- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১২.১০.২০১২ [ক্যামেলিয়া]
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১২
- সাধারণ জ্ঞান
ঢাকার বিখ্যাত 'তারা মসজিদ' তৈরি করেন-
ঢাকার তারা মসজিদ বাংলাদেশের অন্যতম সুন্দর ও অনন্য স্থাপত্যশৈলীর মসজিদ। এটি নির্মাণ করেন মির্জা আহমেদ জান বা মির্জা গোলাম পীর, যিনি ছিলেন ঢাকার একজন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। ১৮শ শতকের শেষের দিকে (আনুমানিক ১৮৬০-১৮৭০ সালের মধ্যে) তিনি এই মসজিদটি নির্মাণ করেন পুরান ঢাকার আরমানিটোলা এলাকায়।
তারা মসজিদের বিশেষত্ব:
মসজিদটির নাম "তারা মসজিদ" হওয়ার পেছনে রয়েছে এর অসাধারণ সাজসজ্জা। পুরো মসজিদের দেয়াল ও গম্বুজ জুড়ে রয়েছে নীল, সবুজ, সাদা ও হলুদ রঙের জাপানি ও ইংল্যান্ড থেকে আনা চিনামাটির তারকা খচিত টাইলস। হাজার হাজার তারার মোটিফ দিয়ে সাজানো বলে এর নাম হয়েছে তারা মসজিদ। রাতে আলো জ্বললে পুরো মসজিদ যেন তারায় ভরা আকাশের মতো দেখায়।
স্থাপত্যশৈলী:
মসজিদটি মুগল স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত হলেও এর অলংকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনটি গম্বুজ ও দুটি মিনার বিশিষ্ট এই মসজিদের ভেতরে ও বাইরে ব্যবহৃত হয়েছে রঙিন টাইলসের কারুকাজ। দেয়ালে রয়েছে জ্যামিতিক নকশা, ফুল-লতাপাতার ডিজাইন এবং বিভিন্ন ইসলামিক ক্যালিগ্রাফি। মসজিদের প্রবেশদ্বারে রয়েছে চারটি অষ্টভুজাকৃতি টাওয়ার। এই অনন্য সাজসজ্জার কারণে একে "মোজাইক মসজিদ"ও বলা হয়।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
খান সাহেব আবুল হাসনাত: তিনি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর একজন শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক। তার সাথে মসজিদ নির্মাণের কোনো সম্পর্ক নেই।
নওয়াব সলিমুল্লাহ: তিনি ছিলেন ঢাকার শেষ নওয়াব (১৯০১-১৯১৫)। তিনি আহসান মঞ্জিল সংস্কার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখলেও তারা মসজিদের সাথে সংযুক্ত নন।
শায়েস্তা খান: মুগল সুবাদার শায়েস্তা খান (১৬৬৪-১৬৮৮) বাংলায় অনেক স্থাপনা তৈরি করেছেন, যেমন লালবাগ কেল্লা। কিন্তু তারা মসজিদ তার সময়ের প্রায় দুইশ বছর পরে নির্মিত।
মনে রাখার কৌশল: "মির্জা আহমেদ জানেন তারা দিয়ে মসজিদ সাজাতে" - এভাবে মনে রাখলে ভুলবেন না।
বর্তমান অবস্থা: তারা মসজিদ এখনও সক্রিয় এবং নিয়মিত নামাজ হয়। এটি পুরান ঢাকার একটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থান এবং বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর কর্তৃক সংরক্ষিত। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এর অনন্য সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমান।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

