- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
খাদ্য অধিদপ্তর | খাদ্য পরিদর্শক/উপ-খাদ্য পরিদর্শক | ২৩.১২.২০১১
- খাদ্য অধিদপ্তর ২০১১
- সাধারণ জ্ঞান
ইউরোপীয় বণিকদের মধ্যে কারা প্রথম বাংলায় এসেছিল?
সঠিক উত্তরটি হলো পর্তুগিজ।
বাংলার সমৃদ্ধ সম্পদ এবং বাণিজ্যের বিপুল সম্ভাবনার কথা মধ্যযুগ থেকেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল। প্রাচীন রেশম পথ বা সিল্ক রোডের বিকল্প হিসেবে সমুদ্রপথে প্রাচ্যের দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ স্থাপনের নেশায় ইউরোপীয় বণিকরা ব্যাকুল হয়ে উঠেছিল। এই দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রার অভিযানে সফল হয়ে ভাস্কো দা গামা যখন ১৪৯৮ সালে ভারতের কালিকট বন্দরে পৌঁছান, তখন থেকেই বাংলায় ইউরোপীয় বণিকদের আসার পথ সুগম হয়।
পর্তুগিজরাই ছিল প্রথম ইউরোপীয় জাতি যারা সমুদ্রপথে বাংলায় পা রাখে। ১৫১৬ সালের দিকে জোয়াও দ্য সিলভেইরা নামক এক পর্তুগিজ নাবিক প্রথম এই অঞ্চলের উপকূলে আসেন। পরবর্তীতে ১৫৩৭ সালে তারা তৎকালীন বাংলার প্রধান বন্দর চট্টগ্রামে একটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপনের অনুমতি পায়। সেই সময়কার ইতিহাসে চট্টগ্রামকে তারা 'পর্তো গ্রান্দে' বা বড় বন্দর হিসেবে অভিহিত করত। পর্তুগিজরা কেবল ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, তারা তাদের উন্নত জাহাজ নির্মাণ শৈলী এবং সমরকৌশল দিয়ে বাংলায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। হুগলি এবং চট্টগ্রামের মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোতে তাদের শক্ত অবস্থান গড়ে ওঠে।
বাংলার কৃষি পণ্য, বিশেষ করে চিনি, রেশম এবং মসলিনের প্রতি তাদের বিশেষ আকর্ষণ ছিল। তবে তাদের আগমনের ইতিহাস সবসময় সুখকর ছিল না। সপ্তদশ শতাব্দীর দিকে পর্তুগিজদের মধ্যে দস্যুবৃত্তির প্রবণতা দেখা দিলে তৎকালীন বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খাঁ তাদের চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে চট্টগ্রাম থেকে বিতাড়িত করেন। তবুও বাংলার ইতিহাসে পর্তুগিজদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। তারা যেমন বাংলায় আনারস, তামাক এবং আলুর মতো নতুন ফসলের প্রবর্তন করেছে, তেমনি বাংলা ভাষায় অনেক পর্তুগিজ শব্দও যোগ হয়েছে যা আমরা আজও ব্যবহার করি। পর্তুগিজদের হাত ধরেই বাংলায় আধুনিক ইউরোপীয় বাণিজ্যিক যুগের সূচনা হয়েছিল।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

