- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি
- বিলাসী [গদ্য]
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
বলাই উদার মানসিকতার একজন গ্রামের মানুষ। কিন্তু সমাজের প্রচলিত অসঙ্গতিগুলো উপেক্ষা করার ক্ষমতা তার নেই। তার গ্রামের গোঁড়া হিন্দুরা এক কিশোরী মেয়েকে মৃত বরের চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। বলাই- কাজটিকে মন থেকে সমর্থন না করলেও সে ঘটনায় সে গোঁড়াদের সাথেই ছিল।
উদ্দীপকের বলাই চরিত্রটি 'বিলাসী' গল্পের কোন চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকের বলাই চরিত্রটি বিলাসী গল্পের গল্পকথক ন্যাড়া চরিত্রের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই বলাই খুব উদার মানসিকতার একজন মানুষ। কিন্তু সমাজে প্রচলিত যে কু-প্রথা, কুসংস্কার ও অসঙ্গতি রয়েছে তা থেকে সে বেরিয়ে আসতে পারে না। গ্রামের গোঁড়া হিন্দুরা যখন একটি জীবন্ত কিশোরী মেয়েকে মৃত স্বামীর চিতায় পুড়িয়ে মারে তখনও বলাই সে কাজটি সমর্থন করে নি। মন থেকে সে এ জঘন্য নৃশংস কাজটির সমর্থক না হলেও সে ছিল সেদিন ওই গোঁড়াদের দলেই। সে কোনো প্রতিবাদ দেখাতে পারে নি।
'বিলাসী' গল্পেও আমরা দেখতে পাই ন্যাড়া মনের দিক থেকে খুব উদার ও দয়ালু একজন মানুষ। কিন্তু সমাজে প্রচলিত অসঙ্গতিগুলোর বিপরীতে সে যেতে পারে নি। তাই সে বিলাসীকে গ্রামের মানুষের নির্যাতনের হাত থেকে প্রথমেই রক্ষা করতে পারে নি। তার মন সংকীর্ণ নয় কিন্তু যথেষ্ট সাহসের অভাবে সে সমাজের অন্যায়কে রুখতে পারে নি। এদিক থেকে উদ্দীপকের বলাই ও 'বিলাসী' গল্পের ন্যাড়া সাদৃশাপূর্ণ।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
"ধর্মীয় গোঁড়ামি মানুষের সহজাত বিকাশের অন্তরায়।"-উদ্দীপক ও 'বিলাসী' গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিচার কর।
ধর্মীয় গোঁড়ামিগুলো মানুষের সহজাত বিকাশের ক্ষেত্রে অনেক বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় যার বলি হয় সাধারণ মানুষেরা।
প্রাচীনকাল থেকে সনাতন সমাজের আচার-রীতিগুলো মানুষের জীবনে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে যে তা সমাজের সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে। এ রীতিগুলো ছিল মানুষের স্বাভাবিক বিকাশের পথে অন্তরায়। এর ফলে সাধারণ মানুষেরা নিগ্রহের শিকার হচ্ছে।
উদ্দীপকে আমরা নৃশংস একটি ধর্মীয় গোঁড়ামির চিত্র দেখতে পাই। যার শিকার হয়েছে এক কিশোরী। তাকে গ্রামের গোঁড়া হিন্দুরা মৃত বরের চিতায় জীবন্ত পুড়িয়ে মারে। যে মানুষেরা এহেন জঘন্য কাজটি করেছে তাদের মানসিক বিকৃতির পেছনের অন্যতম মূল কারণ ধর্মীয় গোঁড়ামি। ধর্মীয় গোঁড়ামির কারণে তারা বিবেকহীন হয়ে পশুতে পরিণত হয়েছে বলেই বর্বরোচিত কাজটি করেছে।
বিলাসী গল্পে অন্নপাপের অপরাধে সমাজের পুরুষরা বিলাসীর মত নিরীহ নারীকে বেদম প্রহার করে। আবার মৃত্যুঞ্জয়কে সমাজচ্যুত করা হয় এ অপরাধে। এছাড়াও এ গল্পে সমকালীন আচারসর্বস্ব হিন্দু সমাজের অনেক অনাচার স্থান পেয়েছে। এ অনাচারের শিকার হয়েছে মৃত্যুঞ্জয় ও বিলাসী। শেষপর্যন্ত করুণ মৃত্যু হয় মৃত্যুঞ্জয়ের ও আত্মত্মহনন করে বিলাসী।
উদ্দীপকে ধর্মীয় গোঁড়ামি হরণ করেছে একটি কিশোরীর জীবন। 'বিলাসী' গল্পেও দেখা যায় ধর্মীয় অনাচার ও কুসংস্কার নিঃশেষ করেছে বিলাসী ও মৃত্যুঞ্জয়কে, তাদের স্বপ্নকে। আর এই ধর্মীয় গোঁড়ামি পুষে বিকৃত মস্তিস্ক নিয়ে জীবন-যাপন করেছে একদল মানুষ। তাই বলা যায় ধর্মীয় গোঁড়ামি মানুষের স্বাভাবিক বিকাশকে অস্বীকার করে আর ধ্বংস করে তাদের স্বপ্নকে।

