- হোম
- চাকরি পরীক্ষার প্রস্তুতি
৩৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রশ্ন সমাধান ২০১৩
- বিসিএস ২০১৩
- বাংলাদেশ
বাংলাদেশে পরমাণু বিদ্যুতের সম্ভাবনা কি?
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যবস্থা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান নিয়ামক। তবে বাংলাদেশের বর্তমানে যে সমস্যাগুলো রয়েছে তার মধ্যে বিদ্যুৎ সমস্যা প্রকট হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যার কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিল্প-কারখানা চালু রাখা। স্থাপন করা হচ্ছে না নতুন নতুন শিল্প-কারখানা। বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বাংলাদেশে পর্যাপ্ত কাঁচামাল (Raw Materials) না থাকার কারণে, এমন কি যেগুলো আছে, সেগুলো অতিমাত্রায় পরিবেশ দূষক (যেমন: কয়লা থেকে বিদ্যুৎ পাওয়ার ক্ষেত্রে) হওয়ার কারণে নতুন করে সম্ভাবনা সৃষ্টি করে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র।
পরমাণু বিদ্যুৎ বলতে সাধারণত বুঝায়, পরমাণু বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের মাধ্যমে পরমাণু বিদ্যুৎ 235 232 90 উৎপন্ন করা। এ প্রক্রিয়াজাত ইউরোনিয়াম 92 অথবা থোরিয়াম th এর নিউক্লিয়াস ভেঙে দুটি ক্ষুদ্রতম অংশে বিভক্ত হয়ে শক্তি সৃষ্টি করে (200 এম ইভি) এবং দুটি বা তিনটি ইলেকট্রন নির্গত করে। এ ফিশন পদ্ধতির মাধ্যমে চেইন বিক্রিয়া সৃষ্টি করা যায়। ফলে এই শক্তি এক বিরাট তাপের সৃষ্টি করে থাকে, যাকে পরবর্তী সময়ে বিদ্যুতে পরিণত করা যায়। এর শক্তি এত বেশি যে এক কিলোগ্রাম ইউরোনিয়ামে যে শক্তি তা ২,৫০০ টন কয়লা পোড়ালে যে শক্তি হবে তার সমান।
তুলনামূলক স্বল্প পরিবেশ দূষক (যেমন: কয়লা অধিক দুষক) হওয়া এবং অধিক পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সরকারের একটি নতুন চ্যালেঞ্জ। এ লক্ষ্যে সরকার রাশিয়ার সাথে ২০০৯ সালের ১৩ মে একটি প্রাথমিক চুক্তি স্বাক্ষর করে। যাতে বলা হয় ১,০০০ মেগাওয়াটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, পাবনার রূপপুরে। এর জন্য আনুমানিক ব্যয় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার ধরা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে স্থাপিত রূপপুরের পারমাণকি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি স্থাপনে সরকার সফল হতে পারলে, পরবর্তীতে সরকার যে আরো অধিক পরিমাণে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অর্থাৎ বাংলাদেশের পরমাণু বিদ্যুতের সম্ভাবনা অতি আসন্ন।
সম্পর্কিত প্রশ্ন সমূহ

