- হোম
- একাডেমি
- সাধারণ
- নবম-দশম শ্রেণি
- ইংরেজ শাসন আমলে বাংলায় প্রতিরোধ, নবজাগরণ ও সংস্কার আন্দোলন
পাঠ্যবিষয় ও অধ্যায়ভিত্তিক একাডেমিক প্রস্তুতির জন্য আমাদের উন্মুক্ত শিক্ষায় অংশগ্রহণ করুন।
উদ্দীপক ও প্রশ্নোত্তর
রূপপুর অঞ্চলে দরিদ্র কৃষকদের জীবনধারা সচ্ছল ছিল না। বিভিন্ন সিগারেট কোম্পানির লোকজন তাদের এই অসচ্ছল জীবনধারার সুযোগ নিয়ে তাদেরকে চড়া সুদে অর্থ প্রদান করে অসম চুক্তির মাধ্যমে তামাক চাষে আগ্রহী করে তোলে। কৃষকদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তামাক চাষিরা কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে বের হতে না পেরে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। উপরন্তু টেলিভিশনে তামাকের স্বাস্থ্য ঝুঁকির কথা জেনে ঐ অঞ্চলের তামাক চাষিরা করিম ও জলিলের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয় এবং কোম্পানির এ ধরনের কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানায়।
উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো তোমার পাঠ্যপুস্তকে পঠিত কোন 'ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়? ব্যাখ্যা কর।
উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো আমার পাঠ্যপুস্তকে পঠিত নীল বিদ্রোহ ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, কৃষকদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তামাক চাষিরা ইংরেজ কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে বের হতে না পেরে করিম ও জলিলের নেতৃত্বে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। উদ্দীপকের এ বিষয়ের সাথে বাংলার নীল বিদ্রোহের মিল রয়েছে। নীল ব্যবসায় ছিল খুবই লাভজনক। ইংরেজদের ব্যবসায়ী বুদ্ধি প্রকট থাকার কারণে বাংলা নীল সরবরাহের প্রধান কেন্দ্র হয়ে ওঠে। কৃষকদের নীলচাষের জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণে বাধ্য করা হতো। নীলচাষে কৃষকরা রাজি না হলে তাদের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হতো, এমনকি তাদের হত্যা পর্যন্ত করা হতো। আইন ছিল কৃষকদের নাগালের বাইরে। শেষপর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া নীলচাষিরা ১৮৫৯ সালে প্রচন্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়ে। নবীন মাধব, বেনী মাধব, বৈদ্যনাথ, বিশ্বনাথ, মেঘনা সর্দার, বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস, দিগম্বর বিশ্বাস প্রমুখ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে নীলচাষিরা গ্রামে গ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ওঠে। কৃষকেরা নীলচাষ না করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। এমনকি তারা
ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেটের উপদেশও অগ্রাহ্য করে। বিভিন্ন পত্রিকায় নীলকরদের অত্যাচারের কাহিনি ছাপা হতে থাকে। দীনবন্ধু মিত্রের লেখা 'নীলদর্পণ' নাটকের কাহিনি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছাধীন বলে ঘোষণা দেয়। যার পরিপ্রেক্ষিতে একসময়ে এদেশ থেকে নীলচাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে যায়।
মন্তব্য ও আলোচনা (০)
সম্পর্কিত প্রশ্ন ও উত্তর সমূহ
ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ বলা হয় কাকে?
ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ বলা হয় রাজা রামমোহন রায়কে।
ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার ও অনৈতিক আচরণমুক্ত করাই ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য। ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ উপলব্ধি করেন যে, মুসলমানেরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। তাই তিনি মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা পৌছে দেওয়ার জন্য ফরায়েজি আন্দোলন করেছিলেন।
উক্ত ঘটনাটি কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় কতটুকু যুক্তিযুক্ত ছিল বলে তুমি মনে কর? মতামত দাও।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি অর্থাৎ নীল বিদ্রোহ কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ছিল বলে আমি মনে করি।
ব্রিটেনে নীলের খুব চাহিদা ছিল। তাছাড়া নীল ব্যবসায় লাভজনক ভেবে ইংরেজ বণিকেরা বাংলার কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করে। তারা কৃষকদের মাঠে অন্য ফসল ফলাতে দিত না। কৃষকদের নীলচাষের | জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণে বাধ্য করা হতো। আর একবার এ দাদন গ্রহণ করলে সুদ-আসলে যতই কৃষকরা ঋণ পরিশোধ করুক না কেন বংশ পরম্পরায় কোনোদিনই ঋণ শোধ হতো না। নীলচাষে বাধ্য না হলে - তাদের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হতো; এমনকি হত্যা করতেও তারা দ্বিধা করত না। বাংলার মানুষ বুঝতে পারে যে, এদেশ থেকে নীলকরদের বিতাড়িত করতে না পারলে এদেশের কৃষকদের দুর্ভোগ - কোনোদিন লাঘব হবে না এবং অর্থনৈতিক অবস্থা ক্রমশ ভেঙে পড়বে। ফলে এদেশের কৃষকরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন করে নীলকরদের বিতাড়িত' করে। নীল চাষ বন্ধ হওয়ায় কৃষকেরা তাদের জমিতে নানা জাতের ফসল উৎপাদন করে। সোনার বাংলার মাঠ আবার ফসলে ভরে ওঠে। কৃষকেরা ইংরেজ বণিকদের অত্যাচার নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পায়। নীল বিদ্রোহের ফলে এদেশের আর্থসামাজিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। সর্বোপরি নীল বিদ্রোহের মধ্য দিয়ে এদেশের মানুষ তাদের অধিকার আদায়ের শিক্ষালাভ করে।

