• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

কারো ঘর ভাঙে ঝড়ে
কারো সংসার পুড়ে যায় যৌতুকের আগুনে।
কেউ করে হায় হায়, বাপ-মা কাঁদে
মেয়েকে বিয়ে দিতে হয়-পড়ে যৌতুকের ফাঁদে।
করবে না বিয়ে সোনালি নিজেকে করে পণ্য
এটা তার পণ সোনালি জীবনের জন্য।

উদ্দীপকের সোনালি 'অপরিচিতা' গল্পের কোন চরিত্রকে ইঙ্গিত করে? বর্ণনা কর।

উদ্দীপকের সোনালি 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী চরিত্রকে ইঙ্গিত করে।

বর্তমান সমাজের এক ভয়াবহ ব্যাধির নাম যৌতুক। যার ছোবলে নারীরা দংশিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অনেক সংসার এর আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে। যৌতুকের দাবি পূরণ করতে গিয়ে অনেক পরিবার হয়েছে নিঃস্ব। উদ্দীপকের সোনালি ও 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী যৌতুকের নিঠুর ছোবলে আক্রান্ত হলেও তারা প্রতিবাদ করেছে সমাজের এ ঘৃণ্য প্রথার বিরুদ্ধে।

উদ্দীপকের সোনালি যৌতুকের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ করেছে। যৌতুকের পরিণাম যে ভয়াবহ সেটা সে উপলব্ধি করতে পেরেছে। তাই তো সে পণ করে যৌতুক দিয়ে নিজের আত্মসম্মান বিকিয়ে দেবে না। প্রয়োজনে সারাটা জীবন একা একাই কাটিয়ে দিবে তবুও সে নিজেকে পণ্য করতে রাজি নয়। 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীও এমনই একটি প্রতিবাদী চরিত্র। সে-ও যৌতুকের নির্মম প্রথার শিকার। বিয়ের দিন তার বিয়ে ভেঙে যায়। সে প্রতিজ্ঞা করে আর বিয়ে করবে না। কারণ যৌতুক সমাজের জন্য ক্ষতিকর। সে লোভী মানুষগুলোকে ঘৃণা করে নতুন করে বাঁচতে শেখে। দেশ সেবায় ব্রতী হয়। সমাজ থেকে যৌতুক নামক ব্যাধি তাড়াতে সে নারী শিক্ষা বিস্তারে মনোযোগী হয়। তাই বলা যায়, যৌতুকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে উদ্দীপকের সোনালি যেন 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীরই প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

'অপরিচিতা' গল্পে কন্যাকে কী দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল?

'অপরিচিতা' গল্পে কন্যাকে এয়ারিং দিয়ে আশীর্বাদ করা হয়েছিল।

#

"কিন্তু ভাগ্য আমার ভালো, এই তো আমি জায়গা পাইয়াছি"- বক্তার এমন অনুভূতির কারণ বুঝিয়ে লেখ।

প্রশ্নোক্ত উক্তিটিতে কল্যাণীর পাশে একটু জায়গা পাওয়ায় অনুপমের স্বস্তির তৃপ্ততা প্রকাশ পেয়েছে।

অনুপম ও কল্যাণীর বিয়ে হওয়ার কথা থাকলেও অনুপমের মামার গুরুতর অসদাচরণে বিয়ে ভেঙে যায়। অনুপম কল্যাণীর দেখা এক মুহূর্তের জন্যও পায়নি। যেদিন থেকে কল্যাণীর নাম শুনেছে সেদিন থেকে অনুপম তাকে ভালোবেসে ফেলেছে। সবশেষে রেল স্টেশনে কল্যাণীকে দেখে অনুপম তার কণ্ঠ ও রূপ মাধুর্যে অভিভূত হয়ে যায়। কিন্তু কল্যাণী নারী সেবার ব্রত নিয়ে বিয়ে না করার পণ করে। তাই অনুপম প্রিয় ও ভালোবাসার মানুষটির কাছে থেকে তাকে সাহায্য করার জন্য পাশাপাশি থাকার চেষ্টা করে। আর এই স্থানই তার কাছে পরম তৃপ্ততার।

#

"উদ্দীপকে নিহিত সামাজিক কাঠামো এবং 'অপরিচিতা' গল্পের সামাজিক পটভূমি সাদৃশ্যযুক্ত"- তোমার যুক্তিসহ মন্তব্যটি যাচাই কর।

"উদ্দীপকে নিহিত সামাজিক কাঠামো এবং 'অপরিচিতা' গল্পের সামাজিক পটভূমি সাদৃশ্যযুক্ত"- মন্তব্যটি যথার্থ।

কাল পরিক্রমায় চলে আসা যৌতুক প্রথা বর্তমান সমাজ বাস্তবতায় ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। এ কারণে সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটে প্রতিনিয়ত। সমাজের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় এটা সুস্পষ্ট যে 'অপরিচিতা' গল্পে উপস্থাপিত যৌতুক প্রথার ঘৃণিত চর্চা এখনো থেমে নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে এ বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। যা প্রতিটি নারীর জীবনে বয়ে আনে নিষ্ঠুর ভয়াবহতা। এ ধরনের সমাজ চিত্রই অঙ্কিত হয়েছে 'অপরিচিতা' গল্প ও উদ্দীপকের ঘটনায়।

সমাজে প্রচলিত বর্বরতম প্রথাগুলোর মধ্যে যৌতুক অন্যতম। এ ঘৃণ্য প্রথার কারণে হাজারো নারীর জীবন অংকুরেই ঝরে গেছে। বেঁচে থাকলেও জীবন হয়ে উঠে নরকময়। সংসার জীবনে নেমে আসে অশান্তির কালো ছায়া। যৌতুকের এ নিঠুর প্রথার কারণে সমাজে এক অঘোষিত নিয়ম চালু হয়েছে, যেখানে বরপক্ষ যৌতুক ছাড়া বিয়ের কথা চিন্তাই করতে পারে না। আর সমাজের এ ঘৃণ্য প্রথার কারণে মেয়ে পক্ষও যেন মেয়েদের পণ্য করে বাজারে বিক্রির জন্য জামাইরূপী ক্রেতার সন্ধানে ব্যতিব্যস্ত। উদ্দীপকে এ সমাজ বাস্তবতার বর্বর চিত্রই প্রতিফলিত হেেছ। তুলে ধরা হয়েছে যৌতুকের নৃশংসতা নৃশংসতা ও ভয়াবহতা। যৌতুকের ফাঁদে পড়ে ঘুরপাক খাওয়া সোনালির পরিবারের নিঠুর বাস্তবাতা। তদ্রুপ 'অপরিচিতা' গল্পেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তৎকালীন সমাজে আসন গেড়ে বসা নির্মম যৌতুক প্রথার ভয়ংকর ছোবলের স্বরূপ ফুটিয়ে তুলেছেন সুনিপুণতায়। গল্পে উঠে এসেছে যৌতুক লোভী পরিবারের নৃশংস আচরণ। যেখানে যৌতুকের বলি হতে হয়েছে কল্যাণীকে। তৎকালীন সমাজে এ চিত্র স্বাভাবিক ছিল। কারণ বিয়তে যৌতুক নেওয়া সামাজিক নিয়মে পরিণত হয়েছিল যা বর্তমানেও শিকড় গেড়ে আছে আমাদের সমাজে। আমাদের সমাজের পশুর ন্যায় মানুষগুলোও এটি সমর্থন করছে আনন্দচিত্তে।

উপর্যুক্ত আলোচনা শেষে বলা যায়, উদ্দীপকে নিহিত সামাজিক কাঠামো এবং অপরিচিতা গল্পের সামাজিক কাঠামো একই সূত্রে গ্রথিত।