- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন এর বেঞ্চ সহকারী পদের প্রশ্ন সমাধান [১৬ মে ২০২৬]
- জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন ২০২৬
- সাধারণ জ্ঞান
সতীদাহ প্রথা কবে রহিত হয়?
১৮১৯
১৮২৯
১৮৪৯
১৮৩৯
১৮২৯
সঠিক উত্তর হলো ১৮২৯।
ইতিহাসের পাতায় এই দিনটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। সমাজ সংস্কারের ক্ষেত্রে এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। প্রাচীন ভারতের হিন্দু সমাজে সতীদাহ প্রথা নামে একটি অত্যন্ত অমানবিক নিয়ম প্রচলিত ছিল। এই নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত নারীর স্বামী মারা গেলে সেই মৃত স্বামীর চিতায় জীবন্ত স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারা হতো। ধর্মের নামে চলা এই নিষ্ঠুর সামাজিক ব্যাধি দীর্ঘদিন ধরে সমাজকে কলুষিত করে আসছিল।
এই প্রথা বন্ধ করার পেছনে যিনি সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন, তিনি হলেন রাজা রামমোহন রায়। তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী সমাজ সংস্কারক। তিনি এই অমানবিক প্রথার বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং জনমত তৈরি করেন। তিনি শাস্ত্রীয় যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করার চেষ্টা করেন যে, হিন্দু ধর্মে সতীদাহ প্রথার কোনো বাধ্যতামূলক স্বীকৃতি নেই।
রাজা রামমোহন রায়ের এই অক্লান্ত পরিশ্রম এবং আন্দোলনের ফলেই তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের গভর্নর জেনারেল লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা নিষিদ্ধ করার জন্য আইন প্রণয়ন করেন। অবশেষে ১৮২৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ‘সতীদাহ রেগুলেশন অ্যাক্ট’ (Regulation XVII) পাসের মাধ্যমে এই প্রথাকে সম্পূর্ণ বেআইনি এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের মনে রাখা উচিত যে, সমাজ পরিবর্তনের এই লড়াইগুলো রাতারাতি সফল হয়নি। এর পেছনে ছিল বহু মানুষের কঠোর সংগ্রাম এবং কুসংস্কারের বিরুদ্ধে যুক্তিবাদী চিন্তার জয়। এই আইন পাসের মাধ্যমেই ভারতীয় উপমহাদেশে নারীদের জীবন রক্ষার এবং অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছিল।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
ইহুদি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি সংবলিত 'বেলফোর ঘোষণা' কোন সালে দেওয়া হয়েছিল?
১৯১৫
১৯১৭
১৯১৯
১৯১৪

