একই পরিবারে ৩ রাষ্ট্রনেতা

উড্ডয়ন

১৮ ঘণ্টা আগে

কিম পরিবার

বাবা, ছেলে ও নাতি-একই পরিবারের তিন প্রজন্মের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার উদাহরণ রয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। কিম পরিবার ১৯৪৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে। কিম ইল-সাং ছিলেন বর্তমান উত্তর কোরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার নেতা হিসেবে ৯ সেপ্টেম্বর ১৯৪৮ তিনি সরকার প্রধানের দায়িত্ব নেন। ২৮ ডিসেম্বর ১৯৭২ দেশের প্রেসিডেন্ট হন এবং রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন ৮ জুলাই ১৯৯৪ মৃত্যুর আগ পর্যন্ত। বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা (প্রেসিডেন্ট) হন কিম ইল-সাংয়ের ছেলে কিম জং-ইল। ১৭ ডিসেম্বর ২০১১ মারা যান তিনি। তিনি আমৃত্যু এ পদে ছিলেন। কিম জং-ইলের উত্তরসূরি হন তারই ছেলে কিম জং-উন।

পাপানড্রেউ পরিবার

গ্রিসের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার পাপানড্রেউ পরিবার। এই পরিবার থেকে তিন প্রজন্মের তিনজন ব্যক্তি দেশটির সরকার প্রধান হন। জর্জিয়াস পাপানড্রেউ তিন দফায় গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২৬ এপ্রিল ১৯৪৪ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন। জর্জিয়াস পাপানড্রেউয়ের দুই ছেলের একজন আন্দ্রেজ পাপানড্রেউ যিনি দুই মেয়াদে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২১ অক্টোবর ১৯৮১ প্রথম ক্ষমতায় আসেন। ৬ অক্টোবর ২০০৯ গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী হন আন্দ্রেজ পাপানড্রেড'র সন্তান জর্জ পাপানড্রেউ। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজনের সরকার প্রধান হওয়ার বিরল রেকর্ড হয়।

সামোজা পরিবার

একই পরিবারের তিনজনের দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির রয়েছে নিকারাগুয়ায়। ১ জানুয়ারি ১৯৩৭দেশের প্রথম প্রেসিডেন্ট হন আনাস্তাসিও সামোজা য়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২৯ সেপ্টেম্বর ১৯৫৬ বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতায় বসেন লুইস সামোজা দেবাইলি। এরপর ১ মে ১৯৬৭-১ মে ১৯৭২ পর্যন্ত নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন আনাস্তাসিও সামোজা দেবায়লি। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস সামোজা দেবাইলির ভাই। ১ ডিসেম্বর ১৯৭৪ আনাস্তাসিও সামোজা দেবায়লি আবারও নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট হন। ১৭ জুলাই ১৯৭৯ নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন।

প্রাদো পরিবার

দুই মেয়াদে পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদো। প্রথমবার ২ আগস্ট ১৮৭৬-২৩ ডিসেম্বর ১৮৭৯ ও দ্বিতীয় বার ২৮ নভেম্বর ১৮৬৫-৭ জানুয়ারি ১৮৬৮। মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদোর ছেলে ম্যানুয়েল প্রাদো উগারতেছে দুই মেয়াদে পেরুর প্রেসিডেন্ট হন। প্রথমবার ৮ ডিসেম্বর ১৯৩৯-২৮ জুলাই ১৯৪৫ ও দ্বিতীয়বার ২৮ জুলাই ১৯৫৬-১৮ জুলাই ১৯৬২। এই পরিবার থেকে পেরুর প্রধানমন্ত্রী হন হাভিয়ের প্রোদো উগারতেছে। ১৯১০ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্বল্প মেয়াদে সরকার প্রধান ছিলেন তিনি। হাভিয়ের দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদোর ছেলে এবং ম্যানুয়েল প্রাদো উগারতেছের ভাই।

আবদুল্লাহ পরিবার

বাবা, ছেলে ও নাতি- একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজন মুখ্যমন্ত্রীর উদাহরণ রয়েছে জম্মু ও কাশ্মীরে। শেখ আবদুল্লাহ ৩১ অক্টোবর ১৯৫১-৯ আগস্ট ১৯৫৩ মেয়াদে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ৫ মার্চ ১৯৪৮-৩১ অক্টোবর ১৯৫১ মেয়াদে তিনি প্রধানমন্ত্রী হন। ৯ জুলাই ১৯৭৭ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি দুই মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। তার ছেলে ফারুক আবদুল্লাহ ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮২ প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হন। তিনি তিন মেয়াদে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ফারুক আবদুল্লাহর ছেলে ওমর আবদুল্লাহ ৫ জানুয়ারি ২০০৯-৮ জানুয়ারি ২০১৫ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৬ অক্টোবর ২০২৪ থেকে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করছেন।

বিষয় : সাধারণ জ্ঞান