• হোম
  • চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি

৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৩

  • বিসিএস ২০১৩
  • বাংলা
Back

রচনা লিখুন : তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ

তথ্যপ্রযুক্তি ও বাংলাদেশ

ভূমিকা : বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। শিল্প বিপ্লবের পর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন পৃথিবীতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নজিরবিহীন উন্নতির ফলে গোটা বিশ্ব আজ গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি দূরকে এনেছে চোখের সামনে, পরকে করেছে আপন, আর অসাধ্যকে সাধন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বের সকল প্রকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল হাতিয়ার। যে জাতি প্রথ্যপ্রযুক্তিতে যত বেশি দক্ষ, তাদের সার্বিক অবস্থাও তত বেশি উন্নত। একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হতে এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজ অবস্থান সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল করতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই। কারণ একবিংশ শতাব্দীর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ দুইই আবর্তিত হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তিকে ঘিরে।

তথ্যপ্রযুক্তি কি : তথ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াকরণ, ব্যবস্থাপনা এবং বিতরণের জন্য ব্যবহৃত প্রক্রিয়া ও পদ্ধতির সমন্বয়কে তথ্যপ্রযুক্তি বলা হয়। কম্পিউটিং, মাইক্রো ইলেকট্রনিক্স, টেলিকমিউনিকেশন ইত্যাদি বিষয় তথ্যপ্রযুক্তির সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত।

তথ্যপ্রযুক্তির কয়েকটি বিশেষ দিক : ডেটাবেস উন্নয়ন প্রযুক্তি, সফটওয়্যার উন্নয়ন প্রযুক্তি, সেটওয়ার্ক, মুদ্রণ ও রিপ্রোগ্রাফিক প্রযুক্তি, তথ্যভাণ্ডার প্রযুক্তি, বিনোদন প্রযুক্তি, শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ইত্যাদি সবই তথ্যপ্রযুক্তির এক-একটি উল্লেখযোগ্য দিক।

তথ্যপ্রযুক্তির বৈশিষ্ট্য : তথ্যপ্রযুক্তির নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যসমূহ লক্ষ্য করা যায়:

  • কণপ্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে সময় বাড়ার সাথে সাথে কাজের খরচ কমতে থাকে।
  • রায়প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্র ও কাজের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
  • উন্নত প্রযুক্তি লেনদেন ও তথ্য যোগাযোগে দ্রুত পরিবর্তন সাধন করে।।
  • তথ্যপ্রযুক্তি চিকিৎসা, শিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের গতিকে ত্বরান্বিত ও সহজ করে।
  • তথ্যপ্রযুক্তি উৎপাদনের সকল ক্ষেত্রে অপচয় হ্রাস করে।
  • তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভজনক প্রক্রিয়া সৃষ্টি করে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও বর্তমান বাংলাদেশ/তথ্যপ্রযুক্তিতে আমাদের বর্তমান অবস্থা : গত দুই দশকে বিশ্বযুদ্ধ ঘটেছে অভাবনীয় সব পরিবর্তন। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে মানুষ সময় ও দূরত্বকে জয় করেছে। বিষয়ে এনেছে হাতের মুঠোয়। বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তির এ জীয়নকাঠির স্পর্শে ধীরে ধীরে জেগে উঠছে। গত ২০ বছরে এ দেশে তথ্যপ্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য বিকাশ ঘটেছে। তথ্যপ্রযুক্তি যে বাংলাদেশের জন্যও সম্ভাবনাহা প্রযুক্তি, এ কথা আজ সবাই উপলব্ধি করছে। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষার্থীরা তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপারে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, ইপিবি, বিসিসি, বিসিএস, নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশীদের সংগঠন টেকবাংলা প্রভৃতি সংগঠন থেকে প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ গত দশ বছরে এগিয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার : তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার যে জীবনযাত্রার মান বদলে দিতে পারে তা বিশ্বাস করতে এখন আর কেউ ভুল করছে না। তাই তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাংলাদেশে এখন অনেক বেড়েছে। স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত কম্পিউটার শিক্ষা কার্যক্রম প্রবর্তন করা হয়েছে। প্রতিনিয়ত কম্পিউটারের ব্যবহার বাড়ছে। দেশে এখন কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ইন্টারনেটও তথ্যপ্রযুক্তি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৭ থেকে ৮ হাজারের মতো। সারা দেশে কম্পিউটার হার্ডওয়্যারের শো-রুম রয়েছে সহস্রাধিক। ঢাকাতেই গড়ে উঠেছে ৫ শতাধিক হার্ডওয়্যার প্রতিষ্ঠান। সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও শতাধিক। তাছাড়া বর্তমানে কম্পিউটার মেলা, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা, ওয়েব ডিজাইন প্রতিযোগিতা এবং কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও প্রদর্শনী অহরহ হচ্ছে। ঢাকাসহ সারা দেশের শহরগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন 'সাইবার ক্যাফে' একের পর এক স্থাপিত হচ্ছে।

তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে সরকারের পদক্ষেপ : কোনো দেশকে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্ব পরিমতার নিজের অবস্থান সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল করতে হলে তথ্যপ্রযুক্তি বিকাশের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান সরকারের (শেখ হাসিনা সরকার) অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল তথ্যপ্রযুক্তির সম্ভাব্য সর্বোচ্চ বিকাশের মাধ্যমে মানবসম্পদ উন্নয়ন। এ লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের শাসনামলে তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশে সহায়ক কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যেমন-

  • তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার সার বাড়ানো। আর তাই দেশের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে যোগাযোগ প্রযুক্তির উন্নয়ন করা হচ্ছে। প্রায় সারা দেশ ডিজিটাল টেলিফোনের আওতায় চলে আসছে। ইতোমধ্যেই দেশের প্রতিটি জেলায় ইন্টারনেট পৌঁছে গেছে। শিগগিরই উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে যাবে।
  • তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত প্রসারের লক্ষ্যে সরকার 'জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা' অনুমোদন করেছে। এই নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের প্রয়াসে সরকার ঢাকার প্রাণকেন্দ্র কারওয়ান বাজারে ৭০ হাজার বর্গফুট আয়তনের ফ্লোরে অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত একটি 'আইসিনি ইনকিউবেটর' স্থাপন করেছে।
  • বিদেশে বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য বাজারজাতকরণের লক্ষ্যে 'আইসিটি বিজ্ঞদের প্রমোশন সেন্টার' স্থাপন করা হয়েছে।
  • তথ্যপ্রযুক্তি প্রসারের লক্ষ্যে ঢাকার অদূরে কালিয়াকৈরে ২৬৫ একর জমিতে হাইটেক পার্ক স্থাপন কর হচ্ছে। সম্প্রতি রেলওয়ের ফাইবার অপটিক লাইন সবার ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
  • দেশের সকল অঞ্চলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার এবং এ বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার লক্ষ্যে মাধ্যমিক স্কুল পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষা কোর্স প্রবর্তন এবং কম্পিউটার প্রদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ছাত্রছাত্রীদের জন্য চালু করা হয়েছে আইসিটি ইন্টার্নশীপ কর্মসূচি। এছাড়াও তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক উন্নয়নে তথ্যপ্রযুক্তির ভূমিকা : তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নয়নের যে জোয়ার বইছে উন্নত রূপগুলোতে, দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে ভারতে তার প্রভাব অনেক আগে পড়লেও আমরা তা থেকে অনেক পেছনে পড়ে আছি। তথ্যপ্রযুক্তিকে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করে এবং মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান, ভারত, থাইল্যান্ড প্রভৃতি দেশ অনেক এগিয়ে গেছে। অথচ আমাদের নির্বুদ্ধিতার কারণে আজ আমরা তথ্যের সুপার হাইওয়ের সাথে যুক্ত হতে পারছি না। আবার সরকারের অনীহার কারণে ফাইবার অপটিকস ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছি আমরা। ভাই আমাদের প্রচুর টাকা খরচ করে ব্যবহার করতে হচ্ছে ভি স্যাটের লাইন। তবে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তথ্যপ্রযুক্তি খাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিভিন্নভাবে অবদান রাখছে। দেশে কম্পিউটার সফটওয়্যার তৈরি বেশ বেড়েছে। প্রতি বছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার সফটওয়্যার বিদেশে করানি হচ্ছে।

সম্ভাবনাময় সফটওয়্যার শিল্প : বাংলাদেশে বর্তমানে সফটওয়্যার শিল্প সবচেয়ে সম্ভাবনাময় শিল্প হিসেবে দেখা দিয়েছে। হার্ডওয়্যার নির্মাণের সঙ্গে এখনো বাংলাদেশ তেমনভাবে জড়িত হয়নি। এ দেশে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট তিনটি ক্যাটাগরিতে হচ্ছে। এগুলো হলো-কাস্টমাইজড সফটওয়্যার, মাল্টিমিডিয়া সফটওয়্যার ও ওয়েব সফটওয়্যার। এর মধ্যে দেশে শিক্ষা ও বিনোদনে অম্পিউটারভিত্তিক মাল্টিমিডিয়ার বাজার অতি দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। দেশের ১৬ শতাংশ সফটওয়্যার সর্ম তাদের ডেভেলপ করা সফটওয়্যার বিদেশে রপ্তানি করছে। বাংলাদেশ থেকে সফটওয়্যার রপ্তানি হবে অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, ভুটান, কানাডা, সাইপ্রাস, দুবাই, জার্মানি, ভারত, মালয়েশিয়া, কোরিয়া, চেনাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি সফটওয়্যার রপ্তানি হচ্ছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প : বাংলাদেশে বর্তমানে কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, ঘোরনেট ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ৭-৮ হাজার প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বেকার যুবক-যুবতীর কর্মসংস্থান হচ্ছে। বর্তমানে দেশে তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বেকার যুবদের কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন কোনো যুবক-যুবতী সার বেকার থাকছে না। দেশ-বিদেশে এখন কম্পিউটার প্রোগ্রামার, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও আইটি কর্মীদের বিপুল চাহিদা দেখা দিয়েছে। তারা সহজেই ভালো উপার্জন করতে পারছে।

তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের জন্য করণীয় : বর্তমান একবিংশ শতাব্দীর প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে বাংলাদেশকে চিকে থাকতে হলে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের বিকল্প নেই। আমাদের দেশের শিক্ষিত তরুণ সম্প্রদায় আয়াযুক্তি বিষয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় তাদের যোগ্যতা বারবারই প্রমাণ করেছে। তাই আমাদের তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তিকে একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কার্যকরী করে তুলতে হবে। এজন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা দরকার : 

জাতীয় তথ্য অবকাঠামো গঠন: জাতীয় তথ্য অবকাঠামো গড়ে তোলা ব্যতীত বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তি বিপ্লবের অংশীদার হওয়া সম্ভব নয়, যে রকম সংযোগ সড়ক ছাড়া মহাসড়কে পৌঁছানো সম্ভব নয়। ৩০ অবকাঠামো ব্যতীত গ্রামীণ বাংলাদেশ তথ্য বৈষম্যের শিকার হবে, যা বাজার অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ খাতে সুবিধালাভের সম্ভাবনাকে সংকুচিত করে ফেলবে। ফলে বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক নয় অর্থনীতির অংশীদার হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে।

টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা তথ্য অবকাঠামোর মেরুদণ্ড। শক্তিশালীও সুবিস্তৃত টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যতীত তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়ন একেবারেই অসম্ভব। অথচ এ দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। তাই দেশের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের উন্নয়নে নিম্নোক্ত কর্মসূচিগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • টেলিনেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বার্ষিক লক্ষ্য নির্ধারণ ও তার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
  • টেলি নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (IRC) সর্বজনীন সেবার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া।
  • টেলিঘনত্ব ও টেলিনাগালের হার বৃদ্ধি করা।
  • টেলিযোগাযোগ খরচ সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে আনা।
  • দ্রুতগতির তথ্য সংযোগ (High speed data network) প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
  • জরুরিভিত্তিতে ডাকঘর, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণগ্রন্থাগার, রেলস্টেশন, স্থানীয় কমিউনিটি। সেন্টার, হাট-বাজার, এনজিও শাখায় ইন্টারনেট স্থাপন করা।
  • সর্বজনীন টেলিসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে টিএন্ডটিকে (T&T) সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেয়া।
  • অপটিক্যাল ফাইবার ব্যাকবোনের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।

মানবসম্পদ উন্নয়ন : দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ছাড়া কোনো অবস্থাতেই দারিদ্র্য দূরীকরণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ সাধন সম্ভব নয়। তাই মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা। যেতে পারে:

  • বাজারের চাহিদার প্রেক্ষিতে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার কারিকুলাম দ্রুত নবায়নের ব্যবস্থা করা।
  • সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
  • ডিগ্রি পর্যন্ত বাধ্যতামূলক কম্পিউটার শিক্ষা চালু করা।
  • বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার ব্যবস্থা করা।
  • ইংরেজি শিক্ষাকে প্রযুক্তি শিক্ষা হিসেবে গুরুত্ব দেয়া।
  • বাস্তবভিত্তিক যোগ্যতা অর্জনের জন্য তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে। সম্পর্কোন্নয়নের ব্যবস্থা করা।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি চালু করা : বিশ্বব্যাপী তথ্যপ্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের যুগে জীবনযাত্রার সকল ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের প্রতি আমরা কত দ্রুত সাড়া দেশ তার ওপর নির্ভর করছে আগামী দিনের বাংলাদেশের ভাগ্য। তাই আমাদের উচিত অতি দ্রুত তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাকিং ও অর্থনীতি চালু করা, আর এজন্য আমাদের করণীয় হবে :

  • সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক স্থাপন করা।
  • দেশে নিয়মিত সফটওয়্যার ডিজাইন ও প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।
  • সফটওয়্যার কোয়ালিটি ইনস্টিটিউট ও সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা।
  • সকল অফিস-আদালতে বাধ্যতামূলক ই-মেইল ব্যবহার নিশ্চিত করা।
  • ই-কমার্সভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে জোরদার করা।
  • বাংলাদেশ ভিত্তিক ই-কমার্স কনটেন্ট তৈরিকে উৎসাহিত করা।
  • জনগণের জন্য টেলিমেডিসিন সেবা চালু করা।
  • বাংলা ভাষায় ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্য সেবা চালু করা।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুকরণ : সুদক্ষ ব্যাংকিং ব্যবস্থা দেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। আর এই ব্যাংকিং খাতকে দক্ষ, যুগোপযোগী ও আধুনিক করার জন্য তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালুকরণের কোনো বিকল্প নেই। আর এজন্য করণীয় হলো:

  • ব্যাপক কৌশলগত পরিকল্পনাভিত্তিক Banking Automation নিশ্চিত করা।
  • বাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সম্পূর্ণ তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক করার লক্ষ্যে ব্যাপক পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
  • কেন্দ্রীয় ব্যাংকে Automated Clearing House অবিলম্বে চালু করা।
  • ব্যাংকসমূহের সকল উপজেলাভিত্তিক শাখাগুলো নেটওয়ার্কের আওতায় আনা।

তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষ সরকারব্যবস্থা গঠন : তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে জাতীয় উন্নয়ন সাধন করার জন্য প্রয়োজন তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষ সরকারব্যবস্থা গড়ে তোলা। আর এ জন্য করণীয় হলো:

  • সরকারি তথ্যে অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইন্টারনেটভিত্তিক তথ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
  • সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠানে ই-মেইল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।
  • আঞ্চলিক Video Conferencing System গড়ে তোলা।
  • সরকারি বিভিন্ন সেবা তথা আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক, নাগরিকত্ব নিবন্ধন, স্বত্বাধিকার ও জমি নিবন্ধন সেবা ইন্টারনেটের আওতায় আনা।
  • সরকারি সুবিধা বিশেষ করে বেতন, অবসর ভাতা ইত্যাদি ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রদানের ব্যবস্থা করা।

উপসংহার : পরিশেষে বলা যায় যে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই বর্তমান বিশ্বে সকল প্রকার উন্নয়ন বর্বরাচের মূল হাতিয়ার। যে জাতি তথ্যপ্রযুক্তিতে যত বেশি দক্ষ, তাদের সার্বিক অবস্থাও তত বেশি বঙ্গ। তাই তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দারিদ্র্য দূরীকরণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও যুবদের বেকারত্ব দূর করার আজব আমাদেরকে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে হবে। দেশে তথ্যপ্রযুক্তির বিপ্লব ঘটানোর জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। সরকার, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সর্বস্তরের জনগাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে অচিরেই বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে বিপ্লব ঘটিয়ে ক্ষুধা ও অবিশ্রামুক্ত হয়ে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে বিশ্ব পরিমণ্ডলে নিজ অবস্থান সুদৃঢ় ও উজ্জ্বল করতে সক্ষম এটাই আমাদের একমাত্র প্রত্যাশা

শেয়ার :

সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ