- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার পাঠ শেষ করতে করতেই আমার বোনের অনেক বয়স হয়ে যায়। তিন তিনবার তার বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যাবার পর কেমন যেন হতাশ হয়ে পড়ি। একদিন তাকে ডেকে বলি, 'সানজিদা, কাল-বাসায় একটি নতুন বরপক্ষ তোকে দেখতে আসবে।' শুনে ওর চেহারা কঠিন হয়ে ওঠে, বলে, 'তুই শুধু শুধু ব্যস্ত হচ্ছিস তপন, প্রতিবন্ধীদের নিয়ে আমার যা কাজ তা জীবনভর শেষ হবার নয়'।
উদ্দীপকটিতে 'অপরিচিতা' গল্পের মূল বক্তব্য কতটুকু প্রতিফলিত হয়েছে?
উদ্দীপকটিতে 'অপরিচিতা' গল্পের মূল বক্তব্যের আংশিক প্রতিফলন ঘটেছে।
'অপরিচিতা' গল্পটি বিশ শতকের সূচনালগ্নের সমাজবাস্তবতার প্রেক্ষাপটে রচিত। এই গল্পে যৌতুক প্রথার ঘৃণিত রূপ যেমন ফুটে উঠেছে, তেমনি আছে এর বিরুদ্ধে নারী-পুরুষের সম্মিলিত প্রতিরোধের কথকতাও।' তবে এসব কিছু ছাপিয়ে গল্পটির মূল বক্তব্য হিসেবে পুরুষতন্ত্রের অমানবিকতার বিরুদ্ধে নারী জাগরণের বার্তাই স্পষ্ট হয়ে উঠে। উদ্দীপকের নারী অবমাননার বিরুদ্ধে সানজিদার প্রতিবাদ এই বক্তব্যের একটি বিশেষ দিক তুলে ধরে।
উদ্দীপকের উচ্চ শিক্ষিত সানজিদার তিন তিনবার বিয়ে ঠিক হলেও প্রতিবারই তা ভেঙে যায়। বর্তমান পৃথিবী একবিংশ শতকে প্রবেশ করলেও পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতায় যে খুব একটা পরিবর্তন আসেনি এই ঘটনাই তার প্রমাণ। কেননা, আজও কনের শিক্ষা-দীক্ষাকে নয়, বয়স কম থাকাকেই অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়। তা ছাড়া নারীর শিক্ষা তার আত্মনির্ভরতার শক্তি, আর একই কারণে তা পুরুষতন্ত্রের পক্ষে কাঁটা। উদ্দীপকের সানজিদা বার বার নারীত্বের অবমাননা সয়েও বরপক্ষের মুখোমুখি হয়েছে আর অপমানের নীল যন্ত্রণায় পুড়েছে। তাই এই বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সে আত্মনির্ভরশীল হওয়ার দীক্ষা নিয়েছে। প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করে বাকি জীবনটুকু কাটিয়ে দিতে চায় সে। সানজিদার এই দেশচেতনা ও আত্মাভিমান ভবিষ্যতের নতুন নারীর ইঙ্গিতবহ। 'অপরিচিতা' গল্পটিও এক নারীর দেশচেতনায় ঋদ্ধ ব্যক্তিত্বের জাগরণের মধ্য দিয়ে নতুন এক সময়ের আশু আবির্ভাবের সংকেতবহ হয়ে উঠেছে। কিন্তু গল্পটিতে তার এই জাগরণের পটভূমি রূপে পুরুষতন্ত্রের যে অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ ঘটানো হয়েছে তা উদ্দীপকে অনুপস্থিত। যৌতুক নিয়ে কল্যাণীর চরম অবমাননাকালে তার ব্যক্তিত্বরহিত বর পরিবারতন্ত্রের কাছে অসহায় পুতুল হয়ে থেকেছে। নিঃসন্দেহে এই যৌতুক প্রথা পুরুষতন্ত্রেরই এক নির্মম হাতিয়ার, যার কোনো উল্লেখ উদ্দীপকে পাওয়া যায় না।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকটিতে 'অপরিচিতা' গল্পের একটি বিশেষ ভাব উঠে এলেও এর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য প্রতিফলিত হয়নি।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
কাকে 'মাকাল ফল' বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে?
অনুপমকে 'মাকাল ফল' বলে বিদ্রূপ করা হয়েছে।
অনুপমের বিবাহ যাত্রার বর্ণনা দাও।
অনুপমের বিবাহ যাত্রা খুবই আড়ম্বরপূর্ণ ও কোলাহলময় ছিল।
অজস্র বরযাত্রী নিয়ে ব্যান্ড, বাঁশি, শখের কন্সর্ট বাজাতে বাজাতে বরবেশে অনুপম বিবাহ-বাড়িতে গিয়ে উপস্থিত হয়। আর্থটিতে হারেতে জরি-জহরাতে বরের পুরো শরীর আবৃত ছিল। অর্থাৎ অনুপমের বিবাহ যাত্রায় তাদের পরিবার যে ধনে- মানে শহরের কারও চেয়ে কম নয়, সেটি দেখানোর আগ্রহ ছিল। তা ছাড়া ভাবী শ্বশুর যেন জামাইয়ের মূল্য নির্ধারণে ভুল না করেন সে প্রচেষ্টাও কম ছিল না। তবে অনুপমের কাছে একে সুরশূন্য কোলাহল সহযোগে তার নিজের শরীরকে গহনার দোকান সাজিয়ে নিলামে চড়ানোর মতো মনে হয়েছে। তার এমন অনুভবে এই বিবাহ যাত্রার অন্তঃসারশূন্যতাই স্পষ্ট হয়।
উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্যগুলো আলোচনা কর।
দেশচেতনায় ঋদ্ধ হয়ে সংসারধর্ম উপেক্ষা করার দিক থেকে সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর জীবননাট্যের ঘটনা প্রবাহে বৈসাদৃশ্যও কম নয়।
আমাদের সমাজে যথাসময়ে নারীদের বিয়ে হওয়াই বাঞ্ছনীয়। নতুবা বিদ্যমান পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা তার স্বনির্ধারিত 'বয়স সীমা' অতিক্রম করার দায়ে 'আইবড়ো' তকমা লাগিয়ে দেবে এবং তাকে সমাজচ্যুত করার প্রচেষ্টা চালাবে। তথাপি কিছু কিছু নারী এই বাধ্যবাধকতা জয় করার দুঃসাহস দেখান এবং পুরুষতান্ত্রিকতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্বীয় লক্ষ্যে অবিচল থাকেন। উদ্দীপকের সানজিদা এবং গল্পের কল্যাণী এমনই দুই নারী। তবে দুজন দুই শতাব্দীর এবং ভিন্ন ব্যক্তিসত্তার অধিকারী হওয়ায় তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্যও সূচিত হয়েছে।
উদ্দীপকের সানজিদা উচ্চশিক্ষিত এবং আধুনিক মেয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশুনার পাঠ শেষ করতে করতে তার বয়স অনেক বেড়ে যায়। তারপর তার বিয়ের চেষ্টা করা হলে বরপক্ষ তার শিক্ষাকে নয়, বয়সকে প্রাধান্য দেয়। ফলে দেখা যায়, তিন তিনবার তার বিয়ের সম্বন্ধ ভেঙে যায়। এতে তার পরিবার একটু হতাশ হয়ে পড়লেও চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে। যে কারণে একটি নতুন বরপক্ষ সানজিদাকে দেখতে আসার কথা জানায়। কিন্তু ইতোমধ্যেই অপমানে অপমানে সানজিদা বিয়ের সংকল্প ত্যাগ করে মানবসেবায় ব্রতী হওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়েছে। জীবনের বাকি সময়টুকু সে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করতে চায়। তারই মতো পথের পথিক গল্পের কল্যাণীও। তবে তার একবারই বিয়ে ঠিক হয়, যা ভেঙে গেলে সে আর বিয়ে না করার সংকল্প নেয়। তা ছাড়া সে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশকের মেয়ে, সানজিদার মতো অত লেখাপড়ার সুযোগ পায়নি। তবু সমাজের নারীদের অবস্থান পাল্টাতে তাদের শিক্ষার ব্রত নিয়ে বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চায়। সুতরাং দেখা যায়, উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য দুটোই রয়েছে।

