- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ভাষা আন্দোলন ও পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
পলাশ তার বন্ধু ডেভিডের জন্মদিনে মোবাইল ফোনের মেসেজে ইংরেজি অক্ষরে 'SHUVO JONMODIN' কথাটি লিখে পাঠায়। পাশ্চাত্য ভাবধারায় বেড়ে ওঠা ডেভিড তার বন্ধুর কাজটিকে সমর্থন করেনি। সে ইংরেজিতে জন্মদিনের প্রচলিত মেসেজে 'HAPPY BIRTHDAY' আশা করেছিল।
তুমি কি মনে কর ডেভিডের চিন্তাচেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়? যুক্তি দাও।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উদ্দীপকে আলোচিত ঘটনার মধ্যে ডেভিডের চিন্তাচেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়।
উদ্দীপকে পলাশ তার কন্ধু ডেভিডের জন্মদিনে SHUVO JONMODIN লিখলে ডেভিড বিষয়টি সমর্থন করেনি। এখানে পলাশ বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে গিয়ে SHUVO JONMODIN লিখেছে। পক্ষান্তরে, ডেভিড পলাশের কাজটি সমর্থন না করে বাংলা ভাষার প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ করেছে। বর্তমান সময়ে আমাদের দেশের অনেক ছেলেমেয়েরা ডেভিডের মতো পাশ্চাত্য শিক্ষার প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। তারা বাঙালি সংস্কৃতি ও ভাষাকে ভুলে গিয়ে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির প্রতি দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাঙালির ঐতিহ্যকে হারিয়ে পাশ্চাত্য ভাবধারায় ডুবে রয়েছে। তাদের চিন্তাচেতনার মধ্যে বাঙালি সংস্কৃতিকে সেকেলের মনে হচ্ছে। এমনকি তারা তাদের বাঙালি ভাবধারাপুষ্ট বন্ধুদেরকে তুচ্ছ করে এড়িয়ে চলে। ফলে তারা বাংলা ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে ভুলে গিয়ে পাশ্চাত্য ভাবধারায় বিকশিত হচ্ছে। বাঙালি জাতি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে চেতনার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছিল তা আজ পাশ্চাত্য ও বিদেশি ভাবধারার তাপদাহে ক্রমশ নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে। আর উদ্দীপকের - ডেভিড উল্লিখিত পাশ্চাত্য সংস্কৃতির একজন পূজারি। তাই বলা যায়, - ডেভিডের চিন্তাচেতনা বাংলা ভাষা বিকাশের অন্তরায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
১৯৪৮ সালের ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন?
১৯৪৮ সালের ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৪৯ সালে পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি কেন গঠিত হয়?
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ এর প্রতিবাদ করেন। আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টা হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
পলাশের মানসিকতায় কোন আন্দোলনের প্রভাব লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপকে আলোচিত পলাশের মানসিকতায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
উদ্দীপকে উল্লিখিত পলাশ তার বন্ধু ডেভিডের জন্মদিনে মোবাইল ফোনে মেসেজে ইংরেজিতে SHUVO JONMODIN কথাটি লিখে পাঠায়। এখানে পলাশের বাংলা ভাষার প্রতি শ্রদ্ধার গভীরতা প্রকাশ পেয়েছে। কেননা এ ভাষা রক্ষার জন্য পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমননীতির ফলে প্রাণ দিতে হয় রফিক, জব্বার, বরকত, শফিউরসহ নাম না জানা অনেক ভাষাশহিদদের। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার জন্য বাঙালিদের ওপর নানা ধরনের দমননীতি প্রয়োগ করে। এমনকি ১৪৪ ধারা জারিও করে। কিন্তু বাংলার দামাল্ল ছেলেরা দমে থাকার নয়। তারা ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে রাজপথে নেমে মিছিল করে। মিছিলে পুলিশ গুলি করলে রাজপথ ভাষাশহিদের রক্তে রঞ্জিত হয়। বিশ্বের ইতিহাসে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির ভাষা আন্দোলন একটি অসাধারণ ঘটনা। আমাদের শহিদ দিবস আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষার জন্য এত লোক শহিদ হওয়া ও এত বেগবান আন্দোলন বিশ্বে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। তাই ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর প্যারিসে ইউনেস্কোর অধিবেশনে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।
সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনা শেষে বলা যায় যে, পলাশ ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি, ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে HAPPY BIRTHDAY এর পরিবর্তে SHUVO JONMODIN লিখেছে।

