- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- অপরিচিতা [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
ইস। যদি হৃদয়লিপিতে
বন্দী স্মৃতির শিশির হয়ে ঝরে
না যেতে তুমি। আমিই কি
জানতাম
অর্থ-সমাজ-সংস্কৃতির বার্তা
বরণে আবদ্ধ নতজানু
মানুষ হব আমি।
উদ্দীপকের ন্যায় উপলব্ধিই প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থাকে কুসংস্কারমুক্ত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে- 'অপরিচিতা' গল্পের আলোকে বিশ্লেষণ কর।
মিথ্যা অহমিকা আর নিছক লৌকিকতা পরিহার করে মনুষ্যত্বকে জাগ্রত করলে প্রচলিত সমাজ অবশ্যই কুসংস্কারমুক্ত হবে। 'অপরিচিত্র' গল্পের শিখনফলও এটি। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের এ উপলব্ধিটি যথার্থ ও সঠিক।
আত্মোপলব্ধি মানুষের একটি মহৎ গুণ। এ বোধই মানুষকে খাঁটি মানুষে পরিণত করে। কোনো কিছু হারিয়ে বা কঠিন বিপদ থেকে উত্তরণের পর মানুষের অন্যায় সম্পর্কে বোধোদয় হয়। উদ্দীপকে এমন এক উপলব্ধির ইঙ্গিত রয়েছে। যা আমরা 'অপরিচিতা' গল্পে লক্ষ করি। আর এ ধরনের উপলব্ধিই সামাজিক কুসংস্কার দূরীকরণে ভূমিকা রাখতে পারে। গল্পের নায়ক অনুপম সমাজ, সংস্কৃতির বেড়াজালে আবদ্ধ থেকে প্রথমে নিজেকে ব্যক্তিত্বহীন পরিচয়ে প্রতিষ্ঠিত করলেও গল্পের শেযাংশের বোধোদয় তাকে সামান্য হলেও ভালো চরিত্র বলে প্রমাণ করে। প্রথমে পরিবারতন্ত্র থেকে বের হতে না পেরে সমাজের ঘৃণ্য যৌতুক এবং নারীর অবমাননাকে নীরবে সহ্য করেছে সে, কিন্তু অনেক দিন পর, যখন আকাক্ষিত নারীর সাথে তার দেখা হয়, তখন পারিবারিক বাধা উপেক্ষা করে সে নিজের ভুলকে শুধরে নিতে চেয়েছে। হয়তো তার নায়িকা কল্যাণীকে বিয়ের আসর থেকে হারানোর পরই তার মনুষ্যত্ববোধ জেগে উঠেছে এবং বিবেকের তাড়নায় দগ্ধ হচ্ছে। তাই অর্থ ও সামাজিকতাকে উপেক্ষা করে সে কল্যাণীকে পাশে চেয়েছে। উদ্দীপকেও আমরা এ ধরনের উপলব্ধি লক্ষ করি। প্রতিটি মানুষ যদি এভাবে নিজেদের ভুল সংশোধন করে নেয় এবং মনুষ্যত্ববোধকে জাগ্রত করে তবে সমাজ থেকে অন্ধ বিশ্বাস আর কুসংস্কার দূরীভূত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, প্রত্যেক মানুষেরই নিজেদের কর্ম সম্পর্কে আত্মসমালোচনা থাকা প্রয়োজন। মানুষ যদি তাদের কাজের ভালো-মন্দ বিচার করে, তবে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা থেকে মিথ্যা অহমিকা, অন্যায় আচরণ দূর করা সম্ভব হবে।

