- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- বিলাসী [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
শরৎচন্দ্রের 'মহেশ' গল্পে গফুরের প্রিয় গরুটির নাম মহেশ। দরিদ্র গফুর নিরীহ পশুটিকে ঠিকমত খাবারের যোগান দিতে পারে না। ফসল নষ্ট করার জন্য তাকে জমিদারের শাস্তিও পেতে হয়েছে। একদিন তৃষ্ণার্ত মহেশ পানির জন্য গফুরের মেয়ে আমিনার মাটির পাত্র ভেঙে ফেলে। রাগান্বিত গফুর লাঙলের ফলা দিয়ে মাথায় আঘাত করলে মহেশ মারা যায়। গোহত্যার প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুর রাতের আঁধারে মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়।
গফুরের জীবন বাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের কোন ঘটনার সাদৃশ্য বিদ্যমান? বিশ্লেষণ কর।
বিলাসী' গল্পে বিলাসী মৃত্যুঞ্জয়কে সেবা করার কারণে গ্রামবাসী কর্তৃক অত্যাচারিত হবার ঘটনার সাথে উদ্দীপকের গফুরের জীবন-বাস্তবতার মিল লক্ষ করা যায়।
'বিলাসী' গল্পে আমরা শ্রেণিবৈষম্যের চরমরূপ দেখতে পাই। তাই মৃত্যুঞ্জয় যখন বিলাসীকে বিয়ে করে, তখন পাড়াসুদ্ধ লোক এর বিরোধিতা করে। তারা সদলবলে বিলাসী ও মৃতুঞ্জয়ের ওপর চড়াও হয়। বিশেষ করে তারা বিলাসীর ওপর অকথ্য নির্যাতন করে। মৃত্যুপথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে নিজের সেবা-যত্ন দিয়ে বিলাসী সুস্থ করে তোলে। কিন্তু গ্রামবাসীর কাছে তার এ মহৎ কাজ কোনো গুরুত্ব পায়না। বরং, জাতের দোহাই দিয়ে তাদের সমাজচ্যুত করা হয়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, গফুর তার পালিত গরু মহেশকে ঠিকমতো খাবার দিতে পারেনা। কিন্তু সেই গরু জমিদারের ফসল নষ্ট করলে তাকে শাস্তি পেতে হয়। আবার, লাঙলের ফলার আঘাতে মহেশের মৃত্যু ঘটলে গোহত্যার অপরাধের প্রায়শ্চিত্ত করতে গফুরকে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। যে সমাজ জীবিত মহেশের খাবারের জন্য সাহায্য করতে পারে না, সেই সমাজকেই আমরা প্রথার দোহাই দিয়ে গোহত্যার অপরাধে গফুরকে শাস্তি দিতে উদ্যত হতে দেখি। ঠিক যেমনভাবে মৃত্যু পথযাত্রী মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজ এড়িয়ে গেলেও সে বিলাসীকে বিয়ে করলে জাত-পাতের দোহাই দিয়ে সমাজ তাদের শাস্তি দিতে উদ্যত হয়। আর এদিক থেকেই গফুরের জীবন বাস্তবতার সাথে 'বিলাসী' গল্পের মিল বিদ্যমান।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
"উদ্দীপকের 'গোহত্যা' এবং গল্পের 'অন্নপাপ' একই সূত্রে গাঁথা”-তোমার মতামত আলোচনা কর।
উদ্দীপকের 'গোহত্যা' এবং 'বিলাসী' গল্পের অন্নপাপ-দুটিই বর্ণ প্রথাভিত্তিক হিন্দুসমাজে প্রচলিত দু'টি অন্ধ কুসংস্কার। তাই এ দু'টি প্রত্যয় মূলত একই সূত্রে গাঁথা।
'অন্নপাপ' বলতে ব্রাহ্মণ সমাজের বা উঁচু জাতের মানুষের নিচু জাতের কারও হাতে ভাত খাওয়াকে বোঝানো হয়। 'বিলাসী' গল্পে কায়স্থের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় সাপুড়ে কন্যা বিলাসীর হাতে ভাত খেয়েছিল বলে সমাজপতিরা একে অন্নপাপ বলে চালিয়ে দেয়। তাদের এরূপ কাজে মূলত ধর্মীয় গোঁড়ামির দিকটি প্রকাশ পায় যা সমাজপতিরা নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যবহার করে থাকে। 'গোহত্যা' বিষয়টিও সমাজে প্রচলিত একটি বিশ্বাস। সনাতন ধর্মাবলম্বীগণ গো তথা গরুকে ধর্মীয় দিক থেকে বিশেষ সম্মানের দৃষ্টিতে দেখেন এবং তাঁদের শাস্ত্রে তাঁরা গরু হত্যাকে মহাপাপ বলে মনে করে থাকেন।
তবে, উদ্দীপকে 'গোহত্যা' বিষয়টির ধর্মীয় তাৎপর্য থেকেও সমাজপতি শ্রেণির মানুষের স্বার্থান্বেষী মানসিকতার তাৎপর্য অধিক লক্ষণীয়। কেননা, গফুর ইচ্ছা করে তার গরুটিকে হত্যা করেনি। এমনকি, তার এলাকার জমিদারও মহেশের ফসল নষ্ট করার অভিযোগে গফুরকে শাস্তি দেয়। কিন্তু দুর্ঘটনায় যখন গফুরের হাতে মহেশ মারা যায়, তখন স্বার্থান্বেষী জমিদার একে ধর্মীয় বিশ্বাসের সাথে মিলিয়ে নিজের স্বার্থ উদ্ধারের কাজে লাগাতে চায়। যা থেকে রক্ষা পেতে গফুরকে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যেতে হয়।
গোহত্যা বা অন্নপাপ-দুটোই হিন্দুদের নিজস্ব ধর্মীয় প্রথা। কিন্তু উদ্দীপক এবং 'বিলাসী' গল্প উভয় ক্ষেত্রেই এই প্রচলিত বিশ্বাসগুলোর সুযোগ নিয়ে স্বার্থবাদী সমাজপতিদের অসহায়দের ওপর অত্যাচার চালাতে দেখা যায়। আর এ কারণে ধর্মীয় মূল্যবোধের জায়গা থেকে বেড়িয়ে এসে এ দু'টি বিষয় হয়ে দাঁড়ায় সমাজপতিদের সমাজ শোষণের হাতিয়ার। তাই বলা যায়, প্রশ্নোল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।

