• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

ডাক্তার অপূর্ব রংপুর বাসস্টপেজে দাঁড়িয়ে দেখতে পেলেন একটি স্কুল বাসে একজন শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের ছড়া গান শেখাতে শেখাতে নিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষিকাকে তার চেনা চেনা মনে হলো। তার সঙ্গেই কি অপূর্বের বিয়ে হবার কথা ছিল? অপূর্বের কৌতূহল আর কোলাহলের মধ্যেই বাসটি চলে গেল। শিক্ষিকাকে দেখে মনে হলো স্বাধীনচেতা ও ব্যক্তিত্বময়ী। ডাক্তার অপূর্বের মনে পড়লো সেই বিখ্যাত গানের গলি: আমার বলার কিছু ছিল না।

ডাক্তার অপূর্ব এবং অপরিচিতা গল্পের অনুপম যেদিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।

বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর বাগদত্তার সাথে পুনর্বার সাক্ষাতে হৃদয় ক্ষতবিক্ষত হওয়ার দিক থেকে ডাক্তার অপূর্ব এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম সাদৃশ্যপূর্ণ।

সব পুরুষেরই মনের মতো কাউকে স্ত্রী রূপে পাওয়ার স্বপ্ন থাকে। এমন নারীকে বাগদত্তা হিসেবে পেলে সেই স্বপ্ন মনের মধ্যে আরও ডালপালা ছড়ায় বৈকি। কিন্তু কোনো কারণে যদি' বিয়ে ভেঙে যায়, তাহলে সেই পুরুষের হৃদয় ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। আলোচ্য উদ্দীপকের ডাক্তার অপূর্ব এবং গল্পের অনুপমও এমনই পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।

উদ্দীপকের ঘটনাচিত্রে পূর্ব বাগদত্তার সাথে ডাক্তার অপূর্বের আচম্বিত সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ উপস্থাপিত হয়েছে। সেই কাঙিক্ষত অপরিচিতা, যে কিনা তার অধরাই রয়ে গেল, সে এখন একজন শিক্ষিকা। তার সপ্রতিভ আচরণ ও ব্যক্তিত্বে ডাক্তার অপূর্ব মুখ না হয়ে পারেননি। তার মনের কোণে উকি দেওয়া গানের কলি "আমার বলার কিছু ছিল না" তার মনের হাহাকার ও অক্ষমতার কথাই প্রকাশ করে। গল্পের অনুপমের মনেও ঠিক এমনই মুখতার আবেশ ছড়িয়েছিল তার সাথে বিয়ে হতে যাওয়া কল্যাণী। যৌতুকলোভী মামার সিদ্ধান্ত অধোবদনে মানতে গিয়েই কল্যাণীকে বিয়ে করা থেকে বঞ্চিত হয়েছে অনুপম। কিন্তু কল্যাণীকে সে কিছুতেই ভুলতে পারেনি। মায়ের সাথে তীর্থভ্রমণে গিয়ে ট্রেনে কল্যাণীর সাথে দেখা হলে অনুপমের মনের সেই আকর্ষণ তীব্র মোহে পরিণত হয়। তাই বলা যায়, ঘরের স্ত্রী হওয়ার কথা ছিল যার, তাকে মনের প্রেমিকা ভেবে মনস্তাপে পোড়ার দিকটি ডাক্তার অপূর্ব এবং গল্পের অনুপমকে এক সারিতে দাঁড় করিয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()