• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

কন্যার বাপ সবুর করিতে পারিতেন, কিন্তু বরের বাপ সবুর করিতে চাহিলেন না। তিনি দেখিলেন, মেয়েটির বিবাহের বয়স পার হইয়া গিয়াছে, কিন্তু আর কিছু দিন গেলে সেটাকে ভদ্র বা অভদ্র কোনো রকমে চাপা দিবার সময়টাও পার হইয়া যাইবে। মেয়ের বয়স অবৈধ রকমে বাড়িয়া গিয়াছে বটে, কিন্তু পণের টাকার আপেক্ষিক গুরুত্ব এখনও তাহার চেয়ে কিঞ্চিৎ উপরে আছে, সেই জন্যই তাড়া।

"উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে 'অপরিচিতা' গল্পের খন্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে" উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে 'অপরিচিতা' গল্পের খন্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে- উক্তিটি যথার্থ।

পণপ্রথার ঘৃণিত রূপ উদ্দীপক এবং 'অপরিচিতা' গল্পে সমভাবে দৃশ্যমান। 'কিন্তু গল্পে বর্ণিত এক শিক্ষিত ছেলের ব্যক্তিত্বহীনতা, পরিবারতন্ত্রের কাছে তার নতিস্বীকার এবং এর বিপরীতে গণপ্রথা প্রতিরোধ, দেশাত্মবোধের চেতনা ও নারী জাগরণের চিত্র উদ্দীপকে স্থান পায়নি।

উদ্দীপকের ক্ষুদ্র প্রেক্ষাপটে 'গৌরিদান' ও 'পণপ্রথা'র সকরুণ চিত্র উপস্থাপিত। এখানে নারীর 'অধিক' বয়সকে তার ঘাটতি বা দুর্বলতা এবং পণ প্রদানের ক্ষমতাকে সেই 'ঘাটতি কাটিয়ে উঠার যোগ্যতা' হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ থেকে নারীর স্বকীয়তা বা আত্মপরিচয়ের মহিমা সমাজে কতটুকু স্বীকৃত তা সহজেই অনুমান করা যায়। এক্ষেত্রে সমাজে জেঁকে বসা পণপ্রথা যে পুরুষতন্ত্রেরই হাতিয়ার, নারীত্বের অবমাননার দলিল সে কথাও বুঝে নিতে অসুবিধা হয় না। তবে এ থেকে পরিত্রাণের উপায় উদ্দীপকে বর্ণিত হয়নি। তার জন্য আমাদের দৃষ্টিপাত করতে হবে 'অপরিচিতা' গল্পে। কেননা, সেখানে পণপ্রথার বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথা বলা হয়েছে। বিয়ে উপলক্ষে যৌতুক নিয়ে নারীর চরম অবমাননার প্রতিবাদ গল্পটির অন্যতম উপজীব্য। কন্যার লগ্নভ্রষ্ট হওয়ার লৌকিকতাকে অগ্রাহ্য করে পিতা শম্ভুনাথ সেনের নির্বিকার অথচ বলিষ্ঠ প্রত্যাখ্যান নতুন এক সময়ের আশু আবির্ভাবকেই সংকেতবহ করে তুলেছে। গল্পের শেষাংশে কর্মীর ভূমিকায় আত্মপ্রত্যয়ী কল্যাণীর আত্মপ্রকাশও নারী জাগরণের ইঙ্গিতবহ।
পরিশেষে বলা যায়, 'অপরিচিতা' গল্পটি মনস্তাপে ভেঙে পড়া এক ব্যক্তিত্বহীন যুবকের স্বীকারোক্তির অকপট পঙ্ক্তিমালা। তার জবানিতে পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার সস্মরণ যেমন ঘটেছে, তেমনি নারীর প্রশস্তিও কীর্তিত হয়েছে। আর সমাজচিত্রের এমন বিস্তৃত কাহিনিপট উদ্দীপকে বিধৃত না হওয়ায় প্রশ্নোক্ত কথাটি সম্পূর্ণ যৌক্তিক হিসেবে বিবেচিত হবে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম কী?

অনুপমের পিসতুতো ভাইয়ের নাম বিনু।

#

'অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি' উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।

'অন্নপূর্ণার কোলে গজাননের ছোট ভাইটি' কথাটি যারা অনুপম নিজেকে সুবোধ বালক হিসেবে ব্যক্ত করেছে।

জগতে অনেক মানুষ রয়েছে যাদের বয়স বাড়লেও ছেলেমানুষী ভাব দূর হয় না। নিজের জগৎটা ঘরের অন্দরেই থেকে যায়। পিতৃহারা অনুপম ছোটবেলা থেকে মায়ের কাছে মানুষ হয়েছে। সংসারে প্রাচুর্যের কোনো অভাব ছিল না। সে কোলে কোলেই মানুষ হয়েছে। এজন্য পরিণত বয়সেও সে কোলের শিশুর মতো রয়ে গেছে। বিয়ের জন্য এ ধরনের বালকসুলভ আচরণ যথোপযুক্ত নয়। এজন্য সুবোধ বালকের এ গুণটিকে ব্যঙ্গ করে অনুপম আলোচ্য উক্তিটির অবতারণা করেছে। অর্থাৎ গজাননের কোলের ভাই যেমন যুদ্ধ সৈনিক হতে পারে না, তেমনি আলোচ্য উক্তি দ্বারা বোঝা যায়, অনুপমও বিয়ের জন্য সুপাত্র নয়, মানুষ হিসেবে সুবোধ বালক মাত্র।

#

উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামার সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।

পণলোভী মানসিকতার দিক দিয়ে মিল থাকলেও খুঁতখুঁতে স্বভাব, কর্তৃত্বপরায়ণতা, পরকে ঠকিয়ে নিজে জিতার প্রবণতা প্রভৃতি দিক দিয়ে উদ্দীপকের বরের বাপের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামার অমিল রয়েছে।

বিয়ে এমন এক সামাজিক রীতি, যা যথাসময়ে সম্পন্ন হওয়াই উত্তম। তবে এ শাশ্বত নিয়মে বাধ সাধে যৌতুক নামক এক সর্বনাশা ব্যাধি। তাছাড়া মহার্ঘ বরের হাটে যোগ্য বর খুঁজে পেতেও কন্যার বাবাকে হিমশিম খেতে হয়। আর যদি বরের অভিভাবকগণ হন যৌতুকলোভী, কর্তৃত্বপরায়ণ ও খুঁতখুঁতে মেজাজের তাহলে তো ভোগান্তির কোনো অন্তই থাকে না। উদ্দীপকের বরের বাবা ও আলোচ্য গল্পের মামা এমন চরিত্রের অধিকারী দুই ব্যক্তি।'

এক সময়ে কন্যাদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার রীতি ছিল। বিয়ের বাজারে বয়স্ক মেয়েদের মূল্য ছিল সবচেয়ে কম। তবে চাহিদানুযায়ী যৌতুক দিতে পারলে বেশি বয়সী মেয়েদের বিয়ে দিতে সমস্যা হতো না। বরের বাবা যৌতুকের লোভে বয়স্কা মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিতো। 'অপরিচিতা' গল্পের মামাও পাত্রীর বয়স বেশি দেখে, বেশি পণ পাবার লোভে অনুপমের বিয়েতে রাজি হন। উদ্দীপকের বরের বাপের ক্ষেত্রেও অনুরূপ মানসিকতা দৃশ্যমান। আর অধিক পণ প্রাপ্তির যে নেশা সেদিক থেকে বরের বাপ ও অনুপমের মামার মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে। তবে মামার চরিত্রের সামগ্রিকতা বরের বাপের চরিত্রে ফুটে উঠেনি। প্রথমত, মামা ছিলেন কর্তৃত্বপরায়ণ স্বভাবের। পারিবারিক সিদ্ধান্তের দায়িত্ব মামার একার। তাছাড়া মামা ছিল খুঁতখুঁতে স্বভাবের। তিনি স্বর্ণ পরখ করার জন্য বিয়ের আসরেই সেকরা নিয়ে আসেন। কন্যার বাপ যেনো তাদের না ঠকাতে পারে সে জন্য তিনি সদা সজাগ। পণ হিসেবে কী কী দেওয়ার কথা ছিল এবং কী দিচ্ছেন তার সবই তিনি খাতায় লিখে রাখেন। সবুর করে চলার মানসিকতাও অনুপমের মামার চরিত্রের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য। অনুপমের তাড়া উপেক্ষা করেও মামা অপেক্ষা করেন মনের মতো পরিবারের জন্য। সুতরাং বলা যায়, পাত্রীপক্ষের সম্পদের প্রতি লোভী মানসিতার দিক থেকে উদ্দীপকের বরের বাবা এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মামার মধ্যে মিল থাকলেও মামার অন্যান্য চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য উদ্দীপকের বাবার মাঝে অনুপস্থিত।