• হোম
  • একাডেমি
  • সাধারণ
  • একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
  • বিলাসী [গদ্য]
বিলাসী [গদ্য]

পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।

Back

উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর

আলেয়া খাতুন রাতের বেলা এক হাতে লণ্ঠন আর অন্য হাতে রশি নিয়ে মনের দুঃখে কাঁদতে কাঁদতে পাশের বাড়ির সালেহা বেগমকে এসে বললেন, "আম্মা আমার আর বাঁচার এতটুকু ইচ্ছে নেই। যাকে মন-প্রাণ দিয়ে ভালোবাসলাম সেই যখন আমাকে ছেড়ে চলে গেল তখন আমি বাঁচতে চাই না। আমিও মরতে চাই।" সালেহা বেগম বললেন, "দেখ বউমা, এমন কথা বলো না। তোমার শ্বশুরের সাথে ত্রিশ বছর ধরে সংসার করেছি। তিনি মারা যাওয়ার পরে আজও এই ঘর এই সংসারকে আঁকড়ে পড়ে আছি। কোনোদিন এই সংসার ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তাও করি নাই। তিনি যেদিন মারা গেলেন, বুকে পাথর বেঁধে সারাটি রাত তার পাশেই বসে ছিলাম। যাও বাড়ি যাও। সব ঠিক হয়ে যাবে।" পাশেই বসে থাকা সালেহা বেগমের ছোট সন্তান সোহাগ, আলেয়া খাতুনকে জিজ্ঞাসা করে, "ভাবি তোমার হাতে লণ্ঠন কেন?" আলেয়া খাতুন চট করে উত্তর দেয়- "যদি সাপে কামড়ায়।"

উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে 'বিলাসী' গল্পে "ইহা আর এক শক্তি", উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি। বিশ্লেষণ কর।

উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে বিলাসী গল্পের ইহা আর এক শক্তি উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি"-মন্তব্যটি যথার্থ নয়।

' বিলাসী গল্পে লেখক "ইহা আর এক শক্তি" বলতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার যে প্রকৃত ভালোবাসা গড়ে উঠে সে বিষয়টি বুঝিয়েছেন। লেখক এই গল্পে তার এক আত্মীয়ের কথা বলেছেন যারা পঁচিশ বছর একসাথে সংসার করেছেন। অথচ স্বামীর মৃত্যুর পর মৃতদেহের সাথে পাঁচ মিনিট একাকী বসার সাহস তাঁর নেই। কারণ তাদের মধ্যে প্রকৃত ভালোবাসা অনুপস্থিত। অন্তরে যদি মায়া আর প্রেম থাকত তাহলে স্বামীর মৃতদেহ তার ভীতির কারণ হত না। এখানে অথচ, এই গল্পেই আমরা বিলাসীকে দেখি জঙ্গলে ঘেরা বাড়িতে বসে সে রাতের পর রাত জেগে মৃত্যুঞ্জয়ের সেবা করেছে। মৃত্যুঞ্জয়ের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা থাকার কারণেই তার পক্ষে এ অসাধ্য সাধন করা সম্ভব হয়েছিল।

অপরদিকে উদ্দীপকের সালেহা বেগম তার স্বামীর সাথে ত্রিশ বছর সংসার করেছেন। স্বামী মারা যাওয়ার পরেও তিনি এই সংসার ছেড়ে যাননি। কখনো এই সংসারকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কথাও ভাবেন না। যেদিন তার স্বামী মারা গেছেন, বুকে পাথর বেঁধে তিনি সারা রাত স্বামীর পাশে ছিলেন। স্বামীর মৃতদেহকে তিনি ভয় পান নি। কারণ যে মানুষটা তার এত প্রিয় তার দেহ জীবিত বা মৃত যে অবস্থায় থাকুক তা কখনো ভয়ের কারণ হতে পারে না। এই অদ্ভুত শক্তিটির নাম ভালোবাসা।

এ থেকে বুঝা যায় যে, "উদ্দীপকের সালেহা বেগমের ক্ষেত্রে ইহা আর এক শক্তি উক্তিটি প্রযোজ্য হয়নি" মন্তব্যটি যথার্থ নয়।

শেয়ার :

বুকমার্ক করুন

মন্তব্য ও আলোচনা ()

সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ

#

উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে 'বিলাসী' গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়? আলোচনা কর।

উদ্দীপকের আলেয়া খাতুনের সাথে 'বিলাসী' গল্পের ন্যাড়ার আত্মীয়ের সদ্য বিধবা স্ত্রীর চরিত্রের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।

উদ্দীপকে দেখা যায়, আলেয়া খাতুনের স্বামী মৃত্যুবরণ করলে সেও আর বেঁচে থাকতে চায়না। ভালোবাসার মানুষের মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে সে নিজেও মৃত্যুবরণ করতে চায়। কিন্তু পরমূহুর্তেই যখন সোহাগ তাকে সাথে লণ্ঠন আনার কারণ জিজ্ঞেস করে, সে জানায়, সাপে কামড়ানোর ভয়ে সে সাথে করে লণ্ঠন এনেছে।

'বিলাসী' গল্পে ন্যাড়ার আত্মীয়ের সদ্য বিধবা স্ত্রীও তার স্বামীর মৃত্যুতে শোকে কাতর হয়ে তার সাথে সহমরণে যেতে চায়। কিন্তু, যখনই ন্যাড়া তাকে মৃতদেহের সাথে একা রেখে পাড়া-পড়শীকে খবর দিতে যেতে চায়, সে চিৎকার করে বলে যে, সে মৃতদেহের সাথে একা থাকতে পারবেনা। অর্থাৎ, উদ্দীপকের আলেয়া খাতুন এবং 'বিলাসী' গল্পের বিধবা স্ত্রী উভয়েই তাদের স্বামীকে অনেক ভালোবাসলেও নিজের থেকে বেশি ভালোবাসতে পারেনি। তাদের স্বভাবসুলভ ভীতির অনুভূতিকে তাদের ভালোবাসা অতিক্রম করতে পারেনি। তাই স্বামীর মৃত্যুতে তারা সহমরণ প্রত্যাশা করলেও জঙ্গলের সাপ বা বাড়িতে একা থাকার ভয়ে তারা ভীত থাকে। এ কারণে
চরিত্র দুটিকে পরস্পরের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ বলা যায়।