গৌরী সাড়া দেয়নি। সঞ্জয়ের মতো অনেকটা একই রকম ঘটনাপ্রবাহের মধ্যে দিয়ে যেতে দেখা যায় 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমকে।
সঞ্জয়ের মতোই অনুপমেরও বিয়ের পাত্রীর প্রতি অফুরন্ত ভালোবাসা ছিল। কিন্তু বিয়ে বাড়িতে সে মামার অন্যায় সিদ্ধান্তই মেনে নেয়। অন্যায় জেনেও সে যৌতুকের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিবাদ জানাতে পারেনি। নিজের বিয়ের বিষয়েও কোনো দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেনি। ফলে সেই বিয়ে ভেঙে যায়। বহুদিন পরে সেই পাত্রী কল্যাণীকে কাছে পেয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরে অনুপম। কিন্তু তত দিনে কল্যাণী দেশমাতৃকার সেবায় নিয়োজিত, বিয়েতে অনাগ্রহী। তাই কল্যাণীর সাহচর্য পেয়েও অনুপমের সে মানসপ্রিয়া চির অপরিচিতই থেকে যায়। সুতরাং বলা যায়, যথাসময়ে সঠিক অবস্থান নিতে না পারায় একই ধরনের পরিণতি ভোগ করার দিক থেকে উদ্দীপকের সঞ্জয় ও গণের অনুপম সমার্থক চরিত্রের অধিকারী।

