- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাস (খ্রিষ্টপূর্বাব্দ ৩২৬-১২০৪ খ্রিষ্টাব্দ)
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
অজয় তার পরিবারের পুরাতন নিবাস ত্যাগ করে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। কালক্রমে তিনি নবীনগরের শাসনক্ষমতার অধিকারী হন। এলাকার উন্নয়নের জন্য তিনি বহুবিধ কার্য সম্পাদন করেন। এছাড়া তার পরবর্তী বংশধরেরাও শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে বিশেষ অবদান রাখেন। তার এলাকায় বসবাসরত বিভিন্ন ধর্মের লোকজন বৈষম্যের শিকার হতেন।
বখতিয়ার খলজি কোন শতকে নদীয়া আক্রমণ করেন?
বখতিয়ার খলজি তেরো শতকে নদীয়া আক্রমণ করেন।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
সেন রাজত্বকালে উচ্চবর্ণের হিন্দুর প্রভাব ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় কেন?
কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তনের কারণে সেন রাজবংশের শাসনামলে সমাজে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। সেন রাজা বল্লাল সেন ক্ষমতা গ্রহণ করে কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করে। এতে সমাজে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। তাছাড়া ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতিপত্তি বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য জাতের হিন্দুরা সময়ে মর্যাদা হারায়।
নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকান্ডে কোন সেন শাসকের কর্মকান্ডের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডে বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেনের কর্মকান্ডের প্রতিফলন লক্ষ করা যায়।
নবীনগরের শাসক অজয় যেমনি তার পরিবারের সাথে পুরাতন নিবাস ত্যাগ করে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন এবং তিনি নবীনগরের শাসন ক্ষমতার অধিকারী হন। তেমনি সামন্ত সেনও ছিলেন বহিরাগত। তাদের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্ক্রন ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্নাটে। তারা পেশা পরিবর্তন করে ব্রাহ্মণ থেকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' হন। সামন্ত সেন কর্নাটে বীরত্ব প্রদর্শন করে শেষ বয়সে প্রথমে বসতি স্থাপন করেন রাঢ় অঞ্চলে গঙ্গা নদীর তীরে। ধারণা ..করা হয় পাল রাজা রামপালের অধীনে তিনি একজন সামন্ত রাজা ছিলেন। তিনি এলাকার উন্নয়নের জন্য নানাবিধ কার্য সম্পাদন করেন। ও তার দৌহিত্র বিজয় সেন হিন্দু ছিলেন। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না। ফলে বৌদ্ধধর্ম তেমন বিস্তার লাভ করেনি। কিন্তু শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সাহিত্যে এসময়ে যথেষ্ট উন্নয়ন ঘটে। বিজয় - সেনের পর সিংহাসনে বসেন তার পুত্র বল্লাল সেন। বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপন্ডিত ছিলেন। তিনি শিক্ষা ও সাহিত্যের ক্ষেত্রে যথেষ্ট অবদান রাখতে সক্ষম হন। বল্লাল সেন তখন হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ফলে তার শাসনামলে ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতিপত্তি বৃদ্ধি পায় - এবং বৌদ্ধধর্ম দুর্বল হয়ে পড়ে।
উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডে বাংলার সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা - সামন্ত সেনের কর্মকান্ডের সাদৃশ্য লক্ষ করা যায়।
তুমি কি মনে কর উক্ত শাসকের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দেখাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, সামন্ত সেনের বংশধরেরা অর্থাৎ তার পরবর্তী সেন শাসকরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন।
১১৬০ খ্রি. বিজয় সেনের পুত্র বল্লাল সেন সিংহাসন আরোহণ করেন। তিনি অত্যন্ত সুপন্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিন্ধ্যানের প্রতি তার অনেক অনুরাগ ছিল এমনকি তার একটি বিরাট গ্রন্থাগার ছিল। কবি বা লেখক হিসেবে সংস্কৃত সাহিত্যে তার অবদান অপরিসীম।
তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তার পূর্বে বাংলায় কোনো রাজা এরূপ লেখনী প্রতিভার পরিচয় দিতে পারেননি। বল্লাল সেনের মৃত্যুর পরে তার পুত্র লক্ষণ সেন ১১৭৮ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে বসেন। তিনিও পিতার মতো শিক্ষানুরাগী ছিলেন। তিনি তার পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' সমাপ্ত করেন। লক্ষণ সেনের রাজসভায় বহু পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটেছিল। যেমন- ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গৌবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন। মুসলিম সাহিত্যিক মিনহাজ তার দানশীলতা ও ঔদার্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।
উপরিউক্ত আলোচনা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, সেন বংশের শাসনামলে সেন রাজারা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।

