- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
অযুত বর্ণ ফুল ধরেছে
যেথা সবুজ ঘাসে,
তাহার দেশের বাতাস উড়ে
আমার দেশে আসে।
শ্যামল বরণ কায়ার উপর-
মিষ্টি একটা মুখ
চুম্বক টানা চোখের ভেতর
অসীম গভীর সুখ।
হাসে যখন, ঠোঁটটি তাহার
মৃদু মৃদু নড়ে
অমাবস্যায়ও সে মুখেতে
জোছনা ঝরে পড়ে।
উদ্দীপকের শ্যামল বরণ কায়ার মেয়েটির সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর-সাদৃশ্য আলোচনা কর।
উদ্দীপকের শ্যামল বরণ মেয়েটির সাথে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্যগুলো হলো উভয়ই চপলমতি, শুচিস্মিতা, অনিন্দ্য ও নবযৌবন রূপসী।
মানুষ সহজাতভাবে সুন্দরের পূজারি। বিধাতা তার অকৃত্রিম হাতে মাঝে মাঝে নারীদের এমনভাবে তৈরি করে যার সৌন্দর্যদ্যুতিতে পুলকিত হয় প্রকৃতি, লেখক, কবি সবাই। সৌন্দর্যপিপাসু লেখক কবিরা তখন সৌন্দর্য বর্ণনায় সীমাহীন আবেগে হারিয়ে যান। উদ্দীপকে শ্যামল বরণ কন্যা এবং 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী এমনি দুজন হৃদয়কাড়া অনিন্দ্য সৌন্দর্যের মূর্ত প্রতীক।
'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণী ষোল-সতেরো বছরের নবযৌবনা। কল্যাণীর সৌন্দর্য বর্ণনায় অনুপম চরিত্রের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর চমৎকার কিছু উপমা ব্যবহার করেছেন। নবযৌবনের দ্যুতি ছড়ানো কল্যাণীর সৌন্দর্যের শুচিতা এতো অপূর্ব যে এর কোনো ত্রুটি নেই। সকলের মাঝে কল্যাণী এতো উজ্জ্বল যে রজনীগন্ধার শুভ্র মঞ্জরির মতো সরল বৃত্তটির মতো সকলকে ছাড়িয়ে গেছে। তার গল্প শোনার সময় সকল শ্রোতার উপর যেন প্রাণের ঝরনা ঝরে পড়ে, যার স্পর্শে সূর্যকিরণ সজীব হয়ে উঠে। কল্যাণীর মুখের কথা যেন অনাবিল প্রশান্তির সুমধুর সুর, যা সারাক্ষণ হৃদয়ে অনুরণিত হয়। অনুরূপভাবে উদ্দীপকের কবিতাংশে বর্ণিত শ্যামল বরণকারী মেয়েটির ক্ষেত্রেও কবি তার সৌন্দর্য বর্ণনায় রবীন্দ্রনাথের মতো হৃদয়াবেগে সিক্ত হয়েছেন। শ্যামল বরণ কায়ার মেয়েটির অপরূপ সৌন্দর্যে প্রকৃতিও পুলকিত হয়, যার সাড়াদানে প্রকৃতি অসংখ্য ফুলের সমারোহে সাজে। মেয়েটির রূপের এতো মাধুর্য যে তার টানা চোখে গভীর সুখের ঠিকানা রয়েছে। তার হাসির আলোয় অমাবস্যার গভীর অন্ধকারও দূরীভূত হয়। সুতরাং দেখা যাচ্ছে উদ্দীপকের শ্যামল বরণ মেয়েটির অনিন্দ্য সৌন্দর্যের মূর্তপ্রতীক হওয়ার দিক থেকে 'অপরিচিতা' গল্পের কল্যাণীর সাদৃশ্য রয়েছে।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
অনুপমের বিয়ের ঘটক কে ছিলেন?
অনুপমের বিয়ের ঘটক ছিলেন তার বন্ধু হরিশ।
"তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই?"-ব্যাখ্যা কর।
বিয়ের আসর থেকে বরপক্ষকে ফিরিয়ে দিতে কন্যার পিতা শম্ভুনাথ আলোচ্য উক্তিটি করেছিল।
বরের মামার লোভী ও হীন মানসিকতা এবং বরের ব্যক্তিত্বহীনতায় শম্ভুনাথ বাবু যারপরনাই বিক্ষুঙ্খ হয়ে উঠেন। আত্মসম্মানবোধে উদ্দীপ্ত শম্ভুনাথ এহেন সংকীর্ণচেতা পরিবারের সাথে সম্পর্ক স্থাপনে অনিচ্ছা পোষণ করেন। কিন্তু তিনি ছিলেন শান্ত প্রকৃতির মানুষ। তাই তিনি উচ্চবাচ্য না করে তাঁর ভাব প্রকাশে ধীর চঞ্চলতাশূন্য ও বলিষ্ঠ প্রতিবাদী শব্দ বেছে নেন। বরপক্ষকে রীতিমতো তাড়িয়ে দিতে তিনি বলে উঠেন, 'তবে আপনাদের গাড়ি বলিয়া দিই'?
"কল্যাণী-ঐ মিষ্টি মুখের মেয়ের চেয়েও আরো কিছু"-উক্তিটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
'অপরিচিতা' গল্পের লেখক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কল্যাণীর রূপ মাধুর্য বর্ণনার পাশাপাশি তার প্রকাশ করেছেন, যা উদ্দীপকের কবিতাংশে শ্যামল বরণ কায়ার মেয়েটির ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায় না।
দেশপ্রেম মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। প্রতিটি মানুষ তার স্বদেশকে ভালোবাসে। একজন দেশপ্রেমিক বিভিন্নভাবে তার দেশকে ভালোবাসে। দেশের কল্যাণের জন্য কাজ করার মধ্যেই দেশপ্রেমের পরিচয় ফুটে ওঠে। 'অপরিচিতা' গল্পের লেখক কল্যাণীর সৌন্দর্যের দ্যুতি বর্ণনার সাথে সাথে তার দেশপ্রমের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। কিন্তু উদ্দীপকের কবি শ্যামল বরণ মেয়েটির রূপ বর্ণনা করলেও কল্যাণীর মতো দেশাত্মবোধ চেতনা প্রকাশ করেননি।
'অপরিচিতা' গল্পের নায়িকা, কল্যাণী। অপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারী সে। চপলমতি ও নব যৌবনা কল্যাণীর সৌন্দর্য এতো মনোহর যে কোথাও কোনো ঘাটতি নেই। আর এজন্যই তো অনুপম এবং তার মা নিষ্পলক দৃষ্টিতে কল্যাণীর দিকে তাকিয়ে ছিলেন। তার কণ্ঠ যেন সমুধুর সুর, যার অনুরণন সারাক্ষণ হৃদয়ে বাজতে থাকে। তার চরিত্রকে শুধু তার অনিন্দ্য- সৌন্দর্য উজ্জ্বল করেনি। তার দেশাত্মবোধের চেতনা তার চরিত্রকে আরও মহিমান্বিত করেছে। বিবাহ ভেঙে গেলে কল্যাণী নারী শিক্ষায় ব্রতী হয়ে সমাজের অসহায় ও অবহেলিত নারীদের পাশে এসে দাঁড়ায়। অপরদিকে উদ্দীপকের কবিতাংশে শ্যামল বরণ মেয়েটির সৌন্দর্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উপমায়। তার মিষ্টি ও হৃদয়কাড়া মুখের সৌন্দর্যে এবং টানা চোখের চাহনিতে গভীর সুখের ঠিকানা রয়েছে। তার হাসিতে সমস্ত প্রকৃতি পুলকিত হয়, যার আলোর আভায় অমাবস্যার অন্ধকার দূরীভূত হয়।
সুতরাং দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের কবিতায় শ্যামল বরণ মেয়েটির রূপ মাধুর্যের বর্ণনা থাকলেও কল্যাণীর মতো স্বদেশ চেতনার গুণটি প্রতিফলিত হয়নি। তাই প্রশ্নোক্ত উক্তিটিকে যথার্থ বলা যায়।

