• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • অপরিচিতা [গদ্য]
অপরিচিতা [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

এস.এস.সি পরীক্ষার কিছুদিন পূর্বে গ্রামের দুর্নীতিপরায়ণ চেয়ারম্যান পুত্রের সঙ্গে বুমার বিবাহ ঠিক করেন তারা বাবা। কিন্তু রুমা সুকৌশলে বিবাহ সভা থেকে উঠে থানা শিক্ষা অফিসারের সহায়তায় বিবাহের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। বর্তমানে রুমা কলেজে পড়ছে এবং ইন্টারনেটের মাধ্যমে গ্রামের দুঃস্থ ও বেকার মহিলাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করছে।

উদ্দীপকের সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে?

সমাজকল্যাণমূলক কাজ করার দিক থেকে উদ্দীপকের রুমার সাথে "অপরিচিতা" গল্পের কল্যাণীর মিল রয়েছে।

সমাজে সমতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য যে সামাজিক কাজগুলো করা হয় তা-ই সমাজকল্যাণমূলক কাজ। নারী শিক্ষা, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর কর্মসংস্থান প্রভৃতি সমাজকল্যাণমূলক কাজের অংশ। উদ্দীপকের রুমা ও 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী উভয়েই সমাজকল্যাণমূলক এই কাজগুলো করে উদ্দীপকের সাথে গল্পের সেতুবন্ধন রচনা করেছে।

'অপরিচিতা' গল্পে কল্যাণীর বিয়ের দিন বরপক্ষের অসদাচরণের জন্য তার বাবা শম্ভুনাথ বিয়ে ভেঙে দেন। বিয়ে ভাঙার পর পাত্রী কল্যাণীর জীবনে অনেক বড় পরিবর্তন ঘটে। তার মধ্যে শুচিশুভ্র আত্মপ্রকাশ লক্ষ করা যায়। কল্যাণী নারী জাগরণে আত্মনিয়োগ করে। নারী শিক্ষার ব্রত গ্রহণ করে সে সমাজের নারীদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হয়। গল্পের শেষে অনুপম তার নিকট ফিরে এলেও কল্যাণী দৃঢ়চিত্তে তা প্রত্যাখ্যান করে। নারী শিক্ষার ব্রত নিয়ে সে সমাজকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসে। অনুরূপ চিত্র রুমার ক্ষেত্রেও দেখা যায়। রুমার বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর সে সমাজকল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসে। নিজের পড়ালেখার পাশাপাশি সে গ্রামের দুঃস্থ ও অবহেলিত নারীদের পাশে এসে দাঁড়ায়। ইন্টারনেটের মাধ্যমে তাদের জীবিকা অর্জনের পথ তৈরি করে। এ দিকে যেমন তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে অন্যদিকে তাদের ক্ষমতায়নে ভূমিকা রেখেছে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, উদ্দীপকের রুমা এবং 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী উভয়েই সমাজের অবহেলিত নারীদের পাশে এসে একই সারিতে দাঁড়িয়েছে।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

মনু সংহিতা কী?

মনুসংহিতা হলো মনু প্রণীত মানুষের আচরণবিধি সংক্রান্ত গ্রন্থ।

#

ধনীর মেয়ে মামার পছন্দ নয় কেন?

ভাগনে বউকে সারাজীবন যেন দাসী বানিয়ে রাখতে পারে সেই বাসনায় ভাগনের বউ হিসেবে মামার ধনী কনে পছন্দ নয়।

অনুপমের পরিবারে তার মামাই সব। মামার সিদ্ধান্তে তার পরিবারের সকল কাজ হয়। সঙ্গত কারণে অনুপমের জন্য কনে বাছাইয়ের দায়িত্বও তার উপর বর্তায়। অনুপমের জন্য মামা তাই এমন কনে চান যে সারা জীবন নত মাথায় তাদের সকল আদেশ পালন করবে। পরিবারের সকলকে সমীহ করবে। কোনোকিছুতেই প্রতিবাদ করবে না। কখনো কোনো বিষয়ে উচ্চবাচ্য করবে না। কিন্তু ধনী মেয়ের ক্ষেত্রে এই বিষয়গুলো বাস্তবায়নে সমস্যা হতে পারে। তাই মামা অনুপম কনে হিসেবে ধনী মেয়ে পছন্দ করেন না।

#

'অপরিচিতা' গল্পের পুরো ভাব উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে কি? বিশ্লেষণ কর।

'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর চিন্তা চেতনার সাথে উদ্দীপকের রুমার চিন্তা চেতনার মিল থাকলেও উদ্দীপকটিতে গল্পের পুরো ভাব ফুঠে ওঠেনি।

'অপরিচিতা' গল্পে লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ শতকের একজন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষিত ছেলের ব্যক্তিত্বহীনতা, পরিবারতন্ত্রের কাছে তার বিবেকের জলাঞ্জলি দেওয়া, যৌতুক প্রথার ঘৃণিত রূপ, দেশাত্মবোধ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে নারী শিক্ষায় এগিয়ে আসা প্রভৃতি বিষয় তুলে ধরেছেন। কিন্তু উদ্দীপকে রুমা চরিত্রের মাঝে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর একটি বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে মাত্র।

অনুপম বিশ শতকের একজন শিক্ষিত ছেলে। কিন্তু তার প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তার চরিত্রে রেখাপাত করেনি। পরিবারতন্ত্রের কাছে সে তার বিবেককে জলাঞ্জলি দিয়ে মূর্খের অন্যায়কে মৌন সম্মতি দেয়। বিয়ের আসর হতে কন্যার গয়নাগুলো পরীক্ষা করার জন্য মামার অন্যায় আবদারের প্রতিবাদ সে করেনি। কনের পিতা শম্ভুনাথ তার উপযুক্ত জবাব দেন কন্যা সম্প্রদানে অসম্মতি জানিয়ে। বিয়ে ভেঙে গেলে কল্যাণী নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়। দেশাত্মবোধ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয় কল্যাণী। কিন্তু উদ্দীপকে রুমার ক্ষেত্রেও বিয়ে ভাঙার ঘটনা ঘটে। তবে তা ভিন্ন প্রেক্ষাপটে। কল্যাণীর মতো রুমাও শেষে দেশাত্মবোধ চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, 'অপরিচিতা' গল্পে লেখক বিরাট পরিসরে সমাজের বৈষম্যগুলো তুলে ধরেছেন কিন্তু উদ্দীপকে 'অপরিচিতা' গল্পের নায়িকা কল্যাণীর চিন্তা-চেতনার আংশিক প্রতিফলন ঘটে। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটিকে সমর্থন দিলে অত্যুক্তি হবে না।