• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি
ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতি

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

রাতুল ও মিতুল দু'ভাই একাদশ শ্রেণির ছাত্র। রাতুল রসায়ন বিজ্ঞানে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী। একদিন মিতুল রাতুলের নিকট জাবির ইবনে হাইয়ান প্রসঙ্গে জানতে চাইল। রাতুল বলল, মুসলিম বিজ্ঞানী জাবির ইবনে হাইয়ান বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ রসায়নবিদ। জ্ঞান- বিজ্ঞানের আজকের এ অভূতপূর্ব সাফল্যের গোড়ায় মুসলিমদের অবদানই শতভাগ ।

জাবির ইবনে হাইয়ানকে কেন আধুনিক রসায়নবিদদের জনক বলা হয়?

জাবির ইবনে হাইয়ান রসায়নশাস্ত্রের ওপর প্রায় পাঁচশত গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি রসায়ন বিজ্ঞানকে প্রণালিবদ্ধ করে একে একটি গবেষণা পদ্ধতিতে পরিণত করেন। রাসায়নিক সূত্র ও পদ্ধতির ব্যবহারিক রূপ প্রদান করে তিনি রসায়নকে একটি আধুনিক কাঠামোতে দাঁড় করান। এ জন্য তাকে আধুনিক রসায়নবিজ্ঞানের জনক বলা হয় ।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

জাবির ইবনে হাইয়ানের বিজ্ঞানচর্চা হতে বর্তমান মুসলিমগণকে অনুপ্রাণিত করতে কী কী পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে?

জাবির ইবনে হাইয়ানের বিজ্ঞানচর্চা থেকে মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করতে তার রচনাসামগ্রী সম্পর্কে মুসলমানদের ব্যাপকভাবে জানাতে হবে।

জাবির ইবনে হাইয়ানকে আধুনিক রসায়নের জনক বলা হয়। তার বিজ্ঞানচর্চা থেকে মুসলমানদের অনুপ্রাণিত করতে হলে তার সম্পর্কে মুসলমানদের জানাতে হবে। জানাতে হবে তিনি প্রাচীন রসায়নবিদদের তুলনায় অধিক মাত্রায় পরীক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করে রসায়নশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য আলোচনা হিসেবে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। তিনি প্রায় পাঁচশত গ্রন্থ রচনা করেছেন। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হলো— কিতাব আল রাহমাহ্, কিতাব আল তাজমী, আল শারাকী ইত্যাদি। তিনি রসায়নশাস্ত্রের দুটি মূলসূত্র ভস্মীকরণ ও লঘুকরণকে বৈজ্ঞানিক নিয়মে আলোচনা করেছেন। তিনি বাষ্পীকরণ, ঊর্ধ্বপাতন, দ্রবীকরণ, স্ফটিকরণ প্রভৃতি পদ্ধতির উন্নতি সাধন করেছিলেন। তিনিই প্রথম যক্ষ্মা, এসিড, গন্ধক, দ্রাবক, জল দ্রাবক ও অন্যান্য যৌগিক সূত্র আবিষ্কার করেন। তিনি স্বর্ণ, রৌপ্য দ্রবীভূত করার উপযোগী উৎপাদন পদ্ধতি জানতেন। তার এ অবদানসমূহ মুসলমানদের বিজ্ঞানচর্চায় অনুপ্রেরণা দেবে ।

#

জ্ঞান-বিজ্ঞানের সাফল্যের গোড়ায় মুসলিমদের অবদান শতভাগ'— বক্তব্যটি মূল্যায়ন কর।

বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে জ্ঞান-বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবদান অপরিসীম।

মানবসভ্যতা ও সংস্কৃতির যথাযথ উন্মেষ ও বিকাশে মুসলিম জাতির অবদান অবিস্মরণীয়। জ্ঞানার্জন ও শিক্ষা গ্রহণকে ফরজ করে ইসলাম শিক্ষা ও জ্ঞাননির্ভর যে ধারার সূচনা করেছে তারই ধারাবাহিকতায় মুসলিম মনীষীগণ গবেষণায় আত্মনিয়োগ করেছেন। তাদের অনুসন্ধিৎসা ও গবেষণা, জ্ঞানবিজ্ঞান ও শিক্ষার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করেছে। যে জন্য আধুনিক বিজ্ঞান কেবল চমকপ্রদ আবিষ্কার ও কালোত্তীর্ণ তত্ত্বের জন্যই মুসলমানদের নিকট ঋণী নয়, বরং আধুনিক বিজ্ঞান তার অস্তিত্বের জন্যই তাদের কাছে চিরঋণী।

মুসলমানদের এ অবদান সম্পর্কে অধ্যাপক হিট্টি বলেছেন, অষ্টম শতকের মাঝামাঝি থেকে ত্রয়োদশ শতকের প্রারম্ভ পর্যন্ত আরবি ভাষাভাষী লোকেরা সমগ্র বিশ্বের সভ্যতা ও সংস্কৃতির দিশারি ছিলেন। তাদের মাধ্যমে প্রাচীন বিজ্ঞান, দর্শন এমনিভাবে পুনর্জীবিত, সংযোজিত ও সম্প্রসারিত হয়েছিল। তাদের বৈজ্ঞানিক প্রতিভা আধুনিক বিজ্ঞানের ভিত্তি রচনা করেছিল।
খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে মুসলমানদের জ্ঞানসাধনা শুরু হলেও বিজ্ঞানচর্চা উমাইয়া যুগে শুরু হয়। আর এর বিস্তৃতি লাভ করে আব্বাসি যুগে। উমাইয়া যুগে আব্দুল মালিক, প্রথম ওয়ালিদ, উমর বিন আব্দুল আযিয প্রমুখ খলিফা জ্ঞান-বিজ্ঞানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। তাদের পৃষ্ঠপোষকতার ফলে বিজ্ঞানবিষয়ক গ্রন্থ আরবিতে অনূদিত হয়েছিল। আব্বাসি যুগও জ্ঞান-বিজ্ঞান সাধনার এক স্বর্ণযুগ বলে ইসলামের ইতিহাসে পরিচিত। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে এ যুগের মনীষী ও পণ্ডিতদের সৃজনশীল অবদান আধুনিককালেও বিস্ময়কর বলে মনে হয়। এ যুগে চিকিৎসাশাস্ত্র, জ্যোতির্বিদ্যা, গণিতশাস্ত্র, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান প্রভৃতি বিষয়ে অভাবনীয় উন্নতি সাধিত হয় ।

#

ইবনে সিনার চিকিৎসা বিজ্ঞানের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কী?

ইবনে সিনার চিকিৎসাবিষয়ক গ্রন্থের নাম "কানুন ফিত-তিব্ব" (আরবি: القانون في الطب)।