ই-পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে সম্পূর্ণ গাইড ২০২৬
— প্রিপারেশন বিডি
বর্তমান বিশ্বে ভ্রমণের জন্য পাসপোর্ট একটি অপরিহার্য দলিল। বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সাল থেকে আধুনিক ই-পাসপোর্ট চালু করেছে, যা মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) এর চেয়ে অনেক বেশি নিরাপদ এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ই-পাসপোর্টে বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষিত থাকে, যা জালিয়াতি রোধ করে এবং বিদেশ ভ্রমণকে আরও সহজ করে তোলে।
আপনি যদি প্রথমবারের মতো ই-পাসপোর্ট করতে চান বা পুরনো পাসপোর্ট নবায়ন করতে চান, তাহলে এই নিবন্ধটি আপনার জন্য। এখানে আমরা বিস্তারিতভাবে জানবো ই-পাসপোর্ট করতে কী কী ডকুমেন্ট প্রয়োজন, ছবির সঠিক নিয়মকানুন, আবেদন প্রক্রিয়া, ফি, এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
ই-পাসপোর্ট কী এবং এর বৈশিষ্ট্য
ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো একটি আধুনিক ভ্রমণ দলিল যাতে একটি ইলেকট্রনিক মাইক্রোচিপ বসানো থাকে। এই চিপে পাসপোর্ট ধারকের ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি, আঙুলের ছাপ এবং চোখের আইরিসের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষিত থাকে।
ই-পাসপোর্টের প্রধান সুবিধাসমূহ:
নিরাপত্তা বৃদ্ধি: বায়োমেট্রিক তথ্যের কারণে জালিয়াতির সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়। চিপে এনক্রিপ্টেড ডেটা থাকায় তথ্য চুরি বা পরিবর্তন করা প্রায় অসম্ভব।
দ্রুত ইমিগ্রেশন: বিদেশের বিমানবন্দরে ই-গেট বা অটোমেটেড ইমিগ্রেশন সিস্টেম ব্যবহার করে খুব দ্রুত ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা যায়, যা সময় সাশ্রয় করে।
আন্তর্জাতিক মান: ই-পাসপোর্ট আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (ICAO) এর মান অনুযায়ী তৈরি, যা বিশ্বের সব দেশে স্বীকৃত।
দীর্ঘস্থায়ী: উন্নত প্রযুক্তি ও মানসম্পন্ন উপকরণে তৈরি হওয়ায় ই-পাসপোর্ট বেশি দিন টেকসই থাকে।
ভিসা প্রক্রিয়া সহজ: অনেক দেশে ই-পাসপোর্ট ধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সহজ এবং দ্রুততর।
ই-পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে
ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হলে আপনাকে কিছু নির্দিষ্ট ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখতে হবে। এই ডকুমেন্টগুলো আপনার পরিচয় এবং নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য প্রয়োজন।
প্রথমবার ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
১. জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য এনআইডি কার্ড অবশ্যই প্রয়োজন। এটি আপনার নাগরিকত্ব এবং পরিচয় প্রমাণের প্রধান দলিল। আবেদনের সময় অবশ্যই মূল এনআইডি কার্ড সঙ্গে নিতে হবে এবং একটি ফটোকপি জমা দিতে হবে। স্মার্ট এনআইডি কার্ড থাকলে সেটি আরও ভালো, কারণ তাতে বায়োমেট্রিক তথ্য থাকে।
২. জন্ম নিবন্ধন সনদ
১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য জন্ম নিবন্ধন সনদ বাধ্যতামূলক। অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ হলে সবচেয়ে ভালো। যদি পুরনো জন্ম সনদ থাকে, তাহলে সেটি অনলাইনে নিবন্ধিত করে নেওয়া উচিত। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্যও জন্ম নিবন্ধন সনদ থাকলে সেটি সংযুক্ত করা যেতে পারে।
৩. শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ
এসএসসি বা সমমানের সার্টিফিকেট, মার্কশিট বা প্রশংসাপত্র প্রয়োজন হতে পারে। যদি এসএসসি পাস না করে থাকেন, তাহলে সর্বশেষ যে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তার সনদ প্রয়োজন। এটি মূলত আপনার নাম ও বয়স যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত হয়।
৪. পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে)
আপনার যদি আগে কোনো পাসপোর্ট থাকে (MRP বা হাতে লেখা), তাহলে সেটি আবেদনের সময় দেখাতে হবে। এটি আপনার পূর্ববর্তী ভ্রমণ ইতিহাস যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজন। পুরনো পাসপোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও সমস্যা নেই, তবে অবশ্যই সঙ্গে আনতে হবে।
৫. ট্যাক্স শনাক্তকরণ নম্বর (TIN)
কিছু ক্ষেত্রে, বিশেষত ব্যবসায়ী বা পেশাজীবীদের জন্য TIN সার্টিফিকেট প্রয়োজন হতে পারে। তবে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়।
নাবালকদের ই-পাসপোর্টের জন্য অতিরিক্ত কাগজপত্র:
১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের ই-পাসপোর্টের জন্য অভিভাবকের কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্ট প্রয়োজন হয়:
পিতা-মাতার এনআইডি কার্ড: পিতা ও মাতা উভয়ের এনআইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে। যদি কোনো একজন অভিভাবক না থাকেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র (মৃত্যু সনদ বা তালাকনামা) প্রয়োজন হবে।
শিশুর জন্ম নিবন্ধন সনদ: অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ অবশ্যই প্রয়োজন যাতে শিশুর নাম, জন্মতারিখ এবং পিতা-মাতার নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকে।
অভিভাবকের উপস্থিতি: আবেদন জমা দেওয়া এবং বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার সময় পিতা বা মাতার (যেকোনো একজন) অবশ্যই উপস্থিত থাকতে হবে।
স্কুল সার্টিফিকেট: যদি শিশু স্কুলে পড়ে, তাহলে স্কুল থেকে প্রশংসাপত্র বা আইডি কার্ডের কপি থাকলে ভালো।
পুনঃনিবন্ধন বা রিইস্যুর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র:
যদি আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে যায়, নষ্ট হয়ে যায়, বা তথ্য পরিবর্তন করতে হয়, তাহলে কিছু অতিরিক্ত ডকুমেন্ট লাগবে:
সাধারণ ডায়েরি (GD): পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করতে হবে এবং তার কপি জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞাপন: জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় পাসপোর্ট হারানোর বিষয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রকাশ করতে হবে এবং সেই পত্রিকার কপি জমা দিতে হবে।
নাম পরিবর্তনের প্রমাণ: নাম পরিবর্তন করে থাকলে সরকারি গেজেট বা হলফনামা প্রয়োজন।
বিবাহ সনদ: বিবাহের পর নাম পরিবর্তন করে থাকলে বিবাহ সনদের সত্যায়িত কপি দিতে হবে।
ই-পাসপোর্টের ছবি কেমন হবে: বিস্তারিত নিয়মাবলী
ই-পাসপোর্টের জন্য ছবি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আপনার পরিচয় নিশ্চিত করার মূল মাধ্যম। ছবি যদি নির্ধারিত মান অনুযায়ী না হয়, তাহলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই ছবির সঠিক নিয়ম জানা অত্যাবশ্যক।
ছবির সাইজ ও মাপ:
ছবির আকার: ৩৫ মিমি (প্রস্থ) × ৪৫ মিমি (উচ্চতা) হতে হবে। এটি পাসপোর্ট সাইজ ছবির আদর্শ মাপ।
মুখের আকার: ছবিতে আপনার মুখ থুতনি থেকে মাথার উপরের অংশ পর্যন্ত ৩২-৩৬ মিমি হতে হবে, যা ছবির প্রায় ৭০-৮০% জুড়ে থাকবে।
ব্যাকগ্রাউন্ড: সাদা বা হালকা ধূসর ব্যাকগ্রাউন্ড বাধ্যতামূলক। কোনো ডিজাইন, প্যাটার্ন বা রঙিন পটভূমি গ্রহণযোগ্য নয়।
ছবির মান: উচ্চ রেজোলিউশনের ছবি হতে হবে যাতে মুখের সব বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে দেখা যায়। ঝাপসা, দানাদার বা পিক্সেলেটেড ছবি গ্রহণযোগ্য নয়।
পোশাক ও চেহারার নিয়ম:
পোশাক: নিয়মিত পোশাক পরতে হবে। সাদা পোশাক এড়িয়ে চলুন কারণ ব্যাকগ্রাউন্ডও সাদা। গাঢ় রঙের পোশাক সবচেয়ে ভালো। ইউনিফর্ম বা ধর্মীয় পোশাক (বিশেষ কারণ ছাড়া) পরা উচিত নয়।
মুখের অভিব্যক্তি: স্বাভাবিক, নিরপেক্ষ অভিব্যক্তি রাখতে হবে। মুখ বন্ধ রাখতে হবে এবং হাসার দরকার নেই। দাঁত দেখানো যাবে না।
চোখ: চোখ সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে খোলা রাখতে হবে। লাল চোখের সমস্যা থাকা যাবে না। চোখের পাতা সম্পূর্ণ খোলা থাকতে হবে এবং চোখের মণি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হতে হবে।
চুল: চুল এমনভাবে আঁচড়াতে হবে যাতে কপাল এবং কানের অংশ দেখা যায়। লম্বা চুল হলে পিছনে বাঁধা যেতে পারে, তবে মুখ ঢেকে রাখা যাবে না।
মেকাপ: হালকা প্রাকৃতিক মেকাপ করা যেতে পারে, কিন্তু অতিরিক্ত বা উজ্জ্বল রঙের মেকাপ এড়িয়ে চলুন যা আপনার প্রকৃত চেহারা পরিবর্তন করে দেয়।
যা যা করা যাবে না:
চশমা: সাধারণত চশমা পরে ছবি তোলা নিষেধ। তবে চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে যদি সব সময় চশমা পরতে হয়, তাহলে ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন সহ অনুমতি নিতে হবে। চশমা পরলে নিশ্চিত করতে হবে যে কাচে কোনো প্রতিফলন নেই এবং চোখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।
হেডফোন বা ইয়ারফোন: কোনো ধরনের হেডফোন, ইয়ারফোন বা হেডব্যান্ড পরা যাবে না।
টুপি বা মাথার আবরণ: সাধারণত কোনো টুপি, ক্যাপ বা হ্যাট পরা যাবে না। তবে ধর্মীয় কারণে মাথা ঢাকা বাধ্যতামূলক হলে (যেমন হিজাব), তা অনুমোদিত, কিন্তু মুখের অংশ অবশ্যই সম্পূর্ণ দৃশ্যমান থাকতে হবে। কান এবং মুখের আকৃতি স্পষ্ট দেখা যেতে হবে।
গহনা: বড় বা চকচকে গহনা এড়িয়ে চলুন যা আলোর প্রতিফলন ঘটাতে পারে বা মুখের অংশ ঢেকে দিতে পারে।
সেলফি বা মোবাইল ছবি: মোবাইল ফোন দিয়ে তোলা সেলফি বা নিজে নিজে তোলা ছবি গ্রহণযোগ্য নয়। অবশ্যই পেশাদার ফটোগ্রাফার বা পাসপোর্ট অফিসে ছবি তুলতে হবে।
ফটোশপ বা এডিটিং: ডিজিটালভাবে সম্পাদিত ছবি (ফিল্টার, বিউটি মোড, ত্রুটি দূরীকরণ ইত্যাদি) গ্রহণযোগ্য নয়। ছবি অবশ্যই প্রকৃত এবং অপরিবর্তিত হতে হবে।
শিশুদের ছবির বিশেষ নিয়ম:
শিশুর একা থাকা: ছবিতে শুধুমাত্র শিশু থাকবে। কোনো খেলনা, অভিভাবক বা অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তু দৃশ্যমান হবে না।
মুখের অবস্থান: শিশুর চোখ খোলা থাকতে হবে এবং সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। শিশুর মুখ যথাসম্ভব নিরপেক্ষ অভিব্যক্তি বজায় রাখতে হবে।
অবস্থান: নবজাতকের ছবি তোলার সময় সাদা বা হালকা রঙের কাপড়ের উপর শুইয়ে উপর থেকে ছবি তোলা যেতে পারে। শিশুর মাথা সোজা এবং স্থির থাকা উচিত।
পোশাক: শিশুর জন্য উপযুক্ত স্বাভাবিক পোশাক পরাতে হবে। খুব বড় টুপি বা মাথার আবরণ এড়িয়ে চলুন যদি না ধর্মীয় কারণে প্রয়োজন হয়।
ছবি কোথায় তুলবেন:
পাসপোর্ট অফিস: সবচেয়ে ভালো হয় পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলা, কারণ তারা সব নিয়ম মেনে পেশাদার ছবি তোলেন। অফিসে সাধারণত ছবি তোলার সুবিধা থাকে।
পেশাদার ফটো স্টুডিও: পাসপোর্ট সাইজ ছবি তোলার অভিজ্ঞতা আছে এমন ফটো স্টুডিওতে গিয়ে ছবি তুলতে পারেন। তাদের স্পষ্টভাবে বলুন যে এটি ই-পাসপোর্টের জন্য এবং সব মান মেনে চলতে হবে।
ছবির সংখ্যা: সাধারণত ২-৪ কপি ছবি প্রয়োজন হয়। তবে অনলাইন আবেদনের ক্ষেত্রে ডিজিটাল কপি আপলোড করতে হয়।
ডিজিটাল ছবির জন্য বিশেষ নির্দেশনা:
অনলাইন আবেদনের সময় যদি ডিজিটাল ছবি আপলোড করতে হয়, তাহলে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো মাথায় রাখুন:
ফাইল ফরম্যাট: JPEG বা JPG ফরম্যাট হতে হবে।
ফাইল সাইজ: সাধারণত ২০০ KB থেকে ৫০০ KB এর মধ্যে হতে হবে। খুব বড় বা খুব ছোট ফাইল গ্রহণযোগ্য নয়।
রেজোলিউশন: ন্যূনতম ৬০০ × ৮০০ পিক্সেল রেজোলিউশন প্রয়োজন। উচ্চ মানের জন্য ১২০০ × ১৬০০ পিক্সেল আদর্শ।
কালার: ফুল কালার ছবি হতে হবে। সাদা-কালো বা সেপিয়া ছবি গ্রহণযোগ্য নয়।
স্ক্যান: যদি প্রিন্ট করা ছবি স্ক্যান করেন, তাহলে ৩০০ DPI বা তার বেশি রেজোলিউশনে স্ক্যান করুন।
ই-পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে গাইড
ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা এখন অনেক সহজ হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া অনলাইনভিত্তিক, যা আপনার সময় এবং শ্রম দুটোই বাঁচায়।
অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া:
ধাপ ১: রেজিস্ট্রেশন করুন
প্রথমে www.epassport.gov.bd ওয়েবসাইটে যান। হোমপেজে "Register" বা "নিবন্ধন" অপশনে ক্লিক করুন। আপনার ব্যক্তিগত তথ্য দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন। মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল আইডি ভালোভাবে যাচাই করে দিন, কারণ এখানে যাবতীয় নোটিফিকেশন পাবেন। একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড দিন যা আপনি মনে রাখতে পারবেন। রেজিস্ট্রেশনের পর আপনার মোবাইল বা ইমেইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড আসবে, সেটি দিয়ে অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করুন।
ধাপ ২: লগইন করুন
রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে আপনার ইউজার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন। প্রথমবার লগইন করলে আপনাকে কিছু প্রাথমিক তথ্য দিতে হতে পারে।
ধাপ ৩: আবেদন ফর্ম পূরণ করুন
"নতুন আবেদন" বা "New Application" অপশনে ক্লিক করুন। একটি ফর্ম আসবে যেখানে আপনার সব ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হবে। নাম, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, ঠিকানা, ধর্ম, পেশা ইত্যাদি তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করুন। মনে রাখবেন, এই তথ্য আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্ম নিবন্ধন সনদের সাথে হুবহু মিলতে হবে। কোনো ভুল বা অমিল থাকলে আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে।
বিশেষভাবে খেয়াল রাখুন:
- নামের বানান সম্পূর্ণ সঠিক আছে কিনা
- জন্মতারিখ এনআইডি বা জন্ম সনদের সাথে মিলছে কিনা
- ঠিকানা বর্তমান এবং স্থায়ী দুটোই সঠিকভাবে দিয়েছেন কিনা
- মোবাইল নম্বর এবং ইমেইল সক্রিয় আছে কিনা
ধাপ ৪: পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন করুন
বাংলাদেশে তিন ধরনের ই-পাসপোর্ট পাওয়া যায়:
সাধারণ পাসপোর্ট (Regular Passport): সাধারণ নাগরিকদের জন্য যারা ব্যক্তিগত কারণে বিদেশ যান।
সরকারি পাসপোর্ট (Official Passport): সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য যারা সরকারি কাজে বিদেশ যান।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট (Diplomatic Passport): কূটনীতিক এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য।
সাধারণ আবেদনকারীরা "Regular Passport" নির্বাচন করবেন।
ধাপ ৫: মেয়াদ নির্বাচন করুন
ই-পাসপোর্ট দুই ধরনের মেয়াদে পাওয়া যায়:
৫ বছর মেয়াদী: যারা কম বিদেশ ভ্রমণ করেন বা নতুন পাসপোর্ট নিচ্ছেন তাদের জন্য উপযুক্ত।
১০ বছর মেয়াদী: যারা নিয়মিত বিদেশ যান বা দীর্ঘমেয়াদী পাসপোর্ট চান তাদের জন্য আদর্শ।
মনে রাখবেন, ১০ বছর মেয়াদী পাসপোর্টের খরচ বেশি, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এটি সাশ্রয়ী।
ধাপ ৬: পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা নির্বাচন করুন
দুই ধরনের পৃষ্ঠা সংখ্যা পাওয়া যায়:
৪৮ পৃষ্ঠা: সাধারণ ভ্রমণকারীদের জন্য যথেষ্ট।
৬৪ পৃষ্ঠা: যারা ঘন ঘন বিদেশ যান বা একাধিক দেশে ভিসা নেন তাদের জন্য প্রয়োজন।
বেশি পৃষ্ঠার পাসপোর্টের খরচ কিছুটা বেশি।
ধাপ ৭: ডেলিভারি পদ্ধতি নির্বাচন করুন
তিন ধরনের ডেলিভারি অপশন আছে:
রেগুলার ডেলিভারি: সাধারণ প্রক্রিয়া, সময় লাগে ১৫-২১ কর্মদিবস। এটি সবচেয়ে সাশ্রয়ী।
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: দ্রুত প্রক্রিয়া, সময় লাগে ৭-১০ কর্মদিবস। খরচ বেশি।
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: জরুরি প্রয়োজনে, ৩-৫ কর্মদিবস। খরচ সবচেয়ে বেশি।
আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ডেলিভারি অপশন বেছে নিন।
ধাপ ৮: ছবি এবং স্বাক্ষর আপলোড করুন
আগে থেকে তোলা পাসপোর্ট সাইজ ছবি (যা উপরে বর্ণিত নিয়ম মেনে তোলা) আপলোড করুন। ছবির ফরম্যাট JPEG এবং সাইজ ২০০-৫০০ KB হতে হবে। সাদা কাগজে কালো কালি দিয়ে স্বাক্ষর করুন এবং সেটি ভালো আলোতে স্ক্যান করে আপলোড করুন। স্বাক্ষর স্পষ্ট এবং পরিষ্কার হতে হবে।
ধাপ ৯: ডকুমেন্ট আপলোড করুন
সব প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টের স্ক্যান কপি (জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত সনদ ইত্যাদি) আপলোড করুন। প্রতিটি ডকুমেন্ট PDF বা JPEG ফরম্যাটে হতে হবে এবং ফাইল সাইজ ১ MB এর মধ্যে রাখুন। ডকুমেন্ট স্ক্যান করার সময় পরিষ্কার এবং পড়ার উপযোগী হওয়া নিশ্চিত করুন।
ধাপ ১০: পেমেন্ট করুন
সব তথ্য পূরণ করার পর পেমেন্ট পেজে যান। অনলাইন পেমেন্ট করার জন্য বিভিন্ন অপশন পাবেন - ক্রেডিট/ডেবিট কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেট), ইন্টারনেট ব্যাংকিং ইত্যাদি। আপনার সুবিধামত পদ্ধতি বেছে নিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। পেমেন্ট সফল হলে একটি ট্রানজেকশন আইডি পাবেন, সেটি সংরক্ষণ করুন।
ধাপ ১১: আবেদন সাবমিট করুন
পেমেন্ট সফল হওয়ার পর আবেদন চূড়ান্তভাবে সাবমিট করুন। আপনার মোবাইল এবং ইমেইলে একটি নিশ্চিতকরণ মেসেজ আসবে যাতে আবেদন নম্বর এবং এনরোলমেন্ট স্লিপ ডাউনলোড করার লিঙ্ক থাকবে।
ধাপ ১২: এনরোলমেন্ট স্লিপ ডাউনলোড করুন
আবেদন সফল হলে একটি এনরোলমেন্ট স্লিপ তৈরি হবে যাতে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার তারিখ এবং সময় উল্লেখ থাকবে। এটি অবশ্যই প্রিন্ট করে নিন এবং পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার সময় সঙ্গে নিয়ে যান।
পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি:
যা যা সঙ্গে নিতে হবে:
প্রিন্ট করা এনরোলমেন্ট স্লিপ: এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এতে আপনার অ্যাপয়েন্টমেন্টের তথ্য থাকে।
মূল ডকুমেন্ট: জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ, শিক্ষাগত সনদ, পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) এবং অন্যান্য সব ডকুমেন্টের মূল কপি সঙ্গে আনুন।
ডকুমেন্টের ফটোকপি: প্রতিটি ডকুমেন্টের অন্তত ২ কপি ফটোকপি নিয়ে যান।
পাসপোর্ট সাইজ ছবি: অতিরিক্ত ২-৪ কপি ছবি সঙ্গে রাখুন।
পেমেন্ট রিসিট: অনলাইন পেমেন্টের রিসিট প্রিন্ট করে নিন।
নাবালকদের ক্ষেত্রে: অভিভাবকের এনআইডি মূল কপি এবং উপস্থিতি বাধ্যতামূলক।
পাসপোর্ট অফিসে যা হবে:
ডকুমেন্ট যাচাই: প্রথমে একজন কর্মকর্তা আপনার সব ডকুমেন্ট যাচাই করবেন। তিনি অনলাইন আবেদনের সাথে মূল ডকুমেন্ট মিলিয়ে দেখবেন।
বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ: এরপর একটি নির্দিষ্ট কাউন্টারে আপনার বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হবে। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
- দশটি আঙুলের ছাপ (ডিজিটাল স্ক্যানারে)
- চোখের আইরিস স্ক্যান (দুই চোখের)
- ডিজিটাল ছবি তোলা (সরাসরি অফিসে)
এই প্রক্রিয়া সাধারণত ১০-১৫ মিনিট সময় নেয়। কর্মকর্তা আপনাকে নির্দেশনা দেবেন কীভাবে আঙুল বা চোখ স্ক্যানারে রাখতে হবে।
ভেরিফিকেশন: বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর আপনাকে একটি স্লিপ দেওয়া হবে যাতে একটি ট্র্যাকিং নম্বর থাকবে। এই নম্বর দিয়ে আপনি আপনার পাসপোর্টের স্ট্যাটাস অনলাইনে চেক করতে পারবেন।
সময়: সাধারণত নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগে পৌঁছানো উচিত। পাসপোর্ট অফিসে মোট সময় লাগে ১-২ ঘণ্টা, ভিড়ের উপর নির্ভর করে।
পাসপোর্ট ডেলিভারি:
সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পাসপোর্ট প্রস্তুত হতে সময় লাগবে আপনার নির্বাচিত ডেলিভারি অপশন অনুযায়ী। আপনি অনলাইনে ট্র্যাকিং নম্বর দিয়ে স্ট্যাটাস চেক করতে পারবেন। পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে SMS বা ইমেইলে নোটিফিকেশন পাবেন।
পাসপোর্ট সংগ্রহ করার তিনটি উপায় আছে:
নিজে সংগ্রহ: নির্দিষ্ট পাসপোর্ট অফিস থেকে নিজে গিয়ে সংগ্রহ করতে পারেন। এনরোলমেন্ট স্লিপ এবং এনআইডি সঙ্গে নিতে হবে।
কুরিয়ার: বাড়িতে কুরিয়ারের মাধ্যমে পাওয়া যায় (অতিরিক্ত ফি প্রযোজ্য)।
প্রতিনিধি মাধ্যমে: জরুরি কারণে নিজে যেতে না পারলে একজন প্রতিনিধি পাঠাতে পারেন। সেক্ষেত্রে আপনার এনরোলমেন্ট স্লিপ, এনআইডি কপি এবং একটি অনুমতিপত্র (পাওয়ার অফ অ্যাটর্নি) দিতে হবে।
ই-পাসপোর্টের ফি এবং খরচ
ই-পাসপোর্টের খরচ নির্ভর করে মেয়াদ, পৃষ্ঠা সংখ্যা এবং ডেলিভারি পদ্ধতির উপর। বর্তমানে (২০২৬ সাল) প্রচলিত ফি নিম্নরূপ:
রেগুলার পাসপোর্টের ফি:
৫ বছর মেয়াদী, ৪৮ পৃষ্ঠা:
- রেগুলার ডেলিভারি: ৪,০২৫ টাকা
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা
- সুপার এক্সপ্রেস: ৮,৬২৫ টাকা
৫ বছর মেয়াদী, ৬৪ পৃষ্ঠা:
- রেগুলার ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,৬২৫ টাকা
- সুপার এক্সপ্রেস: ১২,০৭৫ টাকা
১০ বছর মেয়াদী, ৪৮ পৃষ্ঠা:
- রেগুলার ডেলিভারি: ৫,৭৫০ টাকা
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা
- সুপার এক্সপ্রেস: ১০,৩৫০ টাকা
১০ বছর মেয়াদী, ৬৪ পৃষ্ঠা:
- রেগুলার ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা
- এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা
- সুপার এক্সপ্রেস: ১৩,৮০০ টাকা
অতিরিক্ত খরচ:
কুরিয়ার চার্জ: যদি বাড়িতে ডেলিভারি চান, তাহলে ৩০০-৫০০ টাকা অতিরিক্ত।
পুনঃনিবন্ধন ফি: পাসপোর্ট হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে গেলে পুনঃনিবন্ধনের জন্য অতিরিক্ত ১,০০০ টাকা।
তথ্য সংশোধন ফি: নাম বা অন্য তথ্য পরিবর্তনের জন্য ৫০০-১,০০০ টাকা।
মনে রাখবেন, সরকারি ফি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। আবেদনের আগে অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বর্তমান ফি চেক করে নিন।
ই-পাসপোর্ট পেতে কতদিন সময় লাগে
আপনি যে ডেলিভারি অপশন বেছে নেবেন তার উপর নির্ভর করে সময় ভিন্ন হয়:
রেগুলার ডেলিভারি: সাধারণত ১৫-২১ কর্মদিবস সময় লাগে। তবে পিক সিজনে (যেমন হজ্জ বা ঈদের আগে) কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে।
এক্সপ্রেস ডেলিভারি: ৭-১০ কর্মদিবসের মধ্যে পাসপোর্ট প্রস্তুত হয়ে যায়।
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি: জরুরি ক্ষেত্রে ৩-৫ কর্মদিবসে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়।
শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটির দিন, তাই এই দুই দিন হিসাবের মধ্যে ধরা হয় না। সাধারণত বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পরের দিন থেকে সময় গণনা শুরু হয়।
পাসপোর্ট সংক্রান্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কী করবেন?
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে অবিলম্বে নিকটস্থ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন। তারপর একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিন যে আপনার পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে। এই দুটি কাগজ নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে পুনঃনিবন্ধনের জন্য আবেদন করুন। অতিরিক্ত ফি দিয়ে নতুন পাসপোর্ট পাবেন।
বিদেশে থাকাকালীন পাসপোর্ট শেষ হয়ে গেলে কী করবেন?
বিদেশে থাকাকালীন পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাই কমিশনে যোগাযোগ করুন। তারা জরুরি ভিত্তিতে পাসপোর্ট নবায়ন বা ইমারজেন্সি ট্রাভেল ডকুমেন্ট ইসু করতে পারবে। তবে পাসপোর্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
পাসপোর্টে ভুল তথ্য থাকলে কী করবেন?
পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর অবিলম্বে সব তথ্য যাচাই করুন। যদি কোনো ভুল থাকে (নামের বানান, জন্মতারিখ ইত্যাদি), তাহলে দ্রুত পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। ছোট ভুল বিনামূল্যে সংশোধন করা হয়, তবে বড় পরিবর্তনের জন্য ফি দিতে হতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র দেখাতে হবে।
কতদিন আগে পাসপোর্ট নবায়ন করা উচিত?
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে নবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করা উচিত। অনেক দেশ এমন নিয়ম আছে যে ভিসার জন্য আবেদন করতে হলে পাসপোর্টের মেয়াদ কমপক্ষে ৬ মাস থাকতে হবে। তাই আগেই নবায়ন করলে ভিসা প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয় না।
শিশুর পাসপোর্ট কতদিন পর পর নবায়ন করতে হয়?
শিশুর পাসপোর্ট সাধারণত ৫ বছর মেয়াদী হয়। তবে শিশুর চেহারা দ্রুত পরিবর্তিত হয় বলে অনেক দেশে সমস্যা হতে পারে। তাই ৩-৪ বছর পর পর ছবি আপডেট করার জন্য নতুন পাসপোর্ট করানো ভালো, বিশেষত যদি শিশুর চেহারা অনেক পরিবর্তন হয়ে থাকে।
দুই দেশের নাগরিকত্ব থাকলে কী করবেন?
বাংলাদেশ দ্বৈত নাগরিকত্ব স্বীকৃতি দেয় না। যদি আপনি অন্য কোনো দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে আপনার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব এবং পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যাবে। তবে কিছু দেশের নাগরিকরা (যেমন যুক্তরাজ্য, কানাডা) বিশেষ ব্যবস্থায় উভয় দেশের পাসপোর্ট রাখতে পারে। এ বিষয়ে পাসপোর্ট অফিস থেকে বিস্তারিত জেনে নিন।
পাসপোর্ট রক্ষণাবেক্ষণ ও সতর্কতা
পাসপোর্ট একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এটি যত্ন সহকারে রাখা এবং সঠিকভাবে ব্যবহার করা অপরিহার্য।
পাসপোর্ট সংরক্ষণের টিপস:
শুষ্ক স্থানে রাখুন: পাসপোর্ট সবসময় শুষ্ক এবং ঠাণ্ডা জায়গায় রাখুন। আর্দ্র পরিবেশে চিপ নষ্ট হতে পারে এবং পাতা ভিজে নষ্ট হতে পারে।
পাসপোর্ট হোল্ডার ব্যবহার করুন: ভালো মানের পাসপোর্ট হোল্ডার বা কভার ব্যবহার করুন যা পাসপোর্টকে ধুলো, আর্দ্রতা এবং ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করবে।
বাচ্চা ও পোষা প্রাণী থেকে দূরে রাখুন: শিশু বা পোষা প্রাণীর নাগালের বাইরে রাখুন যারা অনিচ্ছাকৃতভাবে পাসপোর্ট নষ্ট করতে পারে।
রোদ ও তাপ থেকে রক্ষা করুন: সরাসরি সূর্যের আলো বা অতিরিক্ত তাপে পাসপোর্ট রাখবেন না। গাড়ির ড্যাশবোর্ডে রাখা এড়িয়ে চলুন।
ভাঁজ করবেন না: পাসপোর্ট কখনো ভাঁজ করবেন না বা পকেটে গুঁজে রাখবেন না। সর্বদা সমতল অবস্থায় রাখুন।
ভ্রমণের সময় সতর্কতা:
সবসময় সাথে রাখুন: ভ্রমণের সময় পাসপোর্ট সবসময় নিজের কাছে রাখুন, চেক-ইন লাগেজে দেবেন না।
ফটোকপি রাখুন: পাসপোর্টের বায়ো-পেজের (প্রথম পাতা) কয়েকটি ফটোকপি আলাদাভাবে সঙ্গে রাখুন। ডিজিটাল কপি মেইলে পাঠিয়ে রাখলেও ভালো।
হোটেলের সেফে রাখুন: বিদেশে থাকাকালীন পাসপোর্ট হোটেলের সেফ বা লকারে রাখা উত্তম। শুধুমাত্র প্রয়োজনের সময় বের করুন।
স্ক্যাম থেকে সাবধান: কোনো অপরিচিত ব্যক্তি পাসপোর্ট দেখতে চাইলে সাবধান থাকুন। শুধুমাত্র সরকারি কর্মকর্তাদের দেখান।
কী কী করা উচিত নয়:
লেখা বা দাগ দেওয়া: পাসপোর্টে কোনো ধরনের লেখা, আঁকা বা দাগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যেতে পারে।
স্ট্যাম্প বা স্টিকার লাগানো: ভিসা বা সরকারি স্ট্যাম্প ছাড়া অন্য কোনো স্টিকার বা স্ট্যাম্প লাগাবেন না।
পাতা ছেঁড়া বা ক্ষতিগ্রস্ত করা: কোনো পাতা ছিঁড়ে ফেলবেন না বা ক্ষতি করবেন না। এতে পাসপোর্ট অবৈধ হয়ে যাবে।
ধার দেওয়া: কখনো অন্য কাউকে পাসপোর্ট ধার দেবেন না, এমনকি ঘনিষ্ঠ আত্মীয়কেও না।
পানি বা তরলের কাছে রাখা: পানির বোতল বা অন্য কোনো তরলের পাত্রের কাছে পাসপোর্ট রাখবেন না।
উপসংহার
ই-পাসপোর্ট আধুনিক বিশ্বে ভ্রমণের জন্য একটি অপরিহার্য দলিল। সঠিক ডকুমেন্ট, সঠিক ছবি এবং সঠিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করলে ই-পাসপোর্ট পাওয়া খুবই সহজ। অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা প্রক্রিয়াটিকে আরও সুবিধাজনক এবং স্বচ্ছ করে তুলেছে।
মনে রাখবেন, পাসপোর্ট শুধুমাত্র একটি ভ্রমণ দলিল নয়, এটি আপনার জাতীয় পরিচয় এবং নাগরিকত্বের প্রতীক। তাই এটি সংরক্ষণ এবং ব্যবহারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করুন। আবেদনের সময় সব তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন, ছবির নিয়ম মেনে চলুন এবং প্রয়োজনীয় সব ডকুমেন্ট প্রস্তুত রাখুন।
আশা করি এই বিস্তারিত গাইড আপনার ই-পাসপোর্ট তৈরির প্রক্রিয়াকে সহজ করে দেবে। যেকোনো জটিলতা বা সমস্যার ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করতে দ্বিধা করবেন না। সঠিক প্রস্তুতি এবং সময়মতো আবেদন করলে আপনার ই-পাসপোর্ট পাওয়া হবে নির্বিঘ্ন এবং সহজ।
এখনই আপনার ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করুন এবং বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে ভ্রমণের স্বপ্ন পূরণ করুন। নিরাপদ ও সুখী ভ্রমণ হোক!
