- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
খাদ্য অধিদপ্তর | খাদ্য পরিদর্শক/উপ-খাদ্য পরিদর্শক/উচ্চমান সহকারী/অডিটর/সুপারভাইজার | ২৪.০৪.২০০৯
- খাদ্য অধিদপ্তর ২০০৯
- বাংলা
'বিষের বাঁশি' কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা কে?
‘বিষের বাঁশি’ কাব্যগ্রন্থের রচয়িতা হলেন বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯২৪ সালের আগস্ট মাসে এই বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশিত হয়। এটি নজরুলের অন্যতম প্রধান একটি রাজনৈতিক কাব্যগ্রন্থ, যেখানে পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্তির তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে। নজরুল যখন এটি রচনা করেন, তখন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে ছিল। কবির লেখনীতে যে দ্রোহ এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠার সুর ছিল, তা তৎকালীন ব্রিটিশ সরকারকে এতটাই ভীত করে তুলেছিল যে তারা প্রকাশের মাত্র কয়েক মাসের মাথায় বইটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
একজন মেন্টর হিসেবে আমি বলতে চাই, নজরুলের সাহিত্য কেবল পড়ার বিষয় নয়, বরং তা গভীর ভাবে অনুধাবনের বিষয়। এই কাব্যগ্রন্থের নামকরণের মধ্যেই এক ধরণের প্রতীকী ব্যঞ্জনা রয়েছে। বাঁশি সাধারণত সুর বা প্রেমের প্রতীক হলেও নজরুল একে বিষের বাঁশিতে রূপান্তর করেছেন। এর কারণ হলো, পরাধীন জাতির কাছে তখন মধুর সুরের চেয়ে জাগরণের তীব্র দহন বেশি প্রয়োজন ছিল। এই কাব্যের প্রতিটি কবিতায় কবি শোষণ, অত্যাচার এবং সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। নজরুলের এই লেখনী তৎকালীন তরুণ সমাজকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অদম্য সাহস জুগিয়েছিল।
সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে এই ধরণের কালজয়ী সৃষ্টিগুলো সম্পর্কে জানা খুব জরুরি। এটি শুধু বাংলা সাহিত্যের একটি অংশ নয়, বরং আমাদের সাহসের একটি বড় উৎস। নজরুলের এই বিদ্রোহী সত্তা তাকে বাংলা সাহিত্যে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছে। আপনি যদি আরও গভীরে গিয়ে তাঁর কবিতাগুলো পড়েন, তবে দেখতে পাবেন কীভাবে শব্দের মাধ্যমে একটি গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলা সম্ভব।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

