- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
'পদ্মরাগ' উপন্যাসের প্রধান চরিত্র সিদ্দিকা। ব্যারিস্টার লতিফ আলমাসের সঙ্গে তার বিয়ের কথা পাকা হয়। লতিফের চাচার ছিল সম্পদের লোভ কিন্তু সিদ্দিকার বড় ভাই সোলেমান তার বোনকে সম্পত্তি লিখে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তাই চাচা লতিফ আলমাসকে অন্য এক বিত্তশালী বিধবার কন্যার সঙ্গে বিয়ে দেন। অনেক ঘটনা-দুর্ঘটনার পর সিদ্দিকার সঙ্গে লতিফের যখন দেখা হয় তখন বিপত্নীক লতিফ সিদ্দিকাকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সিদ্দিকা সবকিছু জানার পর লতিফকে ক্ষমা করে কিন্তু সংসার করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। কারণ ততদিনে সে নারী মুক্তির লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রমে জড়িত হয়ে জীবনের উদ্দেশ্যকে বদলে ফেলেছে।
উদ্দীপকের চাচার সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের কোন চরিত্রটি তুলনীয়?- আলোচনা কর।
উদ্দীপকের চাচার সঙ্গে 'অপরিচিতা' গল্পের কথক অনুপমের মামার চরিত্রটি তুলনীয়।
সকল সমাজেই কতিপয় যৌতুকলোভী স্বার্থান্ধ মানুষ দেখা যায়, যারা যৌতুককে তাদের ন্যায্য হিস্যা ভাবে। যৌতুক আদায় করতে তারা যে কোনো হীন পন্থা অবলম্বন করতেও কুণ্ঠাবোধ করে না। উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পে এমনই দুজন স্বার্থান্বেষী নীচ চরিত্রের দেখা মিলে।
উদ্দীপকের লতিফের চাচা সম্পদলোভী। লোভে অন্ধ হয়ে সে পাত্রী সিদ্দিকার বড় ভাই সোলেমানকে বলে বিয়ের আগেই বোনের সম্পত্তি লিখে দিতে। কিন্তু সোলেমান এই প্রস্তাবে অনীহা প্রকাশ করে। ফলে বিয়ে ভেঙে যায়। অনুরূপ লোভী মানসিকতাসম্পন্ন ব্যক্তি 'অপরিচিতা' গল্পেও লক্ষণীয়। গল্পের নায়ক অনুপমের একমাত্র কার্যকর অভিভাবক তার মামা। যৌতুকের লোভে সে এতই অন্ধ যে বিয়ের পূর্বেই কন্যার গয়না পরীক্ষা করে দেখতে চায়। আর গয়না পরীক্ষা করতে সে সাথে করে বিয়ের আসরে স্বর্ণকার নিয়ে আসে। এভাবে বিয়েটাকে সে দুটি প্রাণের মিলন না ভেবে যৌতুক প্রাপ্তির উপলক্ষ করে তুলেছে। তাই উদ্দীপকের চাচাকে তার প্রতিবিম্ব স্বরূপ বিবেচনা করা যায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
অনুপমের পিতার পেশা কী ছিল?
অনুপমের পিতার পেশা ছিল ওকালতি।
'ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন'-বুঝিয়ে দাও।
'ঠাট্টা তো আপনিই করিয়া সারিয়াছেন'-বক্তব্যটি এক আত্মভিমানী পিতৃহৃদয়ের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের স্বতঃস্ফূর্ত বহিঃপ্রকাশ।
বিয়ের আসরে বরপক্ষের লোভী ও হীন মানসিকতায় কল্যাণীর বাবা শম্ভুনাথ যেন যারপরনাই বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। যৌতুকলোভী বরের মামা কনের স্বর্ণ পরীক্ষার জন্য বিয়ের দিনই স্বর্ণকার নিয়ে আসে, যা তার নিচু মানসিকতার পরিচায়ক। এমন সংকীর্ণচেতা পরিবারে কন্যা সম্প্রদানে শম্ভুনাথ বাবুর মন সায় দেয় না। নিতান্তই শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় তিনি ধীর, চঞ্চলতাশূন্য ও বলিষ্ঠ কণ্ঠে বরপক্ষকে বিদেয় হতে বললে বরের মামা ঠাট্টা করা হচ্ছে কিনা জানতে চায়। আর তখনই কল্যাণীর বাবা ক্ষুদ্ধ হয়ে প্রশ্নোক্ত উক্তিটি করেন।
"প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের মূল লক্ষ্য একই।" -বিশ্লেষণ কর।
প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের মূল লক্ষ্য যৌতুক প্রথার কুফল সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি।
সমাজে প্রচলিত বর্বরতম প্রথাগুলোর মধ্যে যৌতুক একটি। এর কারণে হাজারো নিষ্পাপ মেয়ের জীবন নরকসম হয়ে উঠেছে। তাদের জীবনে নেমে এসেছে অশান্তির কালো ছায়া। আবার অনেক নরপিশাচ অভিভাবক কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ যৌতুক বুঝে না গেলে বিয়ের আসর থেকেই পাত্রকে নিয়ে চলে যায়।
অভিভাবকদের এরূপ কশাইসুলভ আচরণ দেখেও অনেক ব্যক্তিত্বরহিত পাত্র নির্বিকার থাকে, যা দেখে সচেতন ব্যক্তিমাত্রই ব্যথিত হয়। কিছুটা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে হলেও যৌতুক প্রথার বিষময় চিত্র আমরা লক্ষ করি উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পে।
উদ্দীপকের লতিফ আলমাসের চাচা হীন মানসিকতাসম্পন্ন ও লোভী প্রকৃতির। পাত্র লতিফ আলমাস ও পাত্রী সিদ্দিকার বিয়ের কথা পাকা। কিন্তু সেখানে বাধ সাধে পাত্রের চাচা, তার কথা পাত্রীকে সম্পদ লিখে দিতে হবে। কিন্তু পাত্রীর বড় ভাই সোলেমান তার বোনকে সম্পত্তি লিখে দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। যার ফলে বিয়ে ভেঙে যায় এবং পরবর্তীতে লতিফ আরেক বিত্তশালীর কন্যাকে ঘরে আনে। এক পর্যায়ে তার স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সে সিদ্দিকাকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সিদ্দিকা ইতোমধ্যে তার জীবনের গতিপথ পান্ট নারী মুক্তি আন্দোলনে ব্রতী হওয়ায় তার এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। অনুরূপ চিত্র আমরা 'অপরিচিতা' গল্পেও প্রত্যক্ষ করি। গল্পে অনুপম ও কল্যাণীর বিয়ে ঠিক হলেও অনুপমের মামার হীন্ মানসিকতার কারণে কল্যাণীর বাবা সে বিয়ে ভেঙে দেয়। কারণ হবু আত্মীয়কে অবিশ্বাস করে যে লোক বিয়ে বাড়িতে স্বর্ণ পরীক্ষার উদ্দেশ্যে স্বর্ণকার আনতে পারে তার বাড়িতে আর যাই হোক মেয়ে সুখ পাবে না। এ সময়ে পাত্রকেও পুতুলবৎ আচরণ করতে দেখা যায়, যা পাঠককুলকে আরও মর্মাহত করে।
পরবর্তীতে কোনো একসময় দেখা হলে অনুপম কল্যাণীকে পুনরায় বিয়ের প্রস্তাব দেয়, কিন্তু কল্যাণী সে প্রস্তাব ফিরিয়ে দেয়। এভাবেই গল্পের করুণ সমাপ্তি ঘটে।
উপর্যুক্ত আলোচনার পরিশেষে তাই নিঃসন্দেহে প্রতিভাত হয় যে, উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্প উভয়ক্ষেত্রে যৌতুক প্রথার বিরুদ্ধে পাত্রীর যে দৃঢ় অবস্থান তা আমাদের মনে আশার সঞ্চার করে। তাই বলা যায় যে, প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও 'অপরিচিতা' গল্পের মূল লক্ষ্য একই।

