- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
এম. এ পাস রফিক বন্ধুদের সঙ্গে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথাবার্তা বলার সময় বলে নিজের পায়ে না দাঁড়িয়ে বিয়ে নয়। কিন্তু পিতৃহীন রফিক চাচার সিদ্ধান্তের বাইরে যেতে পারে না। পর সম্পদ লোভী চাচার আদেশে তাকে বিয়ের পিড়িতে বসতে হয়। নিজের মতামত প্রকাশের মানসিক দৃঢ়তা না থাকার কারণে বিয়ে বাড়িতে যৌতুকের মালামাল নিয়ে লোভী চাচার প্রশ্নের কারণে বিয়ে ভেঙে যায়। রফিকও চাচার পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিয়ে বাড়ি থেকে অসহায়ের মতো চলে আসে।
দৃঢ়তার অভাবে রফিক নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে চাচার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে-'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে এ সিদ্ধান্তের সাথে তুমি কি একমত?
উদ্দীপকের রফিক ও 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপম উভয়েরই সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ়তার অভাব রয়েছে।
মত প্রকাশের দৃঢ়তা মানুষের ব্যক্তিত্বকে ফুটিয়ে তোলে আর ব্যক্তিত্বই মানুষের গুণাবলির প্রকাশ ঘটায়। যার উন্মাদনায় মানুষ অন্যায়ের প্রতিবাদ করে। অন্যায়কে অন্যায় বলে তা প্রত্যাখ্যান করে কিন্তু মত প্রকাশের দৃঢ়তা না থাকলে মানুষ অনেকটা খেলার পুতুলে পরিণত হয়। অন্যের মতানুযায়ী তার আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রিত হয়। যেমনটি লক্ষ করা যায় উদ্দীপকের রফিক এবং 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মধ্যে।
উদ্দীপকের রফিক ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে চাচার উপর নির্ভরশীল। অন্যায় জেনেও সে যেমন এর প্রতিবাদ করতে পারেনি, তেমনি নিজের ক্যারিয়ার গড়ার বিষয়েও শক্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে পারে নি। 'অপরিচিতা' গল্পের অনুপমের মধ্যেও এই ধরনের মানসিকতা লক্ষ করা যায়। বিয়ের পাত্রীকে দেখার ইচ্ছা করলেও সে মামাকে বলতে পারেনি। আবার যৌতুকের বিষয়ে লোভী মামার হীন মানসিকতাকে ধিক্কার জানাতে পারেনি। বরং সব জেনেও মামার সিদ্ধান্তে নীরব সম্মতি জ্ঞাপন করেছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, উদ্দীপকের রফিক এবং গল্পের অনুপম উভয়ের মধ্যেই চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব রয়েছে। শিক্ষিত মানুষ হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের মধ্যকার ন্যায়-নৈতিকতা জাগাতে পারে নি। যার ফলে তারা উভয়ই অন্যের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে দ্বিধাবোধ করেনি। মূলত, রফিক ও অনুপম চরিত্র দু'টি একই মুদ্রার দুই পিঠ।

