- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাচীন বাংলার জনপদ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
শালবন বিহার
গৌড়রাজ শশাংকের রাজধানী ছিল কোনটি?
গৌড়রাজ শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। ষষ্ঠ শতকে পূর্ব বাংলার উত্তর অংশে গৌড় রাজ্য বলে একটি স্বাধীন রাজ্যের কথা জানা যায়। সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো। এ সময় গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
জনপদ বলতে কী বোঝায়?
প্রাচীনকালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে বিভক্ত হওয়া বাংলার অঞ্চলগুলোর জনসমষ্টিকে জনপদ বলে।
তুমি কি মনে কর উক্ত জনপদটিই প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
না, উক্ত জনপদ অর্থাৎ সমতট জনপদটি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ নয় বলে আমি মনে করি। পুন্ড্র প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ ছিল।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। অনেকেই মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। এ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ময়নামতি ছিল তৎকালীন সময়ে বৌদ্ধ সংস্কৃতির অন্যতম চর্চাকেন্দ্র। এর নিদর্শনস্বরূপ রয়েছে অনেক বৌদ্ধ বিহার; যেমন- আনন্দ বিহার বা শালবন বিহার, ভোজ বিহার ইত্যাদি। এ সময়ে শালবন বিহার এশিয়ার জ্ঞানচর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। তবে এটি প্রাচীন বাংলার সমৃদ্ধ জনপদ ছিল না। পুন্ড ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর অন্যতম হলো পুন্ড। পুন্ড্র নামে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। এ জনপদ বর্তমান বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে বিস্তৃত ছিল। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে অবস্থিত মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পন্ডিতেরা ধারণা করে থাকে। পুণ্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় কয়েক শতাব্দীকাল পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজবংশের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুড়ুই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এয়ানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পৃশ্চিম তীরে অবস্থিত পুন্ড্রনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘটিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসায় বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর বিবরণীও এ অঞ্চলের সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
তাই বলা যায়, সমতট নয়, পুন্ড্র ছিল বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিদর্শনটি প্রাচীন কোন জনপদে অবস্থিত? ব্যাখ্যা কর।
এ উদ্দীপকে উল্লিখিত নিদর্শনটি অর্থাৎ শালবন বিহার প্রাচীন 'সমতট' জনপদে অবস্থিত।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। এ অঞ্চলটি ছিল আর্দ্র নিম্নভূমি। কেউ কেউ মনে করেন সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। আবার কেউ মনে করেন কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে সমতট গঠিত হয়েছিল। এ অঞ্চলের নিদর্শনগুলোর মধ্যে শালবন বিহার ও ময়নামতি উল্লেখযোগ্য। সাত শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত বর্তমান ত্রিপুরা জেলা ছিল সমতটের অন্যতম অংশ। একসময় এ জনপদের পশ্চিম সীমা চব্বিশ পরগনার খাড়ি পরগনা পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্র উপকূলবর্তী অঞ্চলকেই বলা হতো সমতট। কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে বড় কামতা নামক স্থানটি সাত শতকে সমতটের রাজধানী ছিল।
সুতরাং বলা যায়, কুমিল্লা যেহেতু প্রাচীনকালে সমতট নামে পরিচিত ছিল তাই শালবন বিহার ও ময়নামতি সমতট জনপদে অবস্থিত।

