- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
হয়তো কিছুই নাহি পাব
তবুও তোমায় আমি দূর হতে ভালবেসে যাব।।
যদি ওগো কাঁদে মোর ভীরু ভালবাসা,
জানি তুমি বুঝিবে না তবু তারি ভাষা,
তোমারি জীবনে কাঁটা আমি, কেন মিছে ভাব।।
অপরিচিতা' গল্পটি প্রথম কোথায় প্রকাশিত হয়?
'অপরিচিতা' গল্পটি প্রথম প্রকাশিত হয় প্রমথ চৌধুরী সম্পাদিত মাসিক 'সবুজপত্র' পত্রিকায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
'তারপর বুঝিলাম, মাতৃভূমি আছে।' বুঝিয়ে লেখ।
অনুপম কল্যাণীর স্বদেশপ্রেম সম্পর্কে আলোচ্য কথাটি বলেছে।
অনুপমের সাথে কল্যাণীর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। সেই বিয়ে ভাঙার পর থেকে, কল্যাণী পণ করেছে কোনো দিন বিয়ে করবে না। দেশের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করার ব্রতে কল্যাণী ত্যাগ করেছে জাগতিক মোহ। দেশমাতার সেবায়, মেয়েদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। তার এই প্রতিজ্ঞা থেকে কেউ তাকে এক বিন্দু টলাতে পারেনি। কল্যাণীর এভাবে মাতৃভূমির চরণে নিজেকে সঁপে দেওয়া প্রসঙ্গে অনুপম প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি করেছে।
উদ্দীপকের কথকের মনের ভাব 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মনোভাবের সাথে কতটুকু সম্পর্কিত? আলোচনা কর।
উদ্দীপকের কথকের মনের ভাব 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মনোভাবের সাথে পুরোপুরি সম্পর্কিত।
প্রকৃত প্রেম বিনিময় প্রত্যাশী নয়। আর সব প্রেম পরিণয় পর্যন্তও গড়ায় না। তবে তাতে প্রকৃত প্রেমিকের কিছুই যায় আসে না। প্রেমের আগুনে পোড়া মন কেবল ভালোবাসার তৃপ্ততা পেলেই শান্ত হয়। উদ্দীপকের কথক এমনই প্রেমমালা গেঁথেছেন প্রেমিকার তরে। ভীরু প্রেমিকের ক্রন্দন প্রেমিকা বুঝতে অপারগ হবে এটাই স্বাভাবিক, তবে নিজেকে কাঁটা ভেবে তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা সহজেই পাঠক হৃদয়ে উত্তীর্ণ হয়। ধন্য এই প্রেম, ধন্য এই প্রেমিকার জীবন। অনেকটা একই রকম নিষ্কাম প্রেমের মূর্ছনা 'অপরিচিতা' গল্পের পরিণতিকে অনন্য করে তুলেছে।
আলোচ্য গল্পের অনুপমের মনে প্রেমের আবেশ ছড়িয়েছিল তার সাথে বিয়ে হতে যাওয়া কল্যাণী। যৌতুকলোভী মামার সিদ্ধান্ত অধোবদনে মানতে গিয়েই কল্যাণীকে বিয়ে করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে অনুপম। পরবর্তীকালে কল্যাণীর সাথে সাক্ষাৎ হলে অনুপমের মনের সেই আকর্ষণ তীব্র মোহে পরিণত হয়। বিয়ের আশা না করলেও দূর থেকে ভালোবেসে কল্যাণীর পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। দেখা হয়। কণ্ঠ শোনে।
প্রেমিকার মন-মন্দিরে একটুখানি জায়গা পেয়েই সে স্বর্গীয় অনুভূতি লাভ করে। তাই বলা যায়, অনুপমের মনে বয়ে চলা ভাবই যেন কাব্যরূপ পেয়েছে উদ্দীপকের চরণমালায়।
উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের আংশিক ভাব প্রতিফলিত হয়েছে- বিশ্লেষণ কর।
উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের অন্যতম দিক কামনাশূন্য প্রেমিকের বিরহী ভাব প্রতিফলিত হয়েছে মাত্র।
'অপরিচিতা' গল্পটি বিশ শতকের সূচনা লগ্নের সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষাপটে রচিত। এই গল্পে যৌতুক প্রথার ঘৃণিত রূপ যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি আছে এর বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতাও। তবে এসব কিছু ছাপিয়ে গল্পটিকে ভিন্ন মাত্রা এনে দিয়েছে এক ভীরু কাপুরুষের অপরিণত ভালোবাসার উপাখ্যান।
উদ্দীপকে এক আপাত ব্যর্থ প্রেমিক হৃদয়ের হাহাকার ধ্বনিত হয়েছে। মনের অব্যক্ত কান্না আর প্রেমিকার প্রতি অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসাই যার সম্বল। এই প্রেম একমুখী ও দূরাশ্রয়ী, প্রেমিকার বোধের অগম্য। তবে তাতে ভালোবাসার ঘাটতি পড়ে না এতটুকু, কেননা ভালোবাসার জন্ম প্রতিদানের আশা থেকে হয় না। নায়িকা কল্যাণীর প্রতি এমনই সকরুণ প্রেমঘন হৃদয়ের আর্তি প্রকাশ পেয়েছে আলোচ্য গল্পের অনুপমের মনেও। তবে তা গল্পের সামগ্রিক ভাবের অতি ক্ষুদ্রাংশ মাত্র।
আলোচ্য গল্পটির সূচনা এক শিক্ষিত ছেলের ব্যক্তিত্বহীনতা ও পরিবারতন্ত্রের কাছে তার অসহায় নতি স্বীকারের মধ্য দিয়ে। তারপর ধীরে ধীরে বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননার প্রতিবাদ গল্পটির অন্যতম উপজীব্য হয়ে উঠেছে। কন্যার লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে পিতা শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান নতুন এক সময়ের আশু আবির্ভাবকেই সংকেতবহ করে তোলে। গল্পের শেষাংশে কর্মীর ভূমিকায় আত্মপ্রত্যয়ী কল্যাণীর আত্মপ্রকাশও নারী জাগরণের ইঙ্গিতবহ। আর সবশেষে গল্পটি রূপ নিয়েছে মনস্তাপে ভেঙে পড়া এক ব্যক্তিত্বহীন যুবকের অকপট স্বীকারোক্তির অনন্য পঙ্ক্তিমালায়। তার জবানিতে পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার সস্ফুরণ যেমন ঘটেছে, তেমনি নারীর প্রশস্তিও কীর্তিত হয়েছে। সুতরাং বলা যায়, আলোচ্য গল্পের বিস্তৃত কাহিনিপটের অতি সামান্য অংশই উদ্দীপকে বিধৃত হয়েছে।

