- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৩
- বিসিএস ২০১৩
- বাংলাদেশ
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ে বাঙালি সংস্কৃতি কিভাবে প্রাণশক্তি হিসেবে কাজ করেছে। বর্ণনা করুন।
স্বাধীনতা মানুষের জন্মগত অধিকার। তাছাড়া সৃষ্টির কোনো জীবই পরাধীন থাকতে চায় না। ব্যক্তি, জাতি সবাই চায় স্বকীয় সত্তার বিকাশ ঘটাতে। তদ্রূপ বাঙালি জাতিও তার নিজস্ব আশা-আকাকলা, ভাষা-সাহিত্য, জীবনাচরণ প্রকৃতির বিকাশ ঘটাতে ছিল বদ্ধপরিকর। তাই এ জাতি পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠীর অন্যায়, অত্যাচার আর শোষণের বিরুদ্ধে গড়ে তোলে তীব্র প্রতিবাদ। শুরু হয় স্বাধীনতা আন্দোলন। বাংলাদেশের এই স্বাধীনতা আন্দোলনে সংস্কৃতির রয়েছে অসামান্য অবদান। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে সংস্কৃতির অবদান আলোচনার পূর্বে সংস্কৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেয়া আবশ্যক।
সংস্কৃতি কি: সংস্কৃতি হলো মানুষের আচার-আচরণের সমষ্টি। মানুষের জাগতিক নৈপুণ্য ও কর্মকুশলতা, বিশ্বাস, আশা-আকাঙ্ক্ষা, নৈতিকতা, রাজনীতি, ভাষা, কলা, মূল্যবোধ সবকিছুই সংস্কৃতির অন্তর্ভুক্ত। সংস্কৃতি হচ্ছে সমাজের মানুষের অর্জিত জ্ঞান, বিশ্বাস, কলা, নীতি, নিয়ম, সংস্কার ও অন্যান্য যে কোনো বিষয়ে দক্ষতার সর্বাধিক সমাবেশ। মোতাহের হোসেন চৌধুরী বলেন, 'সংস্কৃতি মানে সুন্দরভাবে, বিচিত্রভাবে বাঁচা।' সংস্কৃতি সম্পর্কে এমারসন বলেন, 'সংস্কৃতিই খুলে দেয় সুন্দরের চেতনার দরজা।' সংস্কৃতি সম্পর্কে ম্যাথু আর্নল্ড-এর অভিমত হলো, 'সংস্কৃতি আমাদের পরিচয় করিয়ে দেয় বিশ্বের সর্বোত্তম জিনিসগুলোর সঙ্গে এবং সেই সঙ্গে মানুষের গৌরবময় ইতিহাসের সঙ্গে।' আবার কালটাজার গ্রাসিয়ান বলেন, 'মানুষ জন্মায় বর্বর হয়ে, সংস্কৃতিই তাকে করে সুসভ্য'। তবে সংস্কৃতি শনাক্তকরণের কোনো নির্দিষ্ট বৈশিষ্ট। নেই, গত্তি নেই। এটি চলমান জীবনের প্রতিচ্ছবি। এলাকাভিত্তিক এর ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। একটা নির্দিষ্ট এলাকার মানুষের জীবন প্রণালী অর্থাৎ মানুষের দৈনন্দিন আচার-আচরণ, কাজকর্ম, পোশাক-পরিচ্ছদ, প্রচলিত লোককাহিন ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠান, প্রতিষ্ঠান, চিন্তা-চেতনা সবকিছুই সংস্কৃতির মধ্যে পড়ে।
স্বাধীনতা-পূর্ব বাঙালি সংস্কৃতি: বাংলাদেশের সংস্কৃতির রয়েছে গৌরবময় ঐতিহ্য। এ দেশের পথে প্রান্তরে সহজ-সরল বিশ্বাসী মানুষের পদচারণা, কাব্য ও শিল্পচর্চা প্রাচীনকাল থেকেই লক্ষ্য করা যায়।
এ দেশের সাহিত্যে গীতি প্রবণতা ও সঙ্গীতের প্রাধান্য দেখা যায় সেই সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই। বাংলায় ভাটিয়ালি, যাত্রা, বাউল, মুর্শিদী, মারফতী, পালাকীর্তন, কবিগান ইত্যাদির মধ্যে বাংলার অন্তরের সুরটি ধ্বনিত হয়। স্বাধীনতা-পূর্ব কালের বাংলা সংস্কৃতির পরিমণ্ডলে এসব আচার অনুষ্ঠানের চটী উপস্থিত ছিল বেশ ভালোভাবেই। এখানে বাস করে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষ আর বাংলা সংস্কৃতি, সফল জাতির সকল স্তরের মানুষের মিলিত মানস-চর্চার বহিঃপ্রকাশ। একে অপরের ভিতর পারস্পরিকতা, হৃদ্যতা, সৌহার্দ্যতা, মমত্ববোধ সেই অনেক জনম থেকেই প্রবল। বাংলাদেশের সংস্কৃতির ভিতর যে ধর্মীয় রীতিনীতি, উৎসব, লোকসাহিত্য, সঙ্গীত, ঋতু উৎসব, প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, সামাজিক প্রথা রয়েছে তা বহুকাল পূর্ব থেকে চলে আসছে।
তবে বিভিন্ন সময়ে কালের আবর্তে সংস্কৃতির চলমান ধারায় বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্ধন ও সমৃদ্ধির ছোঁয়া এক্ষ্য করা যায়। যেমন- ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজি সংস্কৃতির সংস্পর্শ ও পাকিস্তানী আমলে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক তথা সামাজিক কারণে এ দেশের মানুষ অনেকখানি কোণঠাসা অবস্থার মধ্যে গড়ে। ফলে সেই ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির ধারা বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি এ দেশের নিজস্ব সংস্কৃতির অস্তিত্বও অনেকখানি নাজুক হয়ে পড়ে। এ দেশের ভাষা, সাহিত্য, সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি প্রভৃতি উপাদানের নাজুক অবস্থার জন্য মূলত পশ্চিমা শোষক শ্রেণীই ছিল দায়ী।
স্বাধীনতা আন্দোলনে সংস্কৃতির অবদান বাঙালি জাতি সংগ্রামী জাতি। এ জাতি পরাধীনতার গ্লানিকে কখনই মেনে নেয়নি। তাই পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী যখন এ দেশের সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল তখন এ দেশের ছেলে-বুড়ো, নারী-পুরুষ, শিক্ষিত অশিক্ষিত সবাই এ ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলে, শুরু হয় স্বাধীনতা আন্দোলন। নিচে স্বাধীনতা আন্দোলনে সংস্কৃতির অবদান তুলে ধরা হলো:
১. ভাষার দাবি আদায় বাঙালি জাতির মুক্তির প্রথম ধাপ হলো ভাষা আন্দোলন। এ আন্দোলন পরবর্তী সকল রাজনৈতিক আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এ আন্দোলন পূর্ব পাকিস্তানিদেরকে ঐক্য ও স্বাধীনতার চেতনা দিয়েছে। একুশের চেতনা আমাদেরকে আত্মপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে স্বাধীনতা সংগ্রামে অপরিমেয় ইন্ধন যুগিয়েছে। এটি ছিল বাঙালিদের মুক্তির প্রথম আন্দোলন। একুশের চেতনা সকল স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। ভাষা আন্দোলন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কৃষক, শ্রমিক সকল শ্রেণীর মানুষকে উদ্বুদ্ধ করেছিল, যার পরিণতিতে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়।
২. কবি ও কবিতায় মুক্তির আহ্বান: কবি, কবিতা ও সাহিত্য সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়সমৃদ্ধ হয়ে অনেক কবি তাই জ্বালাময়ী কবিতা রচনা করেছেন। নিচে এরূপ কিছু কবি ও তাদের কবিতা উল্লেখ করা হলো:
জসীমউদ্দীন: মুক্তিযুদ্ধের কবিতা আলোচনার ক্ষেত্রে প্রথমেই আসেন পল্লীকবি জসীমউদ্দীন। ১৯৭১ সালের ২ মে ধ্বংসযজ্ঞ শুরুর পরপরই তিনি লিখেছেন 'দপ্তগ্রাম' ও 'মুক্তিযোদ্ধা' কবিতা। তিনি সহজ সরল ভাষায় লিখেছেন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অত্যাচারের নগ্ন ইতিহাস-
"মার কোল হতে শিশুরে কাড়িয়া কাটিল যে খান খান
পিতার সামনে মেয়েরে কাটিয়া করিল রক্তস্নান।"
যুদ্ধের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে অবরুদ্ধ বয়োবৃদ্ধ কবি যেন মানসিকভাবে মুক্তিযোদ্ধায় পরিণত হয়েছেন-
"আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা, মৃত্যু পিছনে আগে
ভয়াল বিশাল নখর মেলিয়া দিবস রজনী জাগি।"
খ. সুফিয়া কামাল: ১৯৭১ সালের ২ মার্চ সোনার বাংলা খচিত পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে মানুষের যে চেতনার প্রতিফলন ঘটেছিল, বাঙালি জাতীয় চেতনার যে ঐক্য সংগঠিত হয়েছিল তার প্রকাশ যেসব কবির কবিতায় ফুটে উঠেছে তার মধ্যে সুফিয়া কামাল অন্যতম। বেগম। সুফিয়া কামাল তার 'প্রথম শহীদ বাংলাদেশের মেয়ে' কবিতায় এ চেতনার প্রকাশ ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশকে পাক হানাদার মুক্ত করার দীপ্তশপথ নিয়ে যে নারী, পুরুষ, শিশু, বৃদ্ধ নির্বিশেষে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, সবাই প্রাণ বিসর্জনে প্রস্তুত হয়েছিল, তার প্রকাশ ঘটেছে কবি বেগম সুফিয়া কামালের কবিতায়।
গ. আবুল হোসেন: বাংলাদেশের আধুনিক কবিদের মধ্যে অগ্রজ আবুল হোসেন 'পুত্রদের প্রতি' কবিতায় এক বাঁশিওয়ালার কথা বলেছেন, হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো যিনি সব ছেলেদের ঘরছাড়া করবেন, যারা আর ফিরবে না, যাদের মুখ আর দেখা যাবে না। স্বাধীনতা আর মুক্তির জন্য একটি পুরো প্রজন্ম ঘড়ছাড়া হলো। কেউ তাদের সেদিন ধরে রাখতে পারেনি ঘরে।
ঘ. শামসুর রাহমান: একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের শ্বাসরুদ্ধকর, ভয়াবহ বন্দিদশা তথা মুক্তিযুদ্ধে মানুষের একাত্মতা সবচেয়ে প্রবলভাবে প্রকাশ পেয়েছে শামসুর রাহমানের কবিতায়। মুক্তিযুদ্ধের সময় রচিত 'বন্দী শিবির থেকে' কাব্যের কবিতায় অবরুদ্ধ ঢাকার চিত্রকল্প চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে
"এ বন্দী শিবিরে
মাথা খুঁড়ে মরলেও পারি না করতে উচ্চারণ
মনের মতন শব্দ কোনো। মনের মতন সব কবিতা লেখার
অধিকার ওরা
করেছে হরণ।"
সুতরাং দেখা যায় যে, এই কবিরাই সময়ের দাবি, মুক্তির বার্তা, অন্যায়ের প্রতিবাদ প্রভৃতি বিষয়কে কেন্দ্র করে কবিতা লিখে, সাহিত্য রচনা করে স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে করেছেন আরও বেগবান, সহজ।
৩. অর্থনৈতিক অধিকার আদায়: অর্থনৈতিক মুক্তি স্বকীয় সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। যদিও ১৯৪৭সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্তর প্রায় একই রূপ ছিল। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর অনুসৃত নীতির ফলে দুই অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের উপনিবেশে পরিণত হয়। পাকিস্তানের তৃতীয় পাঁচশালা পরিকল্পনার (১৯৬৫-৭০) ঘোষিত লক্ষ্য ছিল দুই অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য হ্রাস করা। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, ১৯৬৪-৬৫ সালে যেখানে মাথাপিছু আয়ের বৈষম্য ছিল ৪৬%, সেখানে ১৯৬৯-৭০ সালে এ বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৬০%। পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে সম্পদ পাচারই ছিল এ বৈষম্যের মূল কারণ। এক হিসাব অনুসারে ১৯৪৮-৬৯ সালের মধ্যে মোট ৪১৯ কোটি টাকার সম্পদ পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার করা হয়। তাছাড়া বৈদেশিক সাহায্যের ক্ষেত্রেও পূর্ব পাকিস্তানকে ন্যায্য অংশ দেয়া হয়নি। ১৯৫০-৬৯ সালের মধ্যে পাকিস্তান ৫৬৮৩ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক সাহায্য লাভ করে। তার মাত্র ৩৪% পূর্ব পাকিস্তানকে দেয়া হয়। এভাবে পূর্ব পাকিস্তানের শ্রম ও সম্পদের বিনিময়ে পশ্চিম পাকিস্তানে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয় এবং পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের রক্ষিত বাজারে পরিণত হয়। এমনকি পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থিত শিল্পসম্পদের ৩৪%-এর মালিক ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি পুঁজিপতিগণ। সুতরাং বাঙালিদের চোখে পশ্চিম পাকিস্তানিরা শোষক হিসেবেই প্রতিভাত হয়। এই শোষক শ্রেণীর কবল থেকে নিজেদের মুক্ত করার জন্য বাঙালি জাতি সংগ্রামের পথ বেছে নেয়।
৪. রাজনৈতিক মুক্তি অর্জন: পাকিস্তানের দুই অঞ্চলের মধ্যে সংঘাতের অন্যতম কারণ ছিল রাজনীতি ও প্রশাসনে পশ্চিম পাকিস্তানিদের আধিপত্য। ১৯৪৭-৫৮ সালে পাকিস্তানে সংসদীয় পদ্ধতি চালু ছিল। পাকিস্তানের প্রথম আইন পরিষদে বাঙালিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কিংবা সংখ্যাসাম্য পশ্চিম পাকিস্তানিদের রাজনৈতিক প্রাধান্য ঠেকাতে পারেনি। তার কারণ, শাসকদলের নেতৃত্ব ছিল পশ্চিম পাকিস্তানিদের হাতে। সংসদীয় ব্যবস্থার অধীনে বাঙালিদের যেটুকু সুযোগ ছিল, আইয়ুব খানের শাসন আমলে সেটুকু হতেও তারা বঞ্চিত হয়। ১৯৫৮ হতে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত প্রকৃত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল আইয়ুব খানের হাতে এবং তার শীর্ষস্থানীয় উপদেষ্টারা প্রায় সকলেই ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানি। সামরিক ও বেসামরিক আমলাবর্গ, যারা আইয়ুব আমলে নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন তাদের মধ্যে বাঙালির সংখ্যা ছিল খুবই অল্প। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, ১৯৬৪-৬৫ সালে কেন্দ্রীয় সচিবালয়ে ১৭জন সচিবের মধ্যে মাত্র ২ জন এবং ১৭ জন সর্বোচ্চ সামরিক অফিসারের মধ্যে মাত্র ১ জন বাঙালি ছিলেন। এ অবস্থার প্রেক্ষিতে ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিব ঐতিহাসিক ৬-দফা কর্মসূচি উপস্থাপন করেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব-বাংলাকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা। কিন্তু আইয়ূব সরকার স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে নস্যাৎ করার জন্য আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাসহ কঠোর দমনমূলক নীতি গ্রহণ করে। তার ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মানুষ আওয়ামী লীগ তথা পূর্ণ আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে দ্বার্থহীন রায় প্রদান করে। কিন্তু পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী এ গণরায়কে সম্পূর্ণরূপে অগ্রাহ্য করে অস্ত্রের জোরে তারা আধিপত্য ও শোষণ বজায় রাখতে চায় এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাঙালিদের ওপর সশস্ত্র আক্রমণ শুরু করে। পাকিস্তানি আক্রমণের মুখে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও বিপ্লবী সরকার গঠন করে। সকল শ্রেণীর মানুষ স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে এবং ১ মাসব্যাপী সংগ্রামের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে বাঙালিরা তাদের নিজেদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠিত করে।
উপসংহার: পরাধীন জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশ সাধন করতে পারে না, একে অন্যের সায়তির আজ্ঞাবহ হয়ে জীবন ধারণ করতে হয়। তাইতো বাংঙালি জাতি তার নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায়, আকাশে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে, গড়ে তোলে আন্দোলন, শুরু হয় মুক্তির সংগ্রাম। এই স্বতন্ত্র চিন্তা অভনাই এক সময় বাঙালিকে এনে দেয় স্বতন্ত্র আবাসভূমি। বিশ্বের বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ বিলেরে প্রতিষ্ঠা পায় বাংলাদেশ।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

