- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- প্রাচীন বাংলার সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাস
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
টিনা তার বান্ধবীর বড় বোন নীলার বিয়েতে গ্রামের বাড়িতে। বেড়াতে এসেছে। নীলার পিতা গ্রামের সম্পদশালী ব্যবসায়ী। তিনি বিদেশে সুতিবস্ত্র, সিল্ক, ওষুধ, মিহি চাল রপ্তানি করেন। গ্রামে অনেক কুটির শিল্প গড়ে উঠেছে। দরকারি অনেক জিনিস গ্রামেই তৈরি হয়। এমন একটি গ্রামে বিবাহ অনুষ্ঠানে এসে টিনা মুগ্ধ। বিয়ের দিন টিনা খুব সুন্দর করে সুতির শাড়ি, পায়ে আলতা, কপালে কুমকুম ও মাথায় ওড়না পরে সুন্দর করে চুলের খোপা বেঁধেছে। বিয়ে বাড়িতে ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, দধি ও ক্ষীর পরিবেশন করা হয়েছে।
'নীলাদের গ্রামের আর্থিক কাঠামো তৎকালীন বাংলার প্রতিচ্ছবি' তুমি কি উক্তিটির সঙ্গে একমত? যুক্তি দাও।
নীলাদের গ্রামের আর্থিক কাঠামোগত দিকটির সাথে তৎকালীন অর্থাৎ প্রাচীন বাংলার আর্য সমাজের আর্থিক কাঠামোর সাথে সংগতি রয়েছে। প্রাচীন বাংলায় অনেক রকমের কুটির শিল্প গড়ে ওঠে যার মিল রয়েছে নীলাদের গ্রামের কুটির শিল্পের সাথে।
উদ্দীপকে নীলাদের গ্রামে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল ব্যবহারের বর্ণনা করা হয়েছে। যা প্রাচীন বাংলায় ব্যাপক প্রচলিত ছিল। ব্যবসায়বাণিজ্য হয়েছে। কৃষি প্রাচীন বাংলার জীবিকা নির্বাহের একটি অন্যতম মাধ্যম ছিল, তেমনি উদীপকে বর্ণিত নীলার গ্রামেও যথেষ্ট কৃষি জমির কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের হাট-বাজার, বন্দর ও যানবাহন চলাচলের প্রাচীন বৈশ্যদের কাজ ছিল যা নীলার বাবার পেশা দ্বারা নির্ণয় করা পথের কথা বলা হয়েছে প্রাচীন বাংলাও ঠিক একই অবস্থায় লক্ষণীয়। উদ্দীপকে নীলার বিয়েতে যে সমস্ত খাবার পরিবেশন করানো হয়েছে যার সাথে প্রাচীন বাংলার খাবারের মিল রয়েছে। এমনকি উদ্দীপকে বর্ণিত পোশাকের সাথে প্রাচীন বাংলার পোশাক-পরিচ্ছদের খুব ঘনিষ্ঠ মিল লক্ষণীয়। অতএব অবশ্যই বলা যায় যে, নীলাদের গ্রামের আর্থিক কাঠামো তৎকালীন বাংলার প্রতিচ্ছবি।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
আর্যরা সমাজকে কয়টি বর্ণে বিভক্ত করেছিল?
আর্যরা সমাজকে ৪টি বর্ণে বিভক্ত করেছিল।
আর্য সমাজে নারীদের অবস্থান কেমন ছিল?
প্রাচীন বাংলায় নারীদের অবস্থান বলতে সেসময় বাঙালি মেয়েদের গুণাবলির সুখ্যাতি ছিল। মেয়েরা লেখাপড়া শিখত। সে যুগে অবরোধ বা পর্দাপ্রথা ছিল না। তবে একটি বিবাহ সমাজের নিয়ম থাকলেও পুরুষেরা বহু স্ত্রী রাখতে পারত। এছাড়া বিধবাকে নিরামিষ আহার করে সব ধরনের বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতো এবং স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো। এছাড়া ধনসম্পত্তিতে নারীদের কোনো আইনগত অধিকার ছিল না। যা প্রাচীন বাংলার সমাজে নারীদের অবহেলিত অবস্থানেরই ইঙ্গিত প্রদান করে।
উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের সাথে বাংলার কোন আমলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্য ও পোশাক-পরিচ্ছদের সাথে প্রাচীন বাংলার আর্য সমাজের খাদ্য ও পোশাকের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। উদ্দীপকে উল্লিখিত টিনার শাড়ি ও ওড়না পরিধানের সাথে আর্য সমাজের মেয়েদের পোশাক-পরিচ্ছদের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। এছাড়া এখানে বর্ণিত খাবার ভাত, মাছ, মাংস, সবজি, দধি, ক্ষীর ও খাবারের শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার প্রচলন প্রাচীন বাংলার আর্য সমাজে প্রচলিত ছিল। আর্য সমাজে বাঙালি ব্রাহ্মণেরা আমিষ খেতেন। তখন সকল প্রকারের মাছ পাওয়া যেত। পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল। তরকারির মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিঙে, কাঁকরোল, কচু উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, তাল, পেঁপে, নারকেল, ইক্ষু পাওয়া যেত। তবে ডালের কথা কোথাও বলা নেই। আর্য সমাজের পুরুষেরা মালকোচা দিয়ে ধুতি পরত ও গায়ে চাদর। পুরুষ-নারী উভয়ের মধ্যেই অলংকার ব্যবহারের প্রচলন ছিল। অতএব-বলা যায়, উদ্দীপকে বর্ণিত খাবার ও পোশাকের সাথে প্রাচীন বাংলার আর্য সমাজের মিল রয়েছে।

