- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ১২.১০.২০১২ [ক্রিসানথিমাম]
- প্রাথমিক শিক্ষক ২০১২
- সাধারণ জ্ঞান
বাংলাদেশের রণসঙ্গীতটির সুরকার কে?
বাংলাদেশের রণসংগীত "চল চল চল" এর রচয়িতা এবং সুরকার উভয়ই কাজী নজরুল ইসলাম। ১৯২৮ সালে তিনি এই গানটি রচনা ও সুরারোপ করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় এবং তার পরবর্তীতে এই গানটি মুক্তিযোদ্ধা ও জনগণকে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এটিকে রণসংগীত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
গানের তাৎপর্য:
"চল চল চল, ঊর্ধ্ব গগনে বাজে মাদল" - এই লাইন দিয়ে শুরু হওয়া গানটি সাহস, শক্তি এবং দেশপ্রেমের প্রতীক। নজরুল ইসলাম ছিলেন বিদ্রোহী কবি, যার লেখনী সবসময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে এবং স্বাধীনতার পক্ষে ছিল। এই গানে তিনি যুব সমাজকে এগিয়ে চলার, বাধা ভাঙার এবং মুক্তির জন্য লড়াই করার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যান্য অপশনগুলো কেন ভুল:
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: তিনি বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত "আমার সোনার বাংলা" এর রচয়িতা ও সুরকার। ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের সময় তিনি এই গান রচনা করেন। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে এটি গৃহীত হয়। তাই জাতীয় সংগীত এবং রণসংগীত - এই দুটি ভিন্ন বিষয় মনে রাখতে হবে।
সমর দাস: তিনি একজন প্রখ্যাত ভারতীয় সংগীত পরিচালক ছিলেন যিনি মূলত বাংলা চলচ্চিত্রে কাজ করতেন। রবীন্দ্র সংগীত এবং আধুনিক গানে তার অবদান আছে, কিন্তু "চল চল চল" এর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। অনেকে ভুল করে মনে করেন যে জাতীয় সংগীতের সুরকার সমর দাস, কিন্তু সেটিও ভুল - জাতীয় সংগীতের সুর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নিজেরই করা।
শেখ লুৎফর রহমান: তিনি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের প্রথম সরকারি সুর সংযোজক এবং পরিচালক। ১৯৭২ সালে স্বাধীনতার পর "আমার সোনার বাংলা" গানটিকে জাতীয় সংগীত হিসেবে গ্রহণ করা হলে, এর বিদ্যমান সুরে কিছু পরিমার্জন এবং অর্কেস্ট্রা সংযোজনের কাজ করেন তিনি। তবে মূল সুর রবীন্দ্রনাথেরই ছিল। রণসংগীতের সাথে তার কোনো সংযোগ নেই।
মনে রাখার কৌশল:
একটি সহজ সূত্র মনে রাখুন: "রবীন্দ্রনাথ দিলেন জাতীয় সংগীত, নজরুল দিলেন রণসংগীত।" দুজনেই তাদের নিজ নিজ গানের রচয়িতা এবং সুরকার। রবীন্দ্রনাথ শান্তির কবি, দেশের সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। আর নজরুল বিদ্রোহী কবি, যুদ্ধ ও সংগ্রামের গান লিখেছেন।
অতিরিক্ত তথ্য:
নজরুল ইসলাম মাত্র ৪৩ বছর বয়সে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে বাকশক্তি হারান। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাকে সপরিবারে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন এবং জাতীয় কবির মর্যাদা দেন। ১৯৭৬ সালে তার মৃত্যুর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। তার লেখা অসংখ্য দেশাত্মবোধক গান মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছিল।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ
দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপটি কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত?
সাধারণ পরিষদের বার্ষিক নিয়মিত অধিবেশন শুরু হয় কখন থেকে?
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে?
মালয়েশিয়া ও সুমাত্রাকে পৃথক করেছে কোন প্রণালী?
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রথম গভর্নর কে ছিলেন?
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর সংঘটিত হয়েছিল ইংরেজি কত সালে?
১৭৭০ সালে

